ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯, ০৭ জুলাই ২০২২, ০৭ জিলহজ ১৪৪৩

জাতীয়

পুকুরে রূপালি মাছের ঝলক, পাড়েই হাসছে সবুজ পেঁপে

স্বপন চন্দ্র দাস, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৪৫ ঘণ্টা, মে ২৭, ২০২২
পুকুরে রূপালি মাছের ঝলক, পাড়েই হাসছে সবুজ পেঁপে

সিরাজগঞ্জ: পুকুরে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে রূপালি রুই-কাতলা-মৃগেল। আর পুকুর পাড়ের গাছে গাছে ঝুলছে গাঢ় সবুজ রঙের পেঁপের থোকা।

এমন ফলনে যেন সম্ভাবনার স্বপ্নের ডাক পাচ্ছেন তরুণ গণমাধ্যমকর্মী আব্দুর রাজ্জাক রাজ।

সিরাজগঞ্জ কামারখন্দ উপজেলার কোনাবাড়ী গ্রামের আলম মণ্ডলের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক রাজ একটি জাতীয় দৈনিকের উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সরকারি পুকুর ইজারা নিয়ে করছেন মাছ চাষ। আর সেই সঙ্গে পুকুর পাড়ে রোপণ করেছেন পেঁপে গাছ।

সরেজমিনে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ সড়কের কোনাবাড়ী এলাকায় সেতু কর্তৃপক্ষের ছয়টি পুকুর ছয় লাখ টাকায় ইজারা নেন রাজ্জাক রাজ। ওইসব পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেল, গ্রাস কার্প, সরপুঁটি, সিলভার কার্প, গোলশা, টেংরাসহ বিভিন্ন জাতের মাছ চাষ করছেন তিনি। আর পুকুরের পাড় ঘেষে রোপণ করেছেন ৫০০টি পেঁপে গাছের চারা।

বছর ঘুরতেই পুকুরে লাফিয়ে খেলছে মাছ, পাড়ে থোকায় থোকায় হাসছে গাঢ় সবুজ রঙের পেঁপে। মাছ আর পেঁপের এমন ফলনে কৃষক-সাংবাদিক রাজের মুখেও ফুটেছে সফলতা ও সম্ভাবনার হাসি।

রাজ্জাক রাজ বলেন, দুই বন্ধু মিলে ১২ লাখ টাকায় ছয়টি পুকুর লিজ নেই। এর মধ্যে ছয় লাখ টাকা ছিল আমার। আর মাছের পোনা, খাবার ও রক্ষণাবেক্ষণসহ সব মিলিয়ে ১৩-১৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে একেক জনের।

পুকুরে অনেক মাছ বড় হয়ে গেছে। এখন সেগুলো বিক্রি করলে একাই ২০-২২ লাখ টাকা পাবো। এতে ৮-১০ লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি।

রাজ আরও বলেন, পুকুর ইজারা নেওয়ার বেশ কিছুদিন পরে মনে হয়েছে যে পাড়ে তো আরও কিছু চাষ করা যায়। তাই কামারখন্দ উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে পুকুরের পাড় ঘেষে ৫০০টি পেঁপে গাছের চারা রোপণ করি। শুষ্ক মৌসুমে কিছু গাছ মারা যাওয়ায় এখন ৩৫০টির মতো গাছ আছে। আর এগুলোর শতকরা ৭০ ভাগ গাছে ফল এসেছে। পুরুষ গাছ ছাড়া বাকি ২৫০টির মতো গাছে থোকায় থোকায় ধরেছে পেঁপে।

পেঁপের চারা রোপণ থেকে শুরু করে ফল আসার আগ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। এখন প্রতিটা গাছে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ কেজি পেঁপে পাওয়া যাবে। এগুলো কাঁচা বিক্রি করলেও এক-দেড় লাখ টাকা আয় হবে বলেও জানান তিনি।

কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত বলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে মাছ চাষের পাশাপাশি পেঁপের চাষ করছেন অনেকে। এতে তারা এলাকার পুষ্টি চাহিদা মেটাচ্ছেন অনেকটাই।  

এছাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পুকুর মালিকদের পাড়ের পতিত জমিতে সবজি চাষে সব ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪৩ ঘণ্টা, মে ২৭, ২০২২
এফআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa