ঢাকা, শুক্রবার, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ শাবান ১৪৪৫

আইন ও আদালত

গ্রিনলাইন থেকে আরও ১০ লাখ টাকা পেলেন রাসেল সরকার

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬১৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২১
গ্রিনলাইন থেকে আরও ১০ লাখ টাকা পেলেন রাসেল সরকার

ঢাকা: রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসচাপায় পা হারানো প্রাইভেটকারচালক রাসেল সরকারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লাখ টাকার মধ্যে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি ১০ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য আরও দুই মাস সময় নিয়েছে ওই পরিবহন কোম্পানিটি।

সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছেন রাসেল সরকারের আইনজীবী খন্দকার শামসুল হক রেজা।

গত বছরের ১ অক্টোবর এ বিষয়ে রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে তিন মাসের মধ্যে ২০ লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত।

ওইদিন আদালতে গ্রিনলাইন পরিবহনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক, রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার শামসুল হক রেজা ও জহির উদ্দিন লিমন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম সাইফুল আলম।

আইনজীবীদের তথ্য মতে, এর আগে সাড়ে ১৩ লাখ রাসেল সরকারকে দেওয়া হয়েছিলো। ১ অক্টোবর নতুন করে আরও ২০ লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো।  

খন্দকার শামসুল হক রেজা বলেন, তাদের আইনজীবী সোমবার চিঠি দিয়ে ১০ লাখ টাকার চেক দিয়েছে। বাকি ১০ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য দুই মাস সময়ের কথা বলেছেন।  

মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল গ্রিন লাইন পরিবহনের ধাক্কায় প্রাইভেটকারচালক রাসেলের বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক গাইবান্ধা থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি রিট আবেদন করেন। এই রিট আবেদনে হাইকোর্ট ওই বছরের ১৪ মে রুল জারি করেন। রুলে কেন রাসেলকে এককোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।

পরে এক আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট এক আদেশে রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দেন। প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা করে দিতে বলা হয়। এই নির্দেশের পর চিকিৎসাসহ এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা দিয়েছে গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষ।

পরে গ্রিনলাইনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর রাসেল সরকারকে টাকা (পরিশোধের অর্থ বাদ যাবে) দেওয়ার আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। তবে, পরিশোধের অর্থ বাদ দেওয়ার পর বাকি যা থাকবে তার ওপর হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ থাকবে। এরপর হাইকোর্টে রুল শুনানি শুরু হয়।  

গত বছরের ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায়ের জন্য ১৫ এপ্রিল দিন ঠিক করেছিলেন। এর মধ্যে মহামারি করোনা আসায় আদালতে সাধারণ ছুটি ছিলো। এছাড়া এ বেঞ্চ পুনর্গঠন করা হয়। পরে রায়ের জন্য এটি উক্ত বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে। এরপর আদালত ১ অক্টোবর রায়ের জন্য নির্ধারণ করেন। সে অনুসারে রায় হয়।  

বাংলাদেশ সময়: ১৬০৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২১
ইএস/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।