শনিবার (২ ডিসেম্বর) মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ইজতেমার আখেরি মোনাজাতপূর্ব বয়ানে মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান এসব কথা বলেন।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া মাদরাসার মাঠে অনুষ্ঠিত ২৩তম কেন্দ্রীয় ইজতেমা সকালে শুরু হয়ে বাদ এশা মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিশেষ বয়ানে আল্লামা মাহমুদুল হাসান বলেন, আমলের গ্রহণযোগ্যতা সুন্নতের ও ইখলাসের দ্বারা নির্ধারণ হয়। আর ইখলাস সৃষ্টি হয় সুন্নতের মাধ্যমে। আমাদের আমলি জিন্দেগিকে উন্নত করতে হলে সুন্নতের অনুমরণের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহারে আমাদের যুবসমাজ ধ্বংস হচ্ছে। আমাদের এখনই সাবধান হতে হবে এবং গোনাহ থেকে বাঁচতে হবে।
ইজতেমায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি বলেন, দাওয়াতুল হকের ইজতেমায় অংশ নিয়ে আমার জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এত আলেমকে একসঙ্গে পাওয়া যায় না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শান্তি ও মানবতার দূত হজরত মুহাম্মদ সা.। মহানবীর সুন্নতকে মানলে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। প্রকৃত নবীপ্রেমীরা কখনও জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস করতে পারে না। কওমি মাদরাসায় মহানবীর সঠিক আদর্শ শিক্ষা দেওয়া হয়। কওমি মাদরাসা থেকে কখনও জঙ্গি তৈরি হয় না। বরং বিশেষ একটি মহল যখনই দেশে জঙ্গি উত্থানের অপচেষ্টা করেছে আলেমদের সঙ্গে নিয়ে আমরা তা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছি।
দারুল উলুম দেওবন্দের শায়খে সানি আল্লামা কমরুদ্দিন আহমদ গৌরখপুরি বলেন, উলামায়ে কেরামের মাধ্যমে দ্বীন টিকে থাকবে। আল্লাহতায়ালা নিজেই দ্বীনের হেফাজতকারী। কিন্তু দ্বীনের খাদেম হলো- উলামায়ে কেরাম।
দারুল উলুম দেওবন্দের মুহাদ্দিস মুফতি রাশেদ আজমি বলেন, সুন্নতে নববীর ভালোবাসা ব্যতীত আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায় না।
শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ইজতেমা পরিচালনা করেন মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ আল ফরিদী।
ইজতেমায় বক্তব্য রাখেন, দারুল উলুম দেওবন্দের আল্লামা মুফতি কমরুদ্দিন, সৌদি আরবের শায়খ নাসের মক্কি, মালিবাগ মাদরাসার প্রিন্সিপাল আল্লামা আশরাফ আলী, জিরি মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা শাহ মোহাম্মদ তৈয়ব, পীরে কামেল প্রফেসর হামিদুর রহমান, সৌদি আরবের মাওলানা শেখ হাসান মুসা, দেওবন্দের উস্তাদ মুফতি রাশেদ আজমি, পটিয়া মাদরাসার প্রধান মুফতি শামসুদ্দিন জিয়া, মুফতি ওবায়দুল্লাহ, মুফতি মনসুরুল হক, বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মাওলানা আরশাদ রাহমানি, শায়খ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ, ঢাকা বেফাকের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মুফতি মাহফুজুল হক, ঢালকানগরের মুহতামিম মুফতি জাফর আহমদ, ঢালকানগরের পীর মাওলানা আবদুল মতিন, মুফতি সুহাইল, মতিঝিল ওয়াপদা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা রফিক আহমদ প্রমুখ।
ইজতেমায় সুন্নতের আমলি মশক, দেশ-বিদেশের আলেমদের গুরুত্বপূর্ণ বয়ান, জিকির এবং দোয়া-মোনাজাতসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।
মজলিসে দাওয়াতুল হক মহানবী সা.-এর জীবন, আদর্শ ও সুন্নত চর্চার একটি বিশেষ কেন্দ্র। দেশব্যাপী সাধারণ মানুষের আজান, ইকামত, নামাজ, অজু ও জানাজাসহ সুন্নতের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
ইজতেমা উপলক্ষ্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এমপি বিশেষ বাণী দিয়েছেন। ইজতেমায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আলেম-উলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ইসলাম বিভাগে লেখা পাঠাতে মেইল করুন: [email protected]
বাংলাদেশ সময়: ১৯৪৭ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৩, ২০১৭
এমএইউ/