ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৪ মে ২০২৪, ১৫ জিলকদ ১৪৪৫

ইসলাম

‘যে সরকার এ সুযোগ সৃষ্টি করবে, জাতি তাদের স্মরণ রাখবে’

ইসলাম ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮০৩ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৬
‘যে সরকার এ সুযোগ সৃষ্টি করবে, জাতি তাদের স্মরণ রাখবে’

দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজে বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ‘হজ পালন সহজ করতে স্থল ও জলপথে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হোক’ শিরোনামে মতামত প্রকাশ করা হয়। ওই লেখায় স্থল ও সমুদ্রপথে হজে যাওয়ার  বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।



একই লেখায় আলোচ্য বিষয়টি নিয়ে পাঠকদের কাছ থেকে মতামতও চাওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা পাঠকদের কাছ থেকে প্রচুর সাড়া পেয়েছি। পাঠকদের বাছাই করা কিছু মতামত বাংলানিউজ পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো।

আরিফুল ইসলাম সোহাগ
[email protected]
এ ব্যাপারে সরকারের নির্ধারিত বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখা উচিত। তাদের বক্তব্য কি?

মুহাম্মদ নুর হোসাইন
[email protected]
এটি খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আর্কষণের অনুরোধ করছি। আশা করা যায়, এই পদ্ধতি চালু হলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের হজ পালনের ইচ্ছা, আশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে।

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান
[email protected]
I agreed with your opinion. So, any co-operation from my end will be added for your taking action. Thanks a lot.

মুহাম্মদ মনীরুল আলম
[email protected]
I think Hajji transport mode should open for all the way(Air, Road, River). Further all airlines should open to select as per Hajji requirments not by the Govt. We can go as per our requirments and also come to as per our requirments. Thanks for asking opinion.

মাহফূযুল হক
[email protected]
জল ও স্থলপথে হজের সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব পেশ করে বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম দেশের লাখ লাখ ধর্মানুরাগী নবীপ্রেমিক মানুষের প্রাণের কথা উত্থাপন করেছে।

আধুনিক পৃথিবীতে আন্তর্জাতিক স্থলপথের গুরুত্ব ও পরিধি দিন দিন বাড়ছে। বাণিজ্য ও বিনোদনের জন্য যদি আন্তর্জাতিক রুট ও করিডোর হতে পারে তবে ধর্মের জন্য কেন হতে পারবে না?

আমরা বিশ্বমানের জলযান তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করছি। হজে জলপথ ব্যবহার করলে বিমান ভাড়ার মতো পরনির্ভরতা হ্রাস পেত।   হজের ব্যয় কমাতে পারলে ব্যক্তির পাশাপাশি দেশেরও লাভ হতো।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, মনের আবেগ, ইচ্ছা, আকুতি ও আশা পূরণের জন্য মানুষ বিচিত্রসব আয়োজন করে। হজের খরচ কমাতে পারলে আরো অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ হজ করার সুযোগ পেয়ে তাদের আজীবনের লালিত ইচ্ছা পূরণ করতে পারত।

হজের জন্য স্থল ও জলপথের ব্যবস্থা করলে দেশ, সরকার কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। উপকৃত হবে দেশের ধর্মভীরু মানুষ। যে সরকার এ সুযোগ সৃষ্টিতে দূরদর্শী হবে জাতি তাদের স্মরণ রাখবে।

সাঈদ কাদির, খতিব, মসজিদুল আকসা, আমবাগ, কোনাবাড়ি, গাজীপুর
[email protected]
বাংলানিউজের ইসলাম বিভাগের প্রধান সহজে হজে গমনের ব্যবস্থাকল্পে যে প্রস্তাবনা পেশ করেছেন, তা নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী ও সময়োচিত প্রস্তাব। আমি প্রস্তাবের সঙ্গে শতভাগ সহমত ব্যক্ত করছি। সেই সঙ্গে আরও কিছু বিষয় উল্লেখ করতে চাচ্ছি।

আমরা মসজিদের দায়িত্বশীল। সামাজিক দায়-দায়িত্ব পালন করতে হয়। সমাজের মানুষ আমাদের কাছে সুখ-দুঃখের কথা বলে। হজ মৌসুমের আগে অনেকেই আক্ষেপ ও অনুযোগ নিয়ে উপস্থিত হন। হজে যাতায়াতের খরচ ও একমুখি যাতায়াত ব্যবস্থার সমস্যার কথা জানান। বাংলাদেশ থেকে হজে গমনের জন্য একটা মাত্র রুট। বিমানরুট। যার খরচ সাধারণ মানুষের পক্ষে বহন করা অসম্ভব। অনেকেই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুনজরের অভাবে হজ করতে না পারার ব্যথা প্রকাশ করেন। অসংখ্য মানুষের অভিযোগ হল, দু’লাখ টাকা হলেও আমরা হজে যেতে পারতাম। অথচ হালে বাংলাদেশিদের হজ করতে খরচ হয় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। যে কারণে অনেকেই এই ধর্মীয় কর্তব্যটি পালন করতে পারছেন না।

সরকার যদি আন্তরিক হয়। কর্তৃপক্ষ যদি একটু সহানুভূতির দৃষ্টি ফেলে। বাধ্যতামূলকভাবে শুধু বিমান ব্যবস্থা না রেখে স্থলপথ ও নৌপথেও যদি হজে গমনের রাস্তা খুলে দেওয়া হয়- তাহলে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, অপরদিকে আরও বেশি মানুষ হজব্রত পালনের সুযোগ পাবে।

আসলে হজব্রত পালনের ক্ষেত্রে সামর্থ্যবান হওয়ার অর্থ এই নয় যে, বিমানযোগেই যাতায়াতের ওপর সামর্থ্যবান হতে হবে। বরং শারীরিক সক্ষমতা থাকলে স্থলপথের যাতায়াত খরচ ও মক্কায় অবস্থানের থাকা-খাওয়ার খরচ বহনের সামর্থ্য থাকলেও তার ওপর হজ ফরজ। এক্ষেত্রে হজে যাতায়াতের জন্য রেল বা কোচযোগের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যাতায়াতের রুট উন্মুক্ত না থাকায় অনেকেই অসামর্থ্যের কাতারে পড়ে যাচ্ছে। শুধু বিমান রুট হওয়ার কারণে অসংখ্য মানুষ ফরজ দায়িত্ব পালন  করতে পারছে না।

আলোচ্য বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ধর্ম মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সজাগ দৃষ্টি একান্তভাবে কামনা করছি।

আমি আকেটি প্রস্তাব দিতে চাই, সেটা হলো- সরকার প্রতিবছর ভাষা শহীদ, বীরশ্রেষ্ঠ, বীরবিক্রম ও বীরপ্রতীকদের নামে বদলি হজ করানোর ব্যবস্থা করতে পারেন। এতে দেশের জন্য জীবনোৎসর্গকারী বীরগণের আত্মা শান্তি পাবে- ইনশাআল্লাহ।

মীর জাহিদ
[email protected]
বাংলাদেশ বিমান সারা বছর বসে থাকে কবে পবিত্র হজ আসবে, আর ব্যবসা করবে। এটা কেমন কথা। ভারত নন মুসলিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও হজের সময় ভর্তুকি দেয়। আমাদের আশে-পাশের অনেক দেশে হজ পালন করতে অনেক কম টাকা খরচ হয়। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ ভর্তুকি দিতে না পারুক অন্তত সমুদ্র পথে হজে যাওয়ার সুযোগ করে দিলে আমাদের দেশের  অনেক অনেক লোক মৃত্যুর আগে পবিত্র হজ পালন করতে পারবে।
 আমি বাংলানিউজকে অনুরোধ করবো, সমুদ্র পথে হজে যাওয়ার ওপর নিয়মিত প্রতিবেদন করলে সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে পারে।

আর আমাদের আশে-পাশের দেশে হজ পালন করতে কতো টাকা খরচ হয়, তার একটা তুলনামূলক প্রতিবেদন করলে ভালো হয়।

মোঃ শফিউর রহমান কাশেম
আমি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করব, যাতে সমুদ্র পথে এবং স্থলপথে হজে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এতে দেশের সাধারণ মানুষের হজে যাওয়া সহজ হবে। এ দেশের শতকরা ৯০% ধর্মভীরু মুসলিম, সকলে প্রাণের আশা ও মনের স্বপ্ন- জীবনে একবার হলেও আল্লাহর ঘর ও প্রাণের নবী হুজুর পাক (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম পৌঁছানো। সরকার এই মহতি উদ্যোগ গ্রহণ করলে সকলেই উপকৃত হবে। সরকারের কাছে আমার প্রার্থনা, সরকার যাতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করে।

** হজ পালন সহজ করতে স্থল ও জলপথে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হোক



বাংলাদেশ সময়: ১৮০৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৬
এমএ/জেডএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।