ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ মাঘ ১৪২৯, ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ০৪ রজব ১৪৪৪

জাতীয়

সততার অভাবে সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি দুই বছরও চলে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮০৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৪, ২০২২
সততার অভাবে সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি দুই বছরও চলে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: অঙ্গীকার ও সততার অভাবে সরকারি হাসপাতালে যন্ত্রপাতি দুই বছরও চলে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, যত্নের অভাবে এগুলো নষ্ট হয়ে যায়।

তা ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না। অথচ বেসরকারি হাসপাতালে এসব যন্ত্রপাতি ১০ বছর চলে৷

রোববার (৪ ডিসেম্বর) সচিবালয়ের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ৪০তম বিসিএসের মাধ্যমে ১০৬ চিকিৎসক কর্মকর্তার যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে দামি ও অসাধারণ যন্ত্রপাতি পড়ে আছে৷ যত্নের অভাবে এগুলো নষ্ট হয়ে থাকে। তা ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না। বেসরকারি হাসপাতালে এসব যন্ত্রপাতি ১০ বছর চললেও, সরকারি হাসপাতালে তা দুই বছরও চলে না। এটির ব্যাখ্যা কি? অঙ্গীকার ও সততার অভাব।  

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপনাদের ভালো প্রশাসক হতে হবে। হাসপাতালের যন্ত্রপাতি যাতে কার্যকর থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে। আমাদের জনবল যে পরিপূর্ণ, তা বলবো না। আপনি ইউরোপ-আমেরিকার মতো প্রত্যাশা করতে পারেন না। কারণ এটা বাংলাদেশ।

রোগীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি বলেন, রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে। চিকিৎসকরা যদি ভুল করেন, তাহলে রোগীটা মারা যান। অর্থাৎ চিকিৎসকরা ভুল করলে তার সংশোধনের সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, রোগীদের সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে। একজন চিকিৎসক ভালো কথা বললে রোগীদের মন ভালো হয়ে যায়। আমাদের যাদের বয়স বেশি, তাদের মনও ভালো হয়ে যায়। যখন কেউ জিজ্ঞাসা করেন, আজ আপনি এত খাচ্ছেন কেন? তখন বলি চিকিৎসক বলেছেন আমি ভালো আছি। চিকিৎসক ভালো বলায় সমানে খাওয়া-দাওয়া শুরু হয়ে গেছে। আর চিকিৎসক খারাপ বললে মন খারাপ হয়ে যায়।

জাহিদ মালেক জানান, এখন গ্রাম-গঞ্জেও পাকা রাস্তা, ইন্টারনেটসহ সব আছে। সবকিছুই আছে, কেবল মনটাকে ঠিক করতে হবে। কাজেই আমরা আশা করি, আপনারা রোগীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবেন। প্রধানমন্ত্রীও সে কথা বলেন। তিনি চিকিৎসকদের প্রতি খুবই শ্রদ্ধাশীল। অনেক উন্নয়ন হয়েছে, চোখ খুললেই দেখতে পাবেন।

এশিয়ার সবচেয়ে বড় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিভিডি) জানিয়ে তিনি বলেন, এগুলো বাংলাদেশে এত সোজা বিষয় না। এখন জেলা পর্যায়ে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল। প্রতিটি হাসপাতালে আইসিইউ আছে। কত উন্নয়ন আমরা পেয়েছি। ক্যানসার, কিডনি ও হার্টের আটটি বিভাগীয় হাসপাতাল হচ্ছে। এখন কেবল আমাদের ইচ্ছা, আর আপনাদের কাজ। হাসপাতাল কিছুই না যদি সেটির পেছনে মানুষ না-থাকেন। যিনি যন্ত্রপাতি চালাবেন, তার ওপর নির্ভর করবে, রোগী কীভাবে সেবা পাবেন।  

সদ্য নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কর্মস্থলে গেলে সবকিছু মন মতো হবে না। কাজেই নিজের অবস্থান নিজেকেই তৈরি করতে হবে। আমরা চাই দরিদ্র মানুষ যারা আছেন, তাদের আপনারা একটু ভালো সেবা দেবেন। এর চেয়ে ভালো সেবা দেওয়ার সুযোগ আর নেই। সবচেয়ে উত্তম ধর্ম, উত্তম ইবাদত হচ্ছে মানুষের সেবা। সবাই মানুষের সেবা করেন, কিন্তু চিকিৎসকদের মতো কেউ পারেন না। দুই জায়গায় শপথ নিতে হয়, একটি চিকিৎসকদের আরেকটি আইন প্রণেতাদের। আমরা শপথ ভাঙতে চাই না।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। হাসপাতালে যেমন যন্ত্রপাতি আছে, তেমনি প্রতিটি হাসপাতালের অবকাঠামো খুব সুন্দর হয়েছে। অক্সিজেন আছে। এখন কেবল চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। উদহারণ দিয়ে তিনি বলেন, ধরেন, এক ব্যক্তি তার মুমূর্ষু বাবা কিংবা মাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন, কিন্তু গিয়ে দেখেন চিকিৎসক নেই। তখন তার মনের অবস্থা কী হবে। আর যাওয়ার পর যদি ওই মুমূর্ষু বাবা কিংবা মা মারা যান, তাহলে তার মনের অবস্থা কী হবে! তখন আপনাদের আমরা কীভাবে নিরাপত্তা দেব? 

সদ্য নিয়োগ পাওয়া এক চিকিৎসকের নিরাপত্তা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি অর্জন করতে হবে। অনেকেই কাজ করি। কিন্তু চিকিৎসকদের কাজটা খুবই স্পর্শকাতর। নিরাপত্তা অবশ্যই দরকার, কিন্তু আমরা এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারি না, যেখানে আমাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে যাবে।  

তার মতে, একজন চিকিৎসক কেবল একজন চিকিৎসকই না, তিনি একজন নেতা। একটি প্রতিষ্ঠানকে আপনারা পরিচালনা করবেন। কাজেই আপনাদের নেতৃত্বের যোগ্যতা থাকতে হবে। সেখানে আপনাদের অধস্তনদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা।

মন্ত্রী বলেন, আপনারা (চিকিৎসকরা) খুবই ব্যয়বহুল শিক্ষা নিয়েছেন। সরকারি কলেজে যারা লেখাপড়া করেছেন, পাশের দেশে একজনকে চিকিৎসক হতে হলে এক কোটির বেশি রুপি খরচ হয়। আপনারা যারা সরকারি কলেজে লেখাপড়া করেছেন, কয় টাকা ব্যয় করেছেন। এ জিনিসগুলো মাথায় রাখতে হবে। জনগণের টাকায় লেখাপড়া করেছেন। এখন আপনাদের তা পরিশোধের সময়। এখন আপনাদের তা বাংলাদেশকে দেয়ার সময় হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮০৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৪, ২০২২
জিসিজি/জেএইচ 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa