ঢাকা, শনিবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৫ মে ২০২৪, ১৬ জিলকদ ১৪৪৫

আইন ও আদালত

নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইন

মানবাধিকার ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪৫৪ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৪
নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইন

১৯৮৪ সালের ১০ ডিসেম্বর নিউইয়র্কে নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক ও লাঞ্ছনাকর ব্যবহারের বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে। ১৯৯৮ সালের ৫ অক্টোবর স্বাক্ষরিত দলিলের মাধ্যমে উক্ত সনদে বাংলাদেশও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।



আমাদের সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবেই নির্যাতন এবং নিষ্ঠুর, অমানবিক, লাঞ্ছনাকর ব্যবহার ও দণ্ড মৌলিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘ সনদের ২(১) ও ৪ অনুচ্ছেদেও নির্যাতন, নিষ্ঠুর, অমানবিক ও লাঞ্ছনাকর ব্যবহার ও দণ্ড অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশে ওই সনদগুলোতে বর্ণিত অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ। সে কারণেই বাংলাদেশ ২০১৩ সালে নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন প্রণয়ন করে।

আইনানুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে কেউ নির্যাতন করছে এমন কোনো তথ্য কেউ আদালতকে অবহিত করলে আদালত উক্ত ব্যক্তির নিরাপত্তা বিধান করবেন।

যদি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা প্রয়োজন হয়, তাহলে আদালত উক্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে পারবে। আবার কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া সত্ত্বে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি দায়রা জজ আদালতে অথবা পুলিশের কাছে নির্যাতনের অভিযোগ দাখিল করতে পারবে।

নির্যাতনের কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক একটি মামলা দায়ের ও অভিযোগকারীর বক্তব্য রেকর্ড করবেন এবং মামলার নম্বরসহ এই অভিযোগের ব্যাপারে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে তা অভিযোগকারীকে অবহিত করবেন। কোনো অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণকারী পুলিশ সুপার অথবা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অভিযোগ দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দায়রা জজ আদালতে একটি রিপোর্ট পেশ করবেন।

এ আইনের অধীনে কোনো অপরাধের তদন্ত প্রথম অভিযোগ লিপিবদ্ধ করার তারিখ থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। যদি সময় বাড়ানো প্রয়োজন হয় তবে আদালত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির শুনানী গ্রহণ করে ৩০ দিনের মধ্যে সময় বৃদ্ধির বিষয়টি নিষ্পত্তি করিবেন।

আইনের অধীন মূল এবং প্রত্যক্ষ অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হইবে না। তবে কিছু শত সাপেক্ষে জামিন দেয়া যেতে পারে।

অভিযোগকারী কোনো ব্যক্তি এই আইনে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বিধানের জন্য দায়রা জজ আদালতে আবেদন করতে পারবে।

আদালত নিরাপত্তা প্রার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দিতে পারবে।

আইনের অধীন কোনো অপরাধের বিচার কেবলমাত্র দায়রা জজ আদালতে অনুষ্ঠিত হবে। মামলা দায়েরের ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার নিষ্পন্ন করতে  হবে। কোনো যুক্তিসংগত কারণে এ সময়সীমার মধ্যে মামলার বিচার সমাপ্ত করা সম্ভব না হলে, আদালত পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বিচার সমাপ্ত করবে।

কোনো ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি অন্যূন পাঁচ ব্ছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এর অতিরিক্ত পঁচিশ হাজার টাকা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করিবেন।

কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তিকে যদি নির্যাতন করেন এবং উক্ত নির্যাতনের ফলে উক্ত ব্যক্তি যদি মৃত্যুবরণ করেন তাহলে নির্যাতনকারী এই আই অনুযায়ী অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবেন এবং সেজন্য তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা যেতে পারে। এছাড়া অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত দুই লক্ষ টাকা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করবেন।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।