ঢাকা, সোমবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৭ মে ২০২৪, ১৮ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

ঢাকা ফেরার পথেও বাড়তি ভাড়া থেকে রেহাই নেই কুষ্টিয়ার যাত্রীদের

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩০৪ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৫, ২০২৪
ঢাকা ফেরার পথেও বাড়তি ভাড়া থেকে রেহাই নেই কুষ্টিয়ার যাত্রীদের

ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াতে আসতে কোচগুলো ভাড়া নিয়ে থাকে ৬৫০ টাকা। ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে আসার পথে টিকিটের দাম বাড়িয়ে করা হয়েছিল ৭৫০ টাকা।

একই গাড়িতে ঢাকায় ফেরার পথে ভাড়া আরও বাড়িয়ে গাড়ি ভেদে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া সদর, ভেড়ামারা, তারাগুনিয়া ও হোসেনাবাদে ঢাকামুখী কোচের বিভিন্ন টিকিট কাউন্টার এমন চিত্র দেখা গেছে। কাউন্টার মাস্টার জানায়, এ বাড়তি ভাড়া চলতে থাকবে চলতি এপ্রিল মাসের ২৩ তারখ পর্যন্ত।

ঢাকামুখী যাত্রীরা জানান, এবার ঈদে চাকরিজীবীরা বেশিদিন ছুটি পেয়েছিল। আর তার অধিকাংশ ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। আর ছুটির শেষ দিনে ১৪ এপ্রিল থেকে ঢাকামুখি যাত্রীর বাড়তি চাপ পড়েছে। পরের দিন সোমবারও (১৫ এপ্রিল) সেই চাপ রয়ে গেছে। আর এই সুযোগে বাস কাউন্টারগুলো ভাড়াও ১৫০ থেকে  ২০০ টাকা বেশি হাঁকানো শুরু করেছে। মানুষ বাধ্য হয়ে তা কিনছে।  

সোমবার (১৫ এপ্রিল) ভেড়ামারার শ্যামলী কাউন্টারে দেখা যায় একজন টিকিটের দাম-দর করছে। বাসটি ঢাকা হয়ে নায়ায়নগঞ্জে যাবে। কাউন্টার থেকে জানানো হলো, ঢাকাতে ঢাকা থেকে ১০০ বাড়তি দিতে হলেও এখন সেই ভাড়া আরও বাড়িয়ে ১০০০ টাকা দিতে হবে।

কাউন্টার মাস্টার নইমুদ্দিন বলেন, আমরা ২০০ টাকা বেশি নিচ্ছি। এর মধ্যে একশ টাকা আমাদের ঈদ বকশিস আর মালিককে টিকিট প্রতি ১০০ টাকা বেশি দিচ্ছি। একই অবস্থা শ্যামলীর অপর কাউন্টাররেও। এ বাসটি যাবে ঢাকার গাবতলী হয়ে কল্যাণপুরে। এ বাসের টিকিটের দাম ৮৫০ টাকা।

বেসরকারি চাকরিজীবী মাহাফুজ ঢাকা যাবে। তিনি ঈদের আগের দিন ভেড়ামারার ফাতেমা পরিবহনে টিকিট কেটেছেন। টিকিটের দাম নিয়েছে ৯০০ টাকা। কাউন্টারটিতে নিউ এসবি নামের একটি অতিরিক্ত বাসের টিকেট বিক্রি করছে। টিকিটের দাম ৯০০ টাকা।

মাহাফুজ জানান, সাড়ে ৬৬০ টাকার টিকিট বিক্রি করছে ৯০০ টাকা। বলার কিছু নেই। যেতে হলে বাড়তি টাকা দিতে হবে। অনেকে তো তাও পাচ্ছে না।

কাউন্টারটিতে একজন ঢাকাগামী যাত্রী হন্তদন্ত হয়ে এসে সিট আছে কিনা জানতে চাইছেন ঢাকা যেতে টিকিট আছে কিনা জানতে চাইছে। কাউন্টার থেকে জানানো হলো টিকিট পাওয়া যাবে, তবে বাড়তি টাকা দিবে হবে। সে জানতে চায়, ঢাকা থেকে আসার সময় তো সাড়ে ৬৫০ টাকার টিকিট রাখা হয়েছিল ৭৫০ টাকা। ফেরার সময় ৯০০ টাকা কেনো। সারা বছর বসে থাকি। ঢাকা কাউন্টারে ৭৫০ টাকা নিলেও চলে। কিন্তু আমাদের চলে না। আমার ঈদ শুরু হয় মানুষ গ্রাম থেকে যখন থাকা ফেরত যায় তখন। এ জন্য আমরা বাড়তি টাকা নিই।

বাস কাউন্টারগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করার ক্ষেত্রে শ্যামলী,ফাতেমা, সনি, নিউ এসবির মত বাসগুলো কোন রাগঢাক না করলেও হানিফ ও এসবি পরিবহন কিছুটা রাখঢাক করছে।  তারা যাত্রীর টিকিটে ৭৫০ টাকা লিখছে, বাড়তি টাকা বকশিস হিসেবে নিচ্ছে। টিকিটে লেখা হচ্ছে না।

ভেড়ামারা এসবি কাউন্টার মাস্টার শামীম জানান, ঈদের বাড়তি কিছু টাকা নিই। আপনারা তো জানেন, আমাদেরও ঈদ করা লাগে, ঈদের খরচ করা লাগে। টিকিট বিক্রির কমিশন থেকে আমাদের আয়টা আসে।  

ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া প্রায় ৩০টি কোম্পানি যাত্রী পরিবহন করে থাকে। ঈদ এলে অন্যান্য রোডের কিছু বাস ঢাকা কুষ্টিয়া রুটে যুক্ত হয়। এবারও বেশ কয়েকটি গাড়ি যুক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৩০৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৫,২০২৪
জেড/এমএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।