ঢাকা: রাজধানীর ধানমন্ডিতে ‘অলংকার নিকেতন’ জুয়েলার্সের মালিক এম এ হান্নান আজাদের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় চারজনকে আটকের ঘটনায় পুরস্কার পাচ্ছেন পাঁচ শ্রমিক। সাহসিকতার জন্য সেই পাঁচ শ্রমিককে পাঁচ হাজার টাকা করে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে ডিএমপি।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
তিনি বলেন, ধানমন্ডিতে ডাকাতির ঘটনায় ডাকাতদের প্রতিরোধ করা এবং তাদের ধরতে সহায়তা করেছেন পাঁচজন শ্রমিক। সাহসিকতার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ওই পাঁচ শ্রমিকের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া এই পাঁচজনকে অক্সিলিয়ারি ফোর্স হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ঢাকার নিরাপত্তা পরিদর্শনে মাঝেমধ্যেই বের হচ্ছেন। এর মধ্যে চেকপোস্ট-টহল জোরদার করা হয়েছে। কিন্তু বাসা-বাড়িতে এভাবে ডাকাতির ঘটনা মাঝেমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। এটি গোয়েন্দা ব্যর্থতা নাকি চেকপোস্ট-টহলে যারা দায়িত্বরত তাদের গাফিলতি?
জবাবে ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, চলমান রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ডিএমপি বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ সময় টহল জোরদার, কৌশলগত জায়গায় তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া দু’একটি যে ঘটনা ঘটছে সেগুলোর সঙ্গে সঙ্গে উদ্ঘাটন করে আসামি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পুলিশ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। এর মধ্যে কেউ যদি অপরাধ করে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে যেসব ঘটনা ঘটেছে সেগুলো উদ্ঘাটন করা হয়েছে।
র্যাব, ম্যাজিস্ট্রেট ও ছাত্র পরিচয়ে এমন দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় নগরবাসী কীভাবে বুঝবে কোন অভিযান ভুয়া আর কোন অভিযান সত্য? জবাবে ডিসি তালেব বলেন, ধানমন্ডির ডাকাতির ঘটনায় সেখানকার বাসার মালিক ৯৯৯-এ কল করেন। এরপর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ যায়। আমরা জনগণকে বারবার অনুরোধ করছি, আপনাদের সামনে যদি এমন ঘটনা ঘটে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯-এ কল করবেন।
ডাকাতদল র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর পরিচয় দিয়েছে, তারা আদৌ এসব বাহিনীর সদস্য কি না- প্রশ্ন করা হয়, জবাবে সংবাদ সম্মেলনে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, ডাকাতদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। ডাকাতিতে তাদের ২৫ থেকে ৩০ জনের টিম জড়িত। তাদের মূল পরিচয় উদ্ঘাটন করে বিস্তারিত জানানো হবে। প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তার ছয় ডাকাত এলোপাতাড়ি তথ্য দিয়েছেন, তাদের রিমান্ডে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের শেষদিকে অলংকার নিকেতন জুয়েলার্স থেকে প্রায় সাড়ে সাত হাজার ভরি স্বর্ণ চুরি হয়েছিল। এ ঘটনায় মামলাও হয় তেজগাঁও থানায়। এরপর ২৬ মার্চ ভোরে ধানমন্ডিতে ওই জুয়েলার্সের মালিকের বাসায় ডাকাতদল ডাকাতি করে। দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও নগদ টাকাসহ সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের ছয় সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ধানমন্ডি থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- ফরহাদ বীন মোশারফ (৩৩), ইয়াছিন হাসান (২২), মোবাশ্বের আহাম্মেদ (২৩) ও ওয়াকিল মাহমুদ (২৬), আবদুল্লাহ (৩২), সুমন (২৯), আবদুল্লাহ (৩২) ও গাড়িচালক সুমন (২৯)।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত র্যাব লেখা কালো রঙের দুটি জ্যাকেট, তিনটি কালো রঙের র্যাব লেখা ক্যাপ, দুটি মাইক্রোবাস, পাঁচটি মোবাইল ফোন, একটি লোহার তৈরি ছেনি, একটি লাল রঙের পুরোনো স্লাই রেঞ্জ ও নগদ ৪৫ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
আগের নিউজ লিংক>> র্যাব-ম্যাজিস্ট্রেট-ছাত্র পরিচয়ে রাজধানীতে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৪
বাংলাদেশ সময়: ১৪১৩ ঘণ্টা, মার্চ ২৭, ২০২৫
এমএমআই/এসএএইচ