ঢাকা, শনিবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৮ মে ২০২৪, ০৯ জিলকদ ১৪৪৫

আইন ও আদালত

নিবর্তনমূলক আটক ও সংবিধান

মানবাধিকার ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৪১ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৬, ২০১৪
নিবর্তনমূলক আটক ও সংবিধান

রাষ্ট্র ও সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যই আইন প্রণয়ন করা হয়। অপরাধীকে শাস্তি ও নিরপরাধকে মুক্তি ও ক্ষমিতপূরণের মাধ্যমেই সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হয়।



তাই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই আইনের উদ্দেশ্য।

সমাজে অনেকেই আছেন যারা শান্তি ও ন্যায়বিচারের জন্য হুমকি স্বরুপ। কিন্তু তারাও সমাজের অংশ। সবাইকে নিয়েই রাষ্ট্র ও সমাজ। কিন্তু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যই ‍অনেক ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে ভবিষ্যতে কোনো ক্ষতিকর কাজ করা থেকে নিবৃত্ত করার জন্য আটকাদেশ দেওয়া হয়। ‍জনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্যই এ বিধান। এতে করে রাষ্ট্র আগাম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষা পেতে পারে।

অতীতে যদি কেউ কোনো ক্ষতিকর কাজ করে অর্থাৎ ক্ষতিকর কাজ যদি ইতোমধ্যেই করা হয়ে থাকে এবং ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আশঙ্কা থাকে তবে সেক্ষেত্রে আটকাদেশ প্রদান করা হলে এটি আইনের দ্বারা সমর্থন করা যায় না।

বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩(১) মতে, সরকার যদি কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে নিশ্চিত হয় যে, কোনো ক্ষতিকর কাজ থেকে তাকে নিবৃত্ত করা প্রয়োজন সেক্ষেত্রে সরকার তাকে আটক রাখার নির্দেশ দিতে পারে।  

দৃষ্টান্ত হিসেবে বলা যায়, কোনো বন্দী যদি ইতোমধ্যেই ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয় অর্থাৎ বিষয়টি অতীত হয়েছে এবং একই বিষয়ে ভবিষ্যতে কোনো ক্ষতিকর কাজ করার সুযোগ নাই। সেক্ষেত্রে আটকাদেশ দেওয়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নাই।

এ ক্ষেত্রেই আর একথা বলার সুযোগ নাই যে, ভবিষ্যতে ক্ষতিকর কোনো কাজ করা থেকে বিরত রাখার জন্যই আটকাদেশ দেওয়া হয়েছিল।

শুধু জননিরাপত্তার জন্যই সরকার বন্দীকে আটক রাখিবার নির্দেশ দিতে পারেন। তাই যার মাধ্যমে আর কোনো ক্ষতিকর কাজ হওয়ার সম্ভাবনা নাই তাকে এ আইনের মাধ্যমে আটক রাখার কোনো কারণ নাই। তাই এ জাতীয় আটকাদেশ অবৈধ ক্ষমতা বর্হিভূত।

অপরাধ করা হয়ে গেলে বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিধানমতে আটকাদেশের যথেষ্ট কারণ থাকে না। বন্দীকে দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়া হয়েছে শুধু এই কারণে আটকাদেশ দেওয়া যাবে না যদি না তার আটকাদেশ বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিধানের আওতায় পড়ে।

বিশেষ ক্ষমতা আইনের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে ৩০ থেকে ৯০ দিন এমনকি ১২০ দিন পর্যন্ত বিনা বিচারে আটক রাখার বিধান আছে। এ আইনটির অপপ্রয়োগও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা। রাজনৈতিক ও ক্ষমতার জন্য আইনের অপপ্রয়োগ আমাদের দেশে নতুন নয়। বিশেষ ক্ষমতা আইনের এ বিধানটিও সেরকমই একটি বিধান। অনেক ক্ষেত্রে আইনের এ ধারাটি সংবিধান ও মানবাধিকারে সাথে সাংঘর্ষিক। কিন্তু তারপরও আজঅবধি আইনটি বহাল আছে।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।