ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ বৈশাখ ১৪৩১, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৫

ভারত

‘বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতা বাঙালির স্বাধীনতা এনে দিয়েছে’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৫৯ ঘণ্টা, মার্চ ৩০, ২০২৩
‘বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতা বাঙালির স্বাধীনতা এনে দিয়েছে’

কলকাতা: বাংলাদেশের ৫২তম স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বুধবার (২৯ মার্চ) একটু ভিন্নভাবে সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন। শহরের এক পাঁচতারা হোটেলে উপ দূতাবাসের আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্টরা।

উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা এবং কলকাতার বুদ্ধিজীবী ও ভারতের সাংবাদিকরা। বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এসময় মঞ্চে ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যানপালন বিভাগ অতিরিক্ত মুখ্য সচিব ড. সুব্রত গুহ।

স্বাগত বক্তেব্যে ডেপুটি হাইকমিশনার বলেন, এই আনন্দের উপলক্ষে, আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যিনি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে আমাদের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। তার দূরদর্শিতায় বাঙালি জাতিকে কাঙ্খিত স্বাধীনতার দিকে নিয়ে গেছে। ত্রিশ লাখ শহীদ, দুই লাখ বীরাঙ্গনা এবং লাল ও সবুজের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সার্বভৌমতাই পরিচয়ের প্রতীক। আমি গভীর এবং কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি আমাদের বিদেশি বন্ধুদের যারা আমাদের মুক্তির লক্ষ্যে তাদের সর্বাত্মক সমর্থন ও সহযোগিতা প্রসারিত করেছিলেন। বিশেষভাবে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ভারতের জনগণ এবং সরকারকে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে, যারা ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের কঠিন সময়ে আমাদের অপ্রতিরোধ্য সমর্থন দিয়েছিলেন।

আজ আমরা আমাদের গৌরবময় স্বাধীনতার বার্ষিকী উদযাপন করছি। বিগত ৫২ বছরে বাংলাদেশের রূপান্তরমূলক পরিবর্তন এবং আর্থ-সামাজিক অর্জন সম্পর্কে গর্ব করে কথা বলার কারণ রয়েছে। ফিনিক্সের মতো ছাই থেকে উঠে আসা বাংলাদেশ গত পাঁচ দশকে কঠিন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেছে। জাতির পিতার কন্যা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০০৯ সাল থেকে টেকসই উন্নয়নের ঈর্ষণীয় পথে যাত্রা করছে। বিশ্বব্যাপী একটি ‘উন্নয়ন মিরাকল’ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে, দেশে দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা, সার্বজনীন শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সব ধরনের চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বৈশ্বিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রশংসা অর্জন করেছে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি। আইএমএফের তথ্য মতে, জিডিপির পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ এখন ৪১তম বৃহত্তম অর্থনীতি এবং আমরা ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের ২৫তম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হব। এমনকি মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রসারিত হয়েছে ৬ দশমিক শতাংশ।

আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র, বঙ্গবন্ধুর তৈরি, ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বিদ্বেষ নয়। ’ বঙ্গবন্ধুর দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা মানবতায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। ভারতকে আমাদের বন্ধু এবং সহযাত্রী হিসেবে পেয়ে আমরা আনন্দিত ও সম্মানিত।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৫৭ ঘণ্টা, মার্চ ৩০, ২০২৩
ভিএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
welcome-ad