ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ মাঘ ১৪২৮, ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

প্রবাসে বাংলাদেশ

লন্ডনে বৈশাখী মেলার নামে আদম পাচার: গ্রেফতার ১৯

সৈয়দ আনাস পাশা, লন্ডন করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৩৭ ঘণ্টা, মে ২৯, ২০১২
লন্ডনে বৈশাখী মেলার নামে আদম পাচার: গ্রেফতার ১৯

লন্ডন : ইউরোপের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ উৎসব লন্ডনের বৈশাখী মেলাকে পুঁজি করে আদম পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ব্রিটেনের বাঙালি কমিউনিটিগুলোতে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা।



বৈশাখী মেলার ডেভোলাপার কোম্পানির কর্মী সাজিয়ে ভিজিটর ভিসায় লন্ডন নিয়ে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের ব্রিটিশ দূতাবাসে গ্রেফতার হয়েছে ১৯ বাঙালি। দূতাবাসে নিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ভিএসএফ’র কাছে তারা ধরা পড়ে।

বৈশাখী মেলার স্পন্সরশিপ নিয়ে ভিসা আবেদনকারী এসব আটককৃতদের সম্প্রতি গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এদেরকে ইতোমধ্যে কারাগারেও পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত ১৯ জন ছাড়া আরও ২৮ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ব্রিটেনের ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বৈশাখী মেলার এক্সপ্রোতে ১৪টি ডেভোলাপার কোম্পানির অধীনে কর্মচারী সাজিয়ে মোট ৪৭ জনকে লন্ডনে নিয়ে আসার অপচেষ্টা হয়।

তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, বৈশাখী মেলা আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজসে ব্রিকলেনের একজন অসৎ কার্গো ব্যবসায়ী এ আদম পাচারের মূল হোতা। এমনটাই অভিযোগ তুলেছেন আটককৃতদের লন্ডনে বসবাসরত আত্মীয়-স্বজন।

তারা জানান, সেই ব্যবসায়ী শুক্রবার রাতে ফ্লাইটে করে বাংলাদেশ থেকে লন্ডনে চলে এসেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে লন্ডন আনার জন্য ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে ৫ লাখ টাকায় চুক্তি করেছিলাম। তাকে দেড় লাখ টাকা অগ্রিমও দিয়েছি। ’

এদিকে ক্ষতিগ্রস্থদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যেসব কাগজপত্র পাওয়া গেছে তার মধ্যে বৈশাখী মেলা ট্রাস্টের প্যাডে স্পন্সর লেটার রয়েছে। ১৪টি কোম্পানির নামে স্পন্সরশিপ লেটার ইস্যু করে এ আদম পাচারের ঘটনা সাজানো হয়।

এর মধ্যে অন্যতম প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- থ্রিডি হোমস লিমিটেড, ডাইনামিক এপার্টমেন্ট লিমিটেড, সেভেন স্টার হোল্ডিং লিমিটেড, অ্যাডভান্সড অ্যানভায়রোমেন্টাল লিমিটেড, মাই হোম লিমিটেড, বদরুল ইকবাল লিমিটেড, স্মোথ হাউজিং অ্যান্ড লিমিটেড।

এসব কোম্পানির অধীনে ৩ থেকে ৪ জন বাঙালিকে লন্ডন আনার প্রক্রিয়া করে প্রতারক চক্র। হোম অফিসের নীতিমালা অনুযায়ী এদের থাকার জন্য বুকিং ডটকমের মাধ্যমে মেলা প্রাঙ্গণ থেকে সাড়ে ৬ মাইল দূরত্ব বেইস ওয়াটারের ডিউক অফ লেইনস্টার হোটেলে রুম বুকিং দেওয়া হয়। যার মেয়াদ ১৭ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত।

প্রত্যেক আবেদনকারীর সঙ্গে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত চুক্তি করা হয় বলে জানান ক্ষতিগ্রস্থদের আত্মীয়-স্বজন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার নিক লো বলেন, আমরা প্রকৃত ভিজিটারদের সব সময় ব্রিটেনে ওয়েলকাম করে থাকি। কিন্তু মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য প্রদানের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন সিস্টেমের অপব্যবহার দুঃখজনক।

তিনি বলেন, যারা ব্রিটেন সফর করতে চান, তাদের এমন কোনো এজেন্টের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। তারা ভুয়া ডকুমেন্ট তৈরির মাধ্যমে ভিসাপ্রাপ্তির মিথ্যা নিশ্চয়তা প্রদান করে।

এদিকে ২০ মে মেলার একদিন পরই বৈশাখী মেলাকে ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করে যুক্তরাজ্য থেকে সম্প্রচারিত ২৪ ঘণ্টার রেডিও ‘বেতার বাংলা’।

বেতার বাংলার অভিযোগে বলা হয় মেলায় শিল্পী নির্বাচন থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি বিষয়ে দুর্নীতি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রত্যেক বছর মেলায় ৪/৫ জন বাংলাদেশের সেরা তারকা শিল্পীর উপস্থিতি থাকলেও এবারের মেলায় এসআই টুটুল ও লিজা ছাড়া আর কোনো তারকা শিল্পী অংশ নেননি। লন্ডনের বিখ্যাত শিল্পীদের বাদ দিয়ে
অপেশাদার অনেক শিল্পীকে দিয়ে গান গাওয়ানো হয়।

এদিকে মেলা ট্রাস্ট কমিটির চেয়ারম্যানের দাবি, কাউন্সিল থেকে ১৫০ হাজার পাউন্ড অনুদান দেওয়া হলেও মেলার পুরো বাজেট দু’লাখ চল্লিশ হাজার পাউন্ড। বাকি টাকা স্পন্সরশিপ ও নিজের পকেট থেকে দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৩২ ঘণ্টা, মে ২৯, ২০১২
সম্পাদনা: ওবায়দুল্লাহ সনি, নিউজরুম এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa