ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২১ মে ২০২৪, ১২ জিলকদ ১৪৪৫

প্রবাসে বাংলাদেশ

নারীর ক্ষমতায়নে হাসিনার ভূমিকার প্রশংসা কমনওয়েলথ মহাসচিবের

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯০৭ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৬, ২০১৬
নারীর ক্ষমতায়নে হাসিনার ভূমিকার প্রশংসা কমনওয়েলথ মহাসচিবের ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

আন্তর্জাতিক নারীবিরোধী সহিংসতা বর্জন দিবসে  নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকার প্রশংসা করলেন কমনওয়েলথ মহাসচিব পেট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড।

কমনওয়েলথ সদর দপ্তর, লন্ডন থেকে: আন্তর্জাতিক নারীবিরোধী সহিংসতা বর্জন দিবসে  নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকার প্রশংসা করলেন কমনওয়েলথ মহাসচিব পেট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড।

শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) লন্ডনে কমনওয়েলথ সদর দপ্তর মার্লবারা হাউসে বাংলানিউজের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার ফাঁকে কথা বলেন পেট্রিসিয়া। তার এ আলাপচারিতায় কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারীর বিরুদ্ধে অব্যাহত সহিংসতা নির্মূলে কমনওয়েলথ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।  

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্লানেট ৫০-৫০ অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার প্রসঙ্গ আলোচনা করতে গিয়ে পেট্রিসিয়া বলেন, নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে শেখ হাসিনা পুরস্কার পাওয়ায় আমি আনন্দিত। ভালো কাজের স্বীকৃতি সবারই পাওয়া উচিত। এই স্বীকৃতি শুধু নারী নেতৃত্ব নয়, পুরুষ নেতৃত্বও পাবেন।

তিনি বলেন, আমাদের থেমে থাকলে চলবে না, অভ্যন্তরীণই হোক বা বাইরেই হোক, সমাজের সব স্তর থেকে নারীবিরোধী সহিংসতা নির্মূলে কাজ করতে হবে। এ ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে সবাইকে।

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাফল্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে কমনওয়েলথ মহাসচিব বলেন, বিরোধীদলীয় নেত্রী, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী নারী, বাংলাদেশের এ অর্জন সবার জন্য উদাহরণ।

ব্রিটেনে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইনের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক সাক্ষাতের কথাও এ প্রতিবেদককে জানান কমনওয়েলথ মহাসচিব। বলেন, তার সঙ্গে কথা বলে ভালো লেগেছে।

কমনওয়েলথের দৃষ্টিতে বাংলাদেশে নারী ও শিশু সহিংসতার প্রবণতা কেমন জানতে চাইলে কমনওয়েলথ মহাসচিব বলেন, সমস্যাটি একক কোনো দেশের নয়, এটি বৈশ্বিক সমস্যা। বিশ্বে এমন কোনো দেশ নেই যেখানে অভ্যন্তরীণ সহিংসতা নেই।

২০১৫ সালের কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সম্মেলনে এ সমস্যা নির্মূলে সবাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন মন্তব্য করে মহাসচিব বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও প্রমোশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান খুবই আশাব্যঞ্জক।

পেট্রিসিয়া বলেন, একটি স্পন্দনশীল সমাজের স্বার্থেই পুরুষের পাশাপাশি সমভাবে নারীকে ভূমিকা রাখার সুযোগ দিতে হবে। উপযুক্ত স্থানে পুরুষের পাশাপাশি নারীর অবস্থান, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও খুবই জরুরি।

তিনি নিজে যতদিন মহাসচিবের দায়িত্বে আছেন, নারীবিরোধী সহিংসতা অবসানে সমাজের প্রতিটি অংশকে ঐক্যবদ্ধ করতে অন্ততপক্ষে ততদিন প্রতিবছর এ দিনটি উদযাপন করার চেষ্টা করবে কমনওয়েলথ। জানালেন পেট্রিসিয়া।

এই ইস্যুতে প্রচারণা অব্যাহত রাখতে আগামী বছর মার্চ মাসকে 'নারীবিরোধী সহিংসতা অবসান মাস' ঘোষণা দেয়ার কমনওয়েলথ পরিকল্পনার কথাও এসময় বাংলানিউজকে জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমরা নারীবিরোধী সহিংসতা নির্মূল ক্যাম্পেইনই শুধু উদযাপন করতে চাই না, এ সমস্যার পুরোপুরি অবসানও সেলিব্রেট করতে চাই।

আন্তর্জাতিক নারীবিরোধী সহিংসতা বর্জন দিবসে নারীবিরোধী সহিংসতা নির্মূলের লক্ষ্যে মাল্টিসেক্টর উদ্যোগ নিচ্ছে কমনওয়েলথ। এ ইস্যু মোকাবেলায় লিগ্যাল, এডুকেশন, হেলথ, রিসোর্সসহ প্রতিটি সেক্টরের যৌথ উদ্যোগ বিষয়ে পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে এ দিবসে।

কমনওয়েলথ মহাসচিব বলেন, নারীবিরোধী সহিংসতা অবসানে সম্ভব সবকিছু করতে হবে আমাদের। ফোর্স ম্যারেজ ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের কাজ করতে হবে।

পেট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড বলেন, গবেষণা রিপোর্টের তথ্যমতে জিডিপি'র ১০ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট হয় এসব কারণে। ঐক্যবদ্ধভাবে পার্টনারশিপে কাজ করলে এমন সমস্যা মোকাবিলা সহজ হয়।

মন্ত্রী থাকাকালীন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলোকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করায় প্রায় ৬৪ শতাংশ সহিংসতা কমতে দেখেছেন বলেও জানান পেট্রিসিয়া।

বাংলাদেশ সময়: ০০৫১ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৭, ২০১৬
এএ

 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।