ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৪ মে ২০২৪, ১৫ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

দক্ষ প্রকৌশলী থাকলেও হজ ফ্লাইটের তালিকায় পরিবর্তন আনলো বিমান!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৩৮ ঘণ্টা, মার্চ ২৩, ২০২৩
দক্ষ প্রকৌশলী থাকলেও হজ ফ্লাইটের তালিকায় পরিবর্তন আনলো বিমান!

ঢাকা: চলমান সমালোচনার মুখে হজ ফ্লাইট পরিচালনা করতে যাওয়া ‘সনদবিহীন প্রকৌশলীদের’ নামের তালিকায় পরিবর্তন এনেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। হজ টিমে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ সনদবিহীন প্রকৌশলীদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

নতুন একটি তালিকা হয়েছে, তবে সেটিও প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

বিমানের একটি সূত্র জানিয়েছে, হজ টিমে সৌদি আরবে পাঠানোর জন্য যে প্রকৌশলীদের নামের তালিকা প্রাথমিকভাবে তৈরি করা হয়েছিল, সেটিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। যাদের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত সনদ ও প্রি-এয়ারক্রাফট ইন্ট্রোডাকশন ট্রেনিংয়ের (পিএফআই) সনদ নেই তারা বাদ পড়েছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার (২১ মার্চ) ‘দরকারি সনদ ছাড়াই হজ ফ্লাইটের প্রকৌশলী, যাত্রীদের জন্য ঝুঁকি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে বাংলানিউজ। খবরে বলা হয়, চলতি হজ মৌসুমে ফ্লাইট পরিচালনা করার জন্য বিমানের যে প্রকৌশলীদের বিদেশে পাঠানো হয়েছে, তাদের মধ্যে কারো কারো প্রি-ফ্লাইট ইন্ট্রোডাকশন ট্রেনিংয়ের (পিএফআই) সনদ নেই।

পিএফআই সনদ মূলত এমন একটি সনদ, যা থাকলে প্রমাণিত হয়, একজন প্রকৌশলী তার কাজ সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন। সেই সঙ্গে উড়োজাহাজের যান্ত্রিক ত্রুটি, এমনকি উড্ডয়ন উপযোগী উড়োজাহাজের প্রত্যয়ন দিতে তিনি সক্ষম। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আয়োজিত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এই সনদ অর্জন করতে হয়।

পিএফআই সনদ নেই, এমন অভিযোগ ওঠার পর বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিউল আজিম বাংলানিউজকে জানান, তাদের প্রকৌশল টিম রয়েছে এবং এতে প্রধান প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রকৌশলীরাও আছেন। বিমানের এখনকার প্রকৌশল দলটি শুধু এ অঞ্চলের নয়, এশিয়ার মধ্যেই সেরাগুলোর একটি।

তিনি আরও জানান, সৌদি আরবে আগে বিমানের প্রকৌশল সহায়তা দিত ওমান এয়ারলাইন্স। এরপর কুয়েত এয়ারলাইন্স। সৌদি আরবে এখন অন্য কাউকে তা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এখন সে দেশটির প্রকৌশলীরাই বিমানকে প্রকৌশল সহায়তা দেবেন। কুয়েতের সঙ্গে বিমানের যে চুক্তি ছিল, তা বাড়ানো যাচ্ছে না। তাই বিমান সাময়িকভাবে দেশিয় প্রকৌশলী পাঠিয়ে কাজটা করছে।

পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে সংবাদের প্রতিবাদ জানায় বিমান। সংস্থার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকারের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হজ ফ্লাইটের জন্য তালিকাভুক্ত প্রকৌশলীরা দক্ষ ও তাদের প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স আছে। প্রাথমিকভাবে হওয়া তালিকাটি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় আছে। তারা তালিকাটি এখনও চূড়ান্ত করেনি।

বিজ্ঞপ্তিতে বিমান বলছে, প্রতিবেদনগুলোয় ‘বিভ্রান্তিকর, অসত্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। হজের সময় বিদেশি এয়ারলাইন্স দিয়ে মেইন্টেনেন্স সার্টিফিকেশন করা ব্যয়বহুল বিধায় বিমান নিজস্ব প্রকৌশলদের দিয়ে ওই সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছে।

ইতোমধ্যে বিমানের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী উড়োজাহাজের লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রকৌশল কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি প্রাথমিক তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে, যা অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন আছে। এই তালিকাভুক্ত প্রকৌশলীদের পিএফআইসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য লাইসেন্স, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। কাজেই লাইসেন্সবিহীন প্রকৌশল কর্মকর্তাদের হজ পোস্টিংয়ের জন্য মনোনীত করা হয়েছে মর্মে প্রকাশিত সংবাদটি সঠিক নয়।

বিমানের তালিকাভুক্ত প্রকৌশলীদের পিএফআইসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য লাইসেন্স, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা যদি থাকেই তাহলে সনদবিহীন প্রকৌশলী কোথা থেকে এলো এবং তাদের নামের তালিকায় পরিবর্তনের কারণ কী- জানতে চাইলে বিমানের এমডি ও সিইও শফিউল আজিম বাংলানিউজকে বলেন, আমি তারাবির নামাজে আছি। তা ছাড়া এ সংবাদ মিথ্যা। আমরা তাদের বিরুদ্ধে (সংবাদকর্মীদের) প্রেস কাউন্সিলে যাবো।

বাংলাদেশ সময়: ২০৩৭ ঘণ্টা, মার্চ ২৩, ২০২৩
এমকে/এমজে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।