ঢাকা, শুক্রবার, ২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৫ শাওয়াল ১৪৪৬

জাতীয়

ছেলের কবরের পাশে বসে বিলাপ করেই ঈদ কেটেছে ‘জুলাই শহীদ’ সাগরের মায়ের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৪০ ঘণ্টা, এপ্রিল ৩, ২০২৫
ছেলের কবরের পাশে বসে বিলাপ করেই ঈদ কেটেছে ‘জুলাই শহীদ’ সাগরের মায়ের শহীদ সাগরের কবরের পাশে বসে কান্না করছেন তার মা আম্বিয়া বেগম

বরিশাল: ‘জুলাই অভ্যুত্থানে’ শহীদ সাগর হাওলাদারের (১৭) পরিবারে এবার ঈদ ছিল বিষাদময়। সাগরের কবরের পাশে বসে বিলাপ করেই ঈদ কেটেছে তার মা আম্বিয়া বেগমের।

ছেলের শোকে পাথর বাবা নুরুল হক হাওলাদার ঈদের দিন ঘর থেকেই বের হননি, কোলাকুলি তো দূরের কথা কথাও বলেনি তেমন। প্রায় একই অবস্থা ছিল সাগরের একমাত্র বোন মরিয়ম খানমের। ভাইয়ের কথা মনে করে ঘরের একপাশে চুপচাপ বসে, শুয়ে ঈদ কেটেছে তার। কারো সঙ্গেই কথা বলেনি সে, নতুন কাপড়ও পরেনি।  

এভাবেই ঈদুল ফিতর কেটে বরিশালের আগৈলঝাড়ার বাগধা গ্রামের শহীদ সাগরের পরিবারের সদস্যদের।  
 
ঈদের দিন সাগরের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, তার দাদা আব্দুল মজিদ হাওলাদার (৭৭) ও দাদি রহিমা বেগম (৬৬) বাড়ির উঠানে বসে বাকরুদ্ধ হয়ে নীরবে চোখের পানি ফেলছেন নাতির জন্য। কান্না করতে করতে তাদের চোখের পানিও শুকিয়ে গেছে প্রায়।  

সাগরের কাকা মাইনুল হাওলাদার বলেন, ঈদকে সামনে রেখে আমরা কোনো কেনাকাটা না করলেও চারদিন আগে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সাগরের পরিবারকে ঈদসামগ্রী পৌঁছে দেন উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপনের নির্দেশে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা সাগরের কবরস্থান পাকাকরণে কাজ করছেন। তবে ঈদের দিন উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের বাগধা গ্রামে সাগরের বাড়ি গিয়ে ওই পরিবারের কেউ নতুন জামা-কাপড় পরেনি, পুরোনো কাপড় পরনেই দেখা গেছে তাদের। এমনকি ঈদ উপলক্ষে ওই পরিবারে কোনো রান্না-বান্নাও হয়নি।

শহীদ সাগরের মা আম্বিয়া বেগম ছেলের কবরের পাশে বিলাপ করে বলছিলেন, সংসার ও বোনের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে সাগর গত বছরের মে মাসে ঢাকায় গিয়েছিল। ওর স্বপ্ন ছিল বিদেশ গিয়ে বেশি টাকা আয় করে বাড়িতে পাকা ভবন তৈরি করবে, ওই ভবনে সকলের জন্য আলাদা কক্ষ থাকবে ও বোনের লেখাপড়াসহ মায়ের জন্য কাজের লোক রেখে দেবে। কিন্তু স্বপ্ন তো গেলই, ছেলেকেই হারিয়ে ফেললাম।

সাগরের বৃদ্ধ দাদা মজিদ হাওলাদার কথা বলতে গিয়ে বার বার ভাষা হারিয়ে ফেলেন। কোনোরকমে জানান, আমাদের পরিবারে কোনো ঈদ নেই, সাগর চলে যাওয়ায় আমাদের জীবন থেকে ঈদ চলে গেছে। সাগর বেঁচে থাকলে এসে বলতো, দাদা সালামি দাও, সাগর ছিল আমার একমাত্র নাতি ও আদরের ধন।

সাগরের বাবা নুরুল হক হাওলাদার বাগধা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী। তার এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সাগর বড়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরুর দুই মাস আগে সাগর ঢাকায় গিয়েছিল একবুক স্বপ্ন নিয়ে। সে ধানমন্ডি লেকপাড়ে একটি চায়ের দোকানে ৯ হাজার টাকা বেতনে কাজ করত। ১৯ জুলাই রাতে বাসায় ফেরার পথে আবহানী মাঠের পাশে পুলিশ বক্সের কাছে দু-পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয় সাগর। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ জুলাই মারা যায় সাগর হাওলাদার।

বাংলাদেশ সময়: ১৬২৬ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৩, ২০২৫
এমএস/এসএএইচ
 
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।