ঢাকা, সোমবার, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯, ০৮ আগস্ট ২০২২, ০৯ মহররম ১৪৪৪

তারার ফুল

‘প্রতিটি কাজই আমার কাছে নেশার মতো’

তৃণা শর্মা, প্রদায়ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১৪৩ ঘণ্টা, এপ্রিল ১২, ২০১৬
‘প্রতিটি কাজই আমার কাছে নেশার মতো’ ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ উপলক্ষে (১৩ ও ১৪ এপ্রিল) চ্যানেল আই ও সুরের ধারা যৌথভাবে ‘হাজারও কন্ঠে বর্ষবরণ ১৪২৩’ অনুষ্ঠান করবে। ১১ এপ্রিল চ্যানেল আই কার্যালয়ে এ নিয়ে হয়ে গেলো সংবাদ সম্মেলন।

কেমন হবে এই আয়োজন? সুরের ধারার সভাপতি ও বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার মুখেই শুনুন বিস্তারিত। পড়ুন তার সাক্ষাৎকার-

বাংলানিউজ : এবার নাটকের গান নির্বাচন করার বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য আছে?
রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা :
বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান প্রতি বছরই নতুনভাবে সাজানো হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। গত বছরের অনুষ্ঠানগুলো সাজানো হয়েছিলো মাটির গান, দেশের গান, ঋতুর গান, উৎসবের গান দিয়ে। আমারা বাঙালিরা গান প্রিয় তাই এবারের আয়োজনে থাকবে নাটকের গান। নাটকের গানেও বিশেষত্ব আছে নিশ্চয়ই!  

বাংলানিউজ : বর্ষবিদায়ের আয়োজন কীভাবে সাজিয়েছেন?
রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা :
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সন্ধ্যা ৬ টা থেকে শুরু হয়ে অনুষ্ঠান চলবে মাঝ রাত পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে থাকবে বিভিন্ন সংগঠনের নাটক ও গানের পরিবেশনা। তালিকায় আছে যাত্রা গান, পালা গান, ময়মনসিংহ গীতি, মঙ্গলকাব্য, শিশুদের জন্য নাটক। এরপর থাকবে বাউল গান।  

বাংলানিউজ : এতে কারা কারা অংশগ্রহণ করবেন?
রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা :
বর্ষবিদায়ের অনুষ্ঠানে সুরের ধারার সংঠনের শিল্পীরা অংশগ্রহণ করবেন। আর বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করবে হাজার শিল্পীদের সাথে দেশের স্বনামধন্য শিল্পীরা।     

বাংলানিউজ : ২০০১ সাল থেকে চৈত্রসংক্রান্তি তথা বর্ষবিদায় উদযাপন করে আসছে সুরের ধারা। সে হিসেবে আপনাদের এ উদ্যোগের ১৫ বছর পূর্তি হচ্ছে এবার। এই দীর্ঘ সময়ে দর্শকদের মধ্যে কি কোনো পরিবর্তন দেখেছেন?
রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা :
শুরুতে বর্ষবিদায়ের অনুষ্ঠান এতো গ্রহণযোগ্য ছিলো না। এটি মূলত গ্রামীন অনুষ্ঠান। গ্রামে অনুষ্ঠানটি শুরু হতো পহেলা বৈশাখের আগের দিন রাত থেকে। আমাদের ভাবনা এসেছে ওখান থেকেই। প্রথম দিকে বর্ষবিদায় ব্যাপারটি হাতে গোনা কিছু মানুষ পালন করতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা বর্ষবরণের মতো করেই বর্ষবিদায় অনুষ্ঠানের দর্শক সমাগম লক্ষ করছি। বর্ষবিদায়ের অনুষ্ঠান নিয়ে তাদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রাণিত করে।      

বাংলানিউজ : নতুন প্রজন্মের মধ্যে কেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখেন?
রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা :
বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে সকল বয়সের মানুষের মধ্যে আগ্রহ থাকে। নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ বেশি। এবার যারা হাজারও কন্ঠের গানে অংশগ্রহন করছেন, তারা সবাই নতুন প্রজন্মের।


বাংলানিউজ : হাজারও কণ্ঠে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি এবার সাজিয়েছেন কীভাবে?
রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা :
বর্ষবরণের অনুষ্ঠানটি শুরু হবে পহেলা বৈশাখের দিন ভোর ৫টা ৫০ মিনিট থেকে। এবারের অনুষ্ঠানে গানে গানে ‘মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও কল্যান’ এই বার্তাই দেওয়া হবে। ‘হাজারও কন্ঠে বর্ষবরণ’ অনুষ্ঠান সংগীত পরিবেশন করবেন সুরের ধারার শিল্পী ছাড়াও ৬৪ জেলা থেকে আগত শিল্পীরা। অনুষ্ঠান শুরু হবে নতুন সূর্যোদয় ও নতুন উদ্দীপনার গান দিয়ে। এর সঙ্গে থাকবে পঞ্চকবির গান ও দেশের মানুষের গান।

বাংলানিউজ : বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের আয়োজন নিয়ে আপনি বেশ ব্যস্ত। এতো  স্পৃহা পান কোথায়?
রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা :
প্রতিটি কাজ আমার কাছে নেশার মতো মনে হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রতিটি পর্বের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা প্রশিক্ষক। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ছেলে মেয়েরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছে, সেটাই আমার স্পৃহা। এসব দেখার পর আসলে এত পরিশ্রমেও ক্লান্তি আসে না।       

বাংলাদেশ সময় : ১১৩৮ ঘণ্টা, এপ্রিল ১২, ২০১৬
টিএস/জেএইচ/এসও

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa