ঢাকা, সোমবার, ১৬ চৈত্র ১৪৩১, ৩১ মার্চ ২০২৫, ০০ শাওয়াল ১৪৪৬

ভারত

ভারতে গিয়ে ‘হয়রানির শিকার’, ছেলেকে ছাড়াই দেশে ফেরেন বাংলাদেশি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১৩২ ঘণ্টা, মার্চ ২৭, ২০২৫
ভারতে গিয়ে ‘হয়রানির শিকার’, ছেলেকে ছাড়াই দেশে ফেরেন বাংলাদেশি আজাদুর রহমানকে নিরাপত্তা দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়

কলকাতা: ভারতে এসে ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হয়রানির মুখে পড়েন এক বাংলাদেশি নাগরিক। অবশেষে ছেলেকে ছাড়াই দেশে ফিরতে হয়েছে তাকে।

যদিও ভারতীয়দের অভিযোগ, ভারতের নামে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের কারণে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে তাকে। এই ঘটনার ভিডিও সামনে এসেছে। তার ওই ভিডিওতে বাংলাদেশিটিকে স্পষ্ট বলতে শোনা যাচ্ছে, তাকে মিথ্যা হয়রানি করা হয়েছে।  

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার চ্যাংড়াবান্দা সীমান্ত এলাকায়।

বাংলাদেশি ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আজাদুর রহমান। তিনি মাগুরার হাজীপুরের বাসিন্দা। তার ছেলে পশ্চিমবঙ্গের কার্শিওং জেলার একটি বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে। মূলত ছেলের সঙ্গে দেখা করে, ঈদের আগে ছেলেকে দেশে নিয়ে যেতেই ভারতে এসেছিলেন আজাদুর। সেই মোতাবেক মঙ্গলবার সকালে বৈধ ভিসা-পাসপোর্ট নিয়ে চ্যাংড়াবান্ধা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন আজাদুর। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে শিলিগুড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা তিনি। কিন্তু ভাড়া নিয়ে ওই ক্যাবচালকের সঙ্গে মতবিরোধ হয়। পরে অপর একটি গাড়িতে উঠে পড়েন তিনি।

গাড়িচালকের দাবি, গাড়িতে উঠেই ভারত সম্পর্কে কটূ মন্তব্য করেন আজাদুর। এরপরই নাকি ওই গাড়িচালক তাকে নামিয়ে দেন। এরপরই ওই হট্টগোলে স্থানীয়দের ভিড় জমতে শুরু করে। পরে আজাদুর ঠিক করেন, ব্যাটারিচালিত সিএনজি করে প্রথমে ভিআইপি মোড়ে যাবেন এবং সেখান থেকে বাসে ধরে শিলিগুড়ি। কিন্তু সেই সিএনজিচালক তাকে নিতে অস্বীকার করেন।

এরপর ট্রলি হাতে হেঁটে স্থলবন্দর থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে ভিআইপি মোড়ে পৌঁছন আজাদুর। আর তখনই বেশ কিছু মানুষ তার পেছন পেছন হাঁটতে শুরু করেন, কেউ কেউ আবার পেছন থেকে ওই দৃশ্য নিজেদের মোবাইলেফোনের ক্যামেরায় বন্দি করেন। একসময় ভিআইপি মোড়ে পৌঁছতেই আজাদুরকে ঘিরে ধরে ভারতবিরোধী মন্তব্য করার প্রতিবাদ করেন তারা। তবে আজাদুরকে বলতে শোনা যায়, তিনি এমন কিছু বলেননি, তাকে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে।

কোনো গাড়ি না পেয়ে ট্রলি হাতে হেঁটেই গন্তব্যের দিকে যাচ্ছেন মোহাম্মদ আজাদুর রহমান

মুহূর্তের মধ্যেই খবর যায় স্থানীয় মেখলিগঞ্জ থানায়। এরপর পুলিশ এসে ওই ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যায়। তখনও স্থানীয় মানুষজন ওই বাংলাদেশি নাগরিকের ভারতবিরোধী মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখায় পাশাপাশি এই ঘটনায় ওই বাংলাদেশি নাগরিককে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তোলেন।  
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আজাদুরকে চ্যাংড়াবান্দা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে দিয়ে আসে পুলিশ। এবং সেখান থেকেই মঙ্গলবার দুপুর ২ টা ১৫ মিনিটে আজাদুরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে ছেলেকে ছাড়াই দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হন আজাদুর। যদিও ভারত ছাড়ার আগে চাপে পড়ে ক্ষমা চেয়ে নেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।

কোচবিহার জেলার পুলিশ সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মঙ্গলবার সকালের দিকে ওই বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে প্রবেশ করেন। এরপরই স্থলবন্দরের কাছেই ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে গোলমাল পাকানোর খবর আসে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহলরত ভ্যান ঘটনাস্থলে পৌঁছ ওই ব্যক্তিকে থানায় দিয়ে আসে। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তিকে ইমিগ্রেশন দপ্তরের কর্মকর্তাদের হাতে হস্তান্তর করা হয় যাতে তিনি সুষ্ঠুভাবে বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারেন।

জেলার অন্য এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, অনেকেই ওই ঘটনার লাইভ ভিডিও করছিলেন, ফলে তিনি যদি কার্শিওং-এ পৌঁছাতেন সেক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে পারতেন। স্বাভাবিকভাবেই তার নিরাপত্তার কারণে তাকে ফের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী আজাদুরকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভের বেশ কয়েকটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছে। যদিও ক্যামেরার সামনেই আজাদুরকে বলতে শোনা যায়, আমি গাড়ি ভাড়া করিনি বলে আপনারা মিথ্যা রটনা করছেন। অন্য আরেকটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায় এখানে আমার কিছুই বলার নেই।

মুন্না দাস নামে স্থানীয় বাসিন্দা বলেছেন, উনি শিলিগুড়ি যাবেন বলে গাড়ি ঠিক করার জন্য এসেছিলেন। কিন্তু গাড়ি পাচ্ছিল না। তারপর যে গাড়ি পান তার চালকের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেন। তখন আমাদের দেশকে গালিগালাজ করেন। সেই সময়ই আমরা ওনাকে ধরেছিলাম।

বাংলাদেশ সময়: ১১২৪ ঘণ্টা, মার্চ ২৭, ২০২৫
ভিএস/এসএএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।