ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ বৈশাখ ১৪৩১, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১৩ শাওয়াল ১৪৪৫

মালয়েশিয়া

‘ভূতের পিছ পা বিএনপি জামায়াতের !’

বিশেষ সংবাদদাতা | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১১৬ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২, ২০১৪
‘ভূতের পিছ পা বিএনপি জামায়াতের !’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা/ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

কুয়ালালামপুর (হোটেল গ্র্যান্ড হায়াত) থেকে: শুনেছি ভূত নাকি পেছনে চলে। তেমনি বিএনপি জামায়াতও পেছনে চলতে চায়।

তারা যখন ক্ষমতায় আসে দেশকে পিছনের দিকে নিয়ে যায়।

মঙ্গলবার কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের সাফল্য তুলে ধরে বিএনপি-জামায়াতের  আমলে উৎপাদন কমে যাওয়ার উদাহরণ টেনে এই মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে তার সরকারের নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোকেও বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় ফিরে কিভাবে স্থবির করে তুলেছিলো সে কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশ এখন তাদের পশ্চাৎপদতা থেকে মুক্ত। আর সে কারণেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের আয়োজনে এই গণসংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের কষ্টের উপার্জনে দেশ আজ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, দেশে রেমিট্যান্স ২২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালি বীরের জাতি, কোনোদিনই বাঙালি হার মানেনি, কখনো মানবেও না। তিনি বলেন, আমরা অনেক ত্যাগ এবং রক্ত ক্ষয়ের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছি, জাতি হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি, এই মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে আমাদের কাজ করে যেতে হবে।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেলে চারটার কিছুক্ষণ আগে কুয়ালালামপুরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সফরের প্রথম দিনেই এই গণ সংবর্ধনার আয়োজন করেন এখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

এ সময় সহস্রাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতের বলরুমে সমবেত হন। মুহুর্মুহু করতালি আর স্লোগানের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান প্রবাসীরা। পাশাপাশি তার বক্তব্যের প্রতি নিজেদের সমর্থন জানান তারা।

বিএনপি জামায়াতের নির্বাচন বানচালে সহিংসতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরপরেও তারা নির্বাচন ব্যাহত করতে পারেনি, দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ নানা অনিশ্চয়তা ও সহিংস পরিবেশের মধ্যেও আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে ফের নির্বাচিত করেছে।

তিনি বলেন, এর ফলে তার সরকারের আগের মেয়াদে নেওয়া উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মালয়েশিয়ার উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দেশের জন্য সংগ্রাম করেছে সেই দলই এই দেশে বছরের পর বছর ক্ষমতায় থেকে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশেও আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উন্নয়নে কাজ করে যেতে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগেই, এই মালয়েশিয়ার আগেই সারা বিশ্বে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে উঠতো। ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরপর দীর্ঘ সামরিক শাসন দেশকে শুধুই পিছিয়ে দিয়েছে। তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছে। এতে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ ভালো থাকলেও বৃহৎ জনগোষ্ঠী কোনো সুবিধা পায়নি।

নিজের দলকে ও সরকারকে জনগণের সেবক হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজের ভাগ্য নয় আমরা জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছি।

জামায়াত-বিএনপি জোট এই উন্নয়নের ধারা ব্যাহত করতে চায়। আর দেশের স্বাধীনতার বিরোধী কারো গাড়িতে যখন জাতীয় পতাকা ওঠে তখন দেশ পিছিয়ে যাবেই, মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসনের কারণেই তত্ত্বাবধায়ক আসে এবং দুই বছর ক্ষমতায় থেকে দেশের মানুষের ভাগ্য থেকে সাতটি বছর কেড়ে নেয়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের হাতে দেশবাসী দেশ পরিচালনার সুযোগ দেওয়াতে দেশ আবার অগ্রগতির পথে হাঁটতে শুরু করে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

মালয়েশিয়ায় অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ করার বিষয়টি তার অব্যাহত প্রচেষ্টারই ফল একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব, আমিরাতেও একই চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই না বিদেশে গিয়ে আমাদের দেশের সন্তানরা অবৈধভাবে বসবাস করুক। আর সে কারণেই দেশ থেকে অবৈধ পথে শ্রমিক পাঠানো বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যারা সোনার হরিণের স্বপ্নে প্রতারিত হয়ে সমুদ্রপথে পাড়ি জমান তাদের এই অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। আর সে লক্ষ্যে কোস্টগার্ডের টহল বাড়ানো হয়েছে, টহল জাহাজ কেনা হয়েছে বলেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জানান প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া প্রবাসীদের কল্যাণে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক চালু, তাদের বিমানবন্দরে হয়রানি রোধে নানাবিধ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন, গ্রামে গ্রামে তথ্যকেন্দ্র থেকে তথ্য পেয়ে, অনলাইনে ফরম পূরণ করেই এখন বিদেশে যাওয়া সম্ভব।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রেল স্টেশন পর্যন্ত আন্ডারপাস তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও এ সময় জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, বিমানবন্দরে এখন স্বর্ণ চোরাচালানের চেষ্টা করলেই ধরা পড়ছে। কিন্তু বিএনপি আমলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এমনকি প্রধানমন্ত্রীও এই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। রক্ষকই ভক্ষক ছিলেন।

বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এরা দেশের উন্নয়নের উদ্যোগগুলোকে বানচাল করতে চায়। আন্দোলনের নামে গাড়ি পোড়ায়, রেলের কোচ পুড়িয়ে দেয়। তারা মসজিদেও হামলা চালায়।

তিনি বলেন, এখনো তাদের অশান্ত মন শান্ত হয়নি। দলের নেত্রী এখনও হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন। নতুন নতুন তারিখ দিয়ে যাচ্ছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, হুমকিতে আমি ভয় পাই না। জন্মেছি যখন একদিন মরতেই হবে। মৃত্যুকে ভয় পাই না। আমি আমার বাবা মা-ভাই হারিয়েছি। দেশের মানুষকে সেবা করার মধ্য দিয়ে, তাদের ভালোবাসার মধ্য দিয়েই বাবা মাকে আজ যেন ফেরত পেয়েছি। বার বার আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু পিছু হটিনি। দেশের মানুষের জন্য আমি মরতে প্রস্তুত।

বাংলাদেশ সময়: ২১১৬ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০২, ২০১৪

** মাহাথিরকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ
** লাল-সবুজ পতাকায় সেজেছে কুয়ালালামপুর
** বাংলাদেশে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন বানাবে মালয়েশিয়া
** মালয়েশিয়া পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
** মালয়েশিয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী
** পুত্রজায়ায় হাসিনা-রাজাক বৈঠক বুধবার
** ভাড়াবিহীন বাসে ওয়াইফাই ও এসি!

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মালয়েশিয়া এর সর্বশেষ