মৌলভীবাজার: জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার হোসনাবাদ চা বাগানে শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি না দেওয়ায় বাগান বন্ধ রেখে আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকরা।
শনিবার (১৯ আগস্ট) থেকে চা বাগানে শ্রমিকদের কর্মবিরতি চলছে।
চা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক মজুরি দেওয়ার কথা থাকলেও বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের মজুরি দিতে পারেনি। ফলে ক্ষুব্ধ চা শ্রমিকরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
সোমবার (২১ আগস্ট) হোসনাবাদ চা বাগানের শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে ম্যানেজার অফিসের সামনে জড়ো হয়ে আন্দোলন করছে। সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা পার্শ্ববর্তী নন্দরানী চা বাগানের বটতলায় যান। সেখানে শ্রমিকদের সঙ্গে একমত পোষণ করে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালি সভাপতি বিজয় হাজরা, বালিশিরা ভ্যালির সাংগঠনিক সম্পাদক কর্ণ তাঁতি, উপদেষ্টা সুভাষ রবিদাশ প্রমুখ।
পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মালেক মিয়া বলেন, আমরা এই বাগানে ভালো চিকিৎসা পাই না, রেশন পাই না। এখন কয়দিন পর পর মজুরির জন্য আন্দোলন করতে হয়। কয়েক মাস পর পর আমাদের মজুরি বন্ধ করে দেয় বাগান মালিক। প্রতি বৃহস্পতিবারে আমাদের চা বাগানে মজুরি দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক সময় তা আটকে যায়। চা শ্রমিকরা এই মজুরি দিয়ে সারা সপ্তাহের বাজার সদাই করে থাকেন। গত বৃহস্পতিবার আমাদের শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া হয়নি। বলা হয়েছে পরে দিবেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ মজুরি পায়নি। এখন টাকা না থাকায় অনেক কষ্ট করে দিন কাটাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, চা বাগানের বর্তমান মালিক পক্ষ এই চা বাগানের শ্রমিকদের মানুষ বলে মনে করে না। কয়েকদিন পর পর এভাবে মজুরি বন্ধ করে দেন। বার বার আন্দোলন করে মজুরি নিতে হবে কেন? আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই এই বাগান মালিকের কাছ থেকে চা বাগানটি সরকারের অধীনে নিয়ে যাওয়া হোক। আমরা গত শনিবার থেকে চা বাগানের কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন করছি। আমাদের মজুরি না দিলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালি সভাপতি বিজয় হাজরা বলেন, আমরা বাগান শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা মজুরি না পেয়ে অনেক কষ্টে চলছে। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে মজুরি না দেওয়া হয় তাহলে শ্রমিকরা কঠোর আন্দোলনে নামবে বলে আমাদের জানিয়েছে। শ্রমিকদের এই আন্দোলনের সঙ্গে আমরা বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা অবশ্যই পাশে থাকবে। হোসনাবাদ চা বাগানের এই ধরনের মজুরি আটকে রাখার ঘটনা আজ নতুন নয়। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই এই চা বাগানের মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
হোসনাবাদ চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, আমাদের চা বাগানের মালিক বর্তমানে একটু অর্থনৈতিক সমস্যায় আছেন। যার কারণে সঠিক সময়ে শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া যাচ্ছে না। আমি এই চা বাগানে দুই মাস হয় জয়েন করেছি। এই দুই মাসে এমনটি আর হয়নি। প্রতি বৃহস্পতিবার আমাদের কাছে টাকা আসে। আমি স্টাফদের মাধ্যমে টাকাগুলো মজুরি হিসেবে বিতরণ করি। আমি মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি দ্রুতই শ্রমিকরা মজুরি পেয়ে যাবে।
বাংলাদেশ সময়: ১২১২ ঘণ্টা, আগস্ট ২২, ২০২৩
বিবিবি/এসআইএ