ঢাকা, বুধবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৬ শাবান ১৪৪৬

রাজনীতি

ছাত্রশিবিরের আলোচিত তিন নেতা নতুন দলে থাকছেন না 

ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬০০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫
ছাত্রশিবিরের আলোচিত তিন নেতা নতুন দলে থাকছেন না 

ঢাকা: ছাত্রশিবিরের সাবেক আলোচিত তিন নেতা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতৃত্বে হওয়া নতুন দলে যোগ দিচ্ছেন না।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পৃথক পোস্টে তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ হিসেবে গত ৮ সেপ্টেম্বর গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটিতে বিভিন্ন মতধারার সাবেক নেতারা ছিলেন। তাদের মধ্যে ছাত্রশিবিরের সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি থেকে শুরু করে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক নেতা, গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির নেতাসহ ডান, বাম ও মধ্যমপন্থি ধারার নেতারা ছিলেন। এছাড়া অভ্যুত্থানের সময় সক্রিয় ভূমিকা রাখা সাংবাদিক, লেখক, অ্যাক্টিভিস্টরা যুক্ত ছিলেন।

ফলে শেষ সময়ে বিভিন্ন বলয় থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব জায়গা করে নেওয়ার একটা চেষ্টা সংগঠনে দেখা যায়। সংগঠনের শেষদিকে শীর্ষ পদে কারা থাকবেন, তা নিয়ে টানাপোড়েনও তৈরি হয়। এ টানাপোড়েন শেষে গড়ায় ফেসবুকে। ফেসবুকে বিভিন্ন ধারার নেতারা অভ্যুত্থানের সময় নিজেদের অবদান তুলে ধরে পোস্ট করেন।  

সেসময় গুঞ্জন ওঠে শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি আলী আহসান জুনায়েদ নতুন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে আসতে যাচ্ছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, ‘নতুন দলে তিনি যোগ দিচ্ছেন না। ’

দলে যোগ না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘২৮ ফেব্রুয়ারি তরুণদের নেতৃত্বে যেই নতুন রাজনৈতিক দলটি আসছে, সেখানে আমি থাকছি না। সে কথা আমি আরও সপ্তাহখানেক আগেই জানিয়েছি দলের নেতাদের। বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে ও জাতির নজর নতুন দলের ওপর নিবদ্ধ রাখতে নীরবতা বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু, চারপাশের গুঞ্জন থামছে না। তাই, স্পষ্ট করে রাখছি। ’ 

নতুন দলের বিষয়ে তিনি বলেন, বারবার বলার পরও যদিও হয়নি, তবুও চাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার যথাযথ অনুসরণ ও ইনক্লুসিভনেস এ দলের বৈশিষ্ট্য হোক। দুঃখজনক বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার পরও ট্যাগিং ও ট্যাবুর রাজনীতি থেকে মুক্ত হয়ে নতুন ধারার রাজনীতি এ দলের মাধ্যমে শুরু হোক এই প্রত্যাশাই করি। আশা করি, অভ্যুত্থানের সময়ে আমাদের মধ্যে যেই ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও সহযোগিতার সম্পর্ক ছিল, নতুন রাজনৈতিক পথচলায়ও আমাদের পারস্পরিক এ সম্পর্ক ও শ্রদ্ধাবোধ অপরিবর্তিত থাকবে।  

আলী আহসান জুনায়েদের ঘোষণার পরপরই দলে না থাকার ঘোষণা দেন শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সাবেক আরেক সভাপতি রাফে সালমান রিফাত।

তিনি এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘২৮ তারিখে ঘোষিত হতে যাওয়া নতুন রাজনৈতিক দলে আমিও থাকছি না। তবে আমার রাজনৈতিক পথচলা থেমে থাকবে না। ’ 

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতি একটা লম্বা রেইস। ধৈর্য নিয়ে লম্বা সময়ের জন্যই আমাদের এ রেইসে টিকে থাকতে হবে। আমরা নতুন সেই বাংলাদেশের প্রত্যাশি যেটা হবে সত্যিকার অর্থেই ডেমোক্রেটিক, ইনক্লুসিভ, বৈষম্যহীন এবং আধিপত্য মুক্ত। ঐক্যবদ্ধতা ও মধ্যমপন্থাই হবে আমাদের শক্তি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের জিহাদ চলবে। আঞ্চলিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও আমাদের লড়াই চলবে। বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য আমরা জান দিয়ে লড়ব। ’ 

এর আগে অতীতে শিবির সংশ্লিষ্টতার কারণেই শীর্ষ নেতৃত্বে সাবেক শিবির নেতাদের কাউকে রাখা হচ্ছে না– এমন অভিযোগ তুলে ইতোমধ্যে জানাকের সহমুখপাত্র পদ ছেড়েছেন সাবেক শিবির নেতা আরেফিন মোহাম্মদ হিযবুল্লাহ।  

এদিকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে বর্তমানে চীন সফরে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ ও যুগ্ম সদস্যসচিব রাফে সালমান রিফাত। ফলে তারা নতুন দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানেও থাকছেন না।

বাংলাদেশ সময়: ১৬০০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫
এফএইচ/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।