ঢাকা: ঈদের চতুর্থ দিনেও তেমন ভিড় নেই রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। নেই শিডিউল বিপর্যয়।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ট্রেনে ফিরতি যাত্রার দ্বিতীয় দিনে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা গেল ঢাকা ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোয় যাত্রীর দেখা বেশি মিলেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলো কমলাপুরে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাচ্ছে। ঈদের ছুটি কাটিয়ে ট্রেনগুলোতে ফিরছেন মানুষ। তবে ঈদের ছুটি শেষে হবে আগামী শনিবার। বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ এখনো বন্ধ রয়েছে। অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ। এসব কারণে ঈদে গ্রামে ফেরা অনেকেই একটু লম্বা ছুটি কাটিয়ে নগরীতে ফিরছেন। আবার এখনও অনেকে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে যাচ্ছেন। প্ল্যাটফর্মে অনেক যাত্রী অপেক্ষা করছেন নির্ধারিত ট্রেনের জন্য। অপরদিকে বিভিন্ন গন্তব্য থেকে আসা ট্রেনগুলো অনেকটা ফাঁকাই ছিল। ট্রেনগুলো যথা নিয়মেই যাতায়াত করছে। যারা যাচ্ছেন তারা ঈদের ভিড় ঠেলে যেতে পারেননি। ফলে এখন স্বাচ্ছন্দ্যে যাচ্ছেন। আর ফিরতি যাত্রীরা বলছেন, ভিড় হওয়ার আগেই ঢাকায় ফিরছেন তারা।
এদিকে সময়মতো ট্রেন ছাড়ায় যাত্রীরা বেশ খুশি। কথা হয় আব্দুস সালাম নামের পাবনার ঈশ্বরদীগামী এক যাত্রীর সঙ্গে। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, এখানে এসে ট্রেনের দুটি টিকিট পেয়েছি। নিজ আসনে এসে বসতে কোনো ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হয়নি। ঈদ শেষে ট্রেন একটু ফাঁকা, কোনো রেকারে আবার যাত্রী দাঁড়িয়েও যাচ্ছে। এখন ফিরতিযাত্রায় ভালোভাবে আসতে পারলেই হলো।
সুন্দরবন এক্সপ্রেসে করে খুলনা যাচ্ছেন নাদিয়া। বাংলানিউজকে তিনি বললেন, এবার কোনো ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেন ছাড়ছে, এটাই প্রশান্তি। ঈদের ভোগান্তি কমাতে ঈদের পরে বাড়ি যাচ্ছি। আসবো কয়েকদিন পরে।
জেসমিন আক্তার নামের মহুয়া কমিউটারের যাত্রী বাংলানিউজকে বলেন, ছোট বাচ্চা নিয়ে ঈদের আগে ভিড় ঠেলে বাড়ি যাওয়া সম্ভব হয়নি। তাই আজ যাচ্ছি। এখন খুব রিলাক্সে যাওয়া যাচ্ছে। ওই সময় তো ট্রেনের ভেতর পা রাখারও জায়গা পাওয়া যায় না।
তিনি বলেন, কমিউটার ট্রেন কখনো শিডিউল বিপর্যয়ে পড়েনি। আমরা দিনের টিকিট দিনেই পাই, আমাদের যাত্রাও ভালো হয়। এখনতো ঈদ শেষে মানুষ ঢাকায় ফিরছে, আর আমি ঢাকার বাইরে যাচ্ছি। যাতে কোনো ঝামেলায় পড়তে না হয়।
যমুনা এক্সপ্রেসের যাত্রী মো. দেলোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, আগামীকালও ছুটি আছে। ঢাকায় একটা দিন বিশ্রাম করে তারপর অফিস শুরু করব। অফিস শুরুর আগের দিন আসলে সব অগোছালো লাগে। আজ ট্রেনের যাত্রীর চাপ কমই ছিল। ট্রেনে উঠতে ও বিরতি স্টেশনগুলো থেকে কমই যাত্রী ট্রেনে উঠেছে। খুব আরাম করে আসা গেছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত ঈদে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সবচেয়ে বেশি ঘরমুখো মানুষ ট্রেনে ঈদযাত্রা করেন। এ কারণেই বাড়তি নজর রয়েছে কমলাপুরে। ঈদযাত্রায় আন্তঃনগর, মেইল, কমিউটার মিলে প্রতিদিন ৭০ হাজারের বেশি যাত্রী পরিবহন করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঈদযাত্রায় সব ট্রেন সঠিক সময়ে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। ঈদযাত্রায় প্রতিদিন ৭১টি ট্রেন চলাচল করছে। এ কয়দিন কমলাপুর স্টেশনে টিকিট ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আজ ২ এপ্রিল থেকে ফিরতিযাত্রা শুরু হয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, এবছর ঈদযাত্রায় স্টেশনের শুরু থেকে ট্রেনের গন্তব্য পর্যন্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। টিকেট যাচাইয়ের জন্য ভেরিফিকেশন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রেনের সময়সূচি ঠিক রাখতে এবং যাত্রীদের সুবিধার্থে ঢাকাগামী ৯টি ট্রেনের বিমানবন্দর স্টেশনের যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে। ঢাকামুখী ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে জয়দেবপুর স্টেশন থেকে ঢাকামুখী এবং ঢাকা স্টেশন থেকে জয়দেবপুরমুখী ট্রেনে টিকিট ইস্যু বন্ধ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঈদযাত্রা নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও উৎসবমুখর করতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। টিকিট কাউন্টার, প্ল্যাটফর্মসহ সব জায়গায় র্যাব, পুলিশ, আনসার সদস্যের পাশাপাশি রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীও ছিলো।
এ বিষয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনের কর্মকর্তা (স্টেশন মাস্টার) আনোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, আজ ঈদের ফিরতিযাত্রার দ্বিতীয় দিন। কিন্তু যাত্রীদের চাপ নেই। আরও দুইদিন ছুটি আছে তাই। শুক্রবার ও শনিবার ফিরতিযাত্রার চাপ বেশি পড়বে। তবে এখনও মানুষ ঢাকা ছাড়ছে। বরং ঢাকায় আসার যাত্রীদের তুলনায় ঢাকা ছাড়ার যাত্রীর সংখ্যা বেশি।
তিনি বলেন, সকাল থেকেই নির্ধারিত সময়ে ফিরছে ট্রেন। সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় ফিরেছে ২৯টার মতো ট্রেন। তবে সব ট্রেনেই বেশিরভাগ আসন ফাঁকা দেখা গেছে।
এদিন সকাল থেকে ধূমকেতু এক্সপ্রেস, সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী, তিস্তা এক্সপ্রেস, সুন্দরবন এক্সপ্রেস, মহুয়া কমিউটার, কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেন কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে গেছে। আসন ফাঁকা নিয়েই ট্রেনগুলো কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।
এছাড়া ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে রাজশাহীগামী ধুমকেতূ এক্সপ্রেস, এগারো সিন্ধুর প্রভাতী, তিস্তা এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী, অগ্নিবীণাসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন কমলাপুর থেকে নির্ধারিত সময়ে ছেড়েছে। দুই একটি ট্রেন শুধু লেট করেছে। ট্রেনে এবারের ঈদযাত্রা খুবই স্বস্তিদায়ক হয়েছে।
উল্লেখ, রাজধানীতে বিরাজ করছে ছুটির আমেজ। এবারের রোজার ঈদে সরকারি ছুটি ৯ দিন। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার। অর্থাৎ এবার ২৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষ হবে ০৫ এপ্রিল।
বাংলাদেশ সময়: ১৭১২ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৩, ২০২৫
জিসিজি/এসএএইচ