ঢাকা, সোমবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৭ মে ২০২৪, ১৮ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

ভিড় এড়াতে ঈদের দিন যাচ্ছিলেন বাড়ি, স্বামী-স্ত্রী-সন্তান হলেন লাশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১০৬ ঘণ্টা, এপ্রিল ১১, ২০২৪
ভিড় এড়াতে ঈদের দিন যাচ্ছিলেন বাড়ি, স্বামী-স্ত্রী-সন্তান হলেন লাশ

ঢাকা: স্ত্রী-সন্তানসহ গাজীপুরে বসবাস করতেন মো. বেলাল (৩০)। ভিড় এড়াতে ঈদের দিন সপরিবারে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় গ্রামের বাড়ি রওনা দেন এই গার্মেন্টসকর্মী।

রাজধানীর সদরঘাট থেকে লঞ্চেও উঠতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু লঞ্চযাত্রার আগমূহুর্তে পল্টুনেই স্ত্রী মুক্তা (২৪) ও চার বছর বয়সী মেয়ে মাইশাসহ মারা যান বেলাল।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে লঞ্চের ধাক্কায় ছিঁড়ে আসা রশির আঘাতে পাঁচ যাত্রী নিহত হয়েছেন। সদরঘাটের ১১ নম্বর পল্টুনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত বাকি দুইজন হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের রবিউল (১৯) এবং পটুয়াখালীর রিপন হাওলাদার (৩৮)।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, এমভি তাসরিফ-৪ ও এমভি পূবালী-১ নামক দুটি লঞ্চ দড়ি দিয়ে পল্টুনে বাঁধা ছিল। এ দুই লঞ্চের মাঝখান দিয়ে ফারহান নামের আরেকটি লঞ্চ ভেড়ানোর সময় এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের দড়ি ছিঁড়ে যায়। তখন সেটি গিয়ে পল্টুনে আঘাত করে। এতে পাঁচ যাত্রী গুরুতর আহত হন।

পরে তাদেরকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে নিহত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

ঢাকা নদীবন্দরের (সদরঘাট) যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) জয়নাল আবেদীন বিকেলে বাংলানিউজকে জানান, সদরঘাটের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মরদেহ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

নৌ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, তাসরিফ-৪ নামে একটি লঞ্চের দড়ি ছিঁড়ে এর ধাক্কায় পাঁচজন মারা গেছেন।

সদরঘাটে দুর্ঘটনায় খবর শুনে মিটফোর্ড হাসপাতালে গেছেন মুক্তার ভগ্নীপতি জহিরুল ইসলাম।

তিনি জানান, বেলাল গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে সেখানে থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায়। ঈদের দিন লঞ্চে করে বাড়ি যেতে বেলাল স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে সদরঘাটে গিয়েছিলেন।

তিনি আরও জানান, বেলালের বাবা-মা বেঁচে নেই। স্ত্রী-সন্তানসহ তার মৃত্যুতে ওই পরিবারে আর কেউ রইল না।

সদরঘাট নৌ-থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিয়াকাত আলী জানান, দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচজনকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আর কোনো আহত বা নিখোঁজ নেই।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। নিহতদের মরদেহ এখন মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। নিহতের স্বজনরা ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ নিতে চাইলে আবেদন করতে হবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: সদরঘাটে লঞ্চের ছেঁড়া দড়ির আঘাতে ঝরল ৫ প্রাণ

বাংলাদেশ সময়: ২১০২ ঘণ্টা, এপ্রিল ১১, ২০২৪
পিএম/এসআইএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।