ঢাকা, সোমবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২০ মে ২০২৪, ১১ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আতঙ্ক ‘রকি ভাই’

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২২৩ ঘণ্টা, মার্চ ৩১, ২০২৩
বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আতঙ্ক ‘রকি ভাই’

বান্দরবান: বান্দরবান সদর উপজেলায় একসময় ছিনতাইয়ের ঘটনা শূন্যের কোটায় থাকলেও এখন প্রকাশ্যে ছিনতাই করছেন রকি নামে এক যুবক। তার গ্যাংয়ের ছেলেদের কাছে তার নাম ‘রকি ভাই’।

 

গত চার মাস ধরে সুয়ালক এলাকার নবনির্মিত বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকায় নিয়মিত ছিনতাই করে এলেও অজ্ঞাত কারণে এই রকি ভাই পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়রা জানান, বান্দরবানের সুয়ালক ও হলুদিয়া এলাকায় দিনেদুপুরে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে পথচারীদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মারধর করে মোবাইল, টাকা, ব্যাগ ছিনিয়ে নেন তিনি; নারীদের করেন শ্লীলতাহানি।  

তার সহযোগী হিসেবে কাজ করেন আরও কয়েকজন। ইয়াবা সেবন ও ইয়াবা কারবারের অর্থ যোগাতেই ছিনতাইয়ের পথ বেছে নেন তারা। তাদের ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। হলুদিয়া এলাকার রাজীব বড়ুয়ার সন্তান এই রকি।

বান্দরবান শহরের বিকাশ এজেন্ট বিশ্বজিত দেব বাংলানিউজকে বলেন, গেল বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় বান্দরবান হলুদিয়া এলাকায় একটি দোকানে হালকা নাস্তা করতে গেলে হঠাৎ এক ছেলে আমার হাতে থাকা মোবাইল কেড়ে নিয়ে বাইকে ওঠে। আমিও দৌড়ে গিয়ে ছিনতাইকারীর হাত থেকে আমার মোবাইল কেড়ে নিয়ে ফেলি। তখন ছিনতাইকারী আমার পেটে মারাত্মকভাবে আঘাত করে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে ছিনতাইকারী বাইক নিয়ে পালিয়ে যায়।  

স্থানীয়রা জানান এই ছিনতাইকারীর নাম রকি। বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রাতে কেউ বাইক নিয়ে এলে তাদের ধরে টাকা, মোবাইল ও অন্যান্য জিনিস হাতিয়ে নিয়ে সে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে পালিয়ে যায়। আগে রাতে ছিনতাই করত, এখন দিনেদুপুরে প্রকাশ্য ছিনতাই শুরু করেছে রকি ও তার দলের ছেলেরা।

বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গত মাসে একদিন রাত ১০টার দিকে কেরানীহাট থেকে মোটরসাইকেলে আসা এক আরোহীকে অস্ত্র দেখিয়ে সব কিছু ছিনিয়ে নেয় কয়েকজন যুবক, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়। খুব ভোরে যারা বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কে চলাচল করে, তাদের টার্গেট করে বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার নীরব স্থানে কয়েকজন যুবক পথচারীদের ওপর আক্রমণ করে তাদের সব মালামাল লুটে নেয়।

সুয়ালক এলাকার বাসিন্দা মো. মোরশেদ বাংলানিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো দরকার। প্রায় সময় সেই এলাকায় বখাটের আড্ডা জমছে। পাহাড়ি নির্জন স্থান হওয়ায় অনেকে চলাচলে ভয় পান। বান্দরবানের শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসনের দ্রুত বিষয়টিতে নজর দেওয়া দরকার।

জানতে চাইলে বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, সম্প্রতি সুয়ালক এলাকায় বেশ কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন যুবক জড়িত রয়েছে এমন সংবাদ আমরা পেয়েছি এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

বাংলাদেশ সময়: ১২২০ ঘণ্টা, মার্চ ৩১, ২০২৩
আরএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।