ঢাকা, সোমবার, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

তথ্যপ্রযুক্তি

মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন-গেমসে কর্মসংস্থান

মফিজুল ‍সাদিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২৫০ ঘণ্টা, নভেম্বর ৩, ২০১৫
মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন-গেমসে কর্মসংস্থান

ঢাকা: মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ও গেমস উন্নয়নে বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতা করার জন্য বাংলাদেশকে আরও প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে এ খাতে বিশ্ববাজারে মার্কেট লিংকেজ এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চায় সরকার।


 
এ লক্ষ্যে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ও গেমস অ্যাপস বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ। পুরো বাংলাদেশে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং গেমস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানিগুলোর সুষম উন্নয়ন করবে এ বিভাগ। যাতে মোবাইল অ্যাপস ও গেম ব্যবহারে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) বাড়ানো যায়।
 
লক্ষ্য অর্জনে এই প্রথম ‘মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ও গেম শিল্পের দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে আইসিটি বিভাগ। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮৯ কোটি ৯ লাখ টাকা।

২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে  ২০১৮ সালের জুন মেয়াদে সারাদেশে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে আইসিটি বিভাগ।
 
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের দেশের তরুণরা অনেক মেধাবী। একটু প্রশিক্ষণ দিলেই তরুণরা সব কিছু অর্জন করতে পারেন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে অ্যাপস ও গেমস তৈরির বিষয়ে তরুণদের বিভিন্ন ধরনের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এতে করে তরুণরা খুঁজে পাবেন নতুন নতুন কর্মসংস্থান।
 
তিনি আরও বলেন, এর আগে তরুণদের স্বল্প পরিসরে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রায় ৬০০ অ্যাপস তৈরি করা হয়েছে। এখন তারা স্বাবলম্বী, নিজেরাই উপার্জনের পথ খুঁজে নিয়েছেন। প্রকল্পটি দেশব্যাপী বাস্তবায়িত হলে মেধাবী তরুণরা নতুন নতুন অ্যাপস তৈরি করতে পারবেন।

প্রতিনিয়তই দেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এর পাশাপাশি মোবাইল ফোন নিয়ে তরুণদের কৌতুহলের যেন অন্ত নেই বলেও মন্তব্য করেন শ্যাম সুন্দর সিকদার।
 
প্রকল্পের প্রস্তাবিত মূল কার্যক্রম
সাতটি বিভাগীয় শহরে অ্যাপস ও গেম উন্নয়ন একাডেমি স্থাপন, জেলাভিত্তিক স্থানীয় ইনস্টিটিউট স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ৩০টি মোবাইল অ্যাপস এবং ট্রেনিং পয়েন্ট নির্মাণ, অ্যাপ্লিকেশন-গেমস উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতে দুই হাজার অ্যাপস, ৪০০ এন্টারপ্রাইজ অ্যাপস, পাঠ্য বইয়ের জন্য দেড় হাজার অ্যাপস এবং ৮০০ গেমস তৈরি করা হবে প্রকল্পের আওতায়।
 
অন্যদিকে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং গেমস বিষয়ে ৫২৫ জনকে প্রশিক্ষক, আট হাজার ৭৫০ জনকে মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপার, দুই হাজার ৮০০ জনকে গেমস অ্যানিমেটর, দুই হাজার ৮০০ জনকে গেমস ডিজাইনার ও এক হাজার ৭৫০ জনকে অ্যাপস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
 
এছাড়া দুই হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম, আন্তর্জাতিক মোবাইল অ্যাপস এক্সপোজিশন ও বিভাগীয় শহরে মোবাইল অ্যাপস ও গেমস এক্সপোজিশন আয়োজন করা হবে। বিভিন্ন কারণে এসব প্রকল্প জরুরি ভিত্তিতে হাতে নেওয়া হচ্ছে বলে জানায় আইসিটি বিভাগ।
 
আইসিটি বিভাগ আরো জানায়, বিগত বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপী মোবাইল বাজারের নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়ন ঘটেছে। নিকট ভবিষ্যতে শিল্পটির উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার বিশাল একটি অংশ যুব সম্প্রদায়।

দশ কোটি (একশ’ মিলিয়ন) মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর কারণে আইটি বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, মোবাইল অ্যাপস উন্নয়নে এ দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে।
 
দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ
২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে ৬ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন (৬৮৪ কোটি) সিম ব্যবহৃত হওয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও অপরিহার্য যোগাযোগ মাধ্যম হয়েছে মোবাইল ফোন।

অন্যদিকে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মোবাইল নিবন্ধনকারীর সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বাদশ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে মোট মোবাইল সিম নিবন্ধনকারীরর সংখ্যা ১০ কোটি ১২ লাখ (১০১ দশমিক ২০৫ মিলিয়ন), যা প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। পুরো বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও মোবাইল ফোনই হচ্ছে তথ্য আদান-প্রদান বা বিনোদন পরিবেশনের জন্য একমাত্র বড় মাধ্যম।
 
মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বাড়ছে
বাংলাদেশে বর্তমানে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা তিন কোটি (৩০ মিলিয়ন) ছাড়িয়েছে। মোবাইল ফোনকে যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার পাশাপাশি এর বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহারও পৃথিবীব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

২০১২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মানুষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করেছেন। প্রতিবছর তা ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ  হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
 
আইসিটি বিভাগ সূত্র আরও জানায়, ২০১৭ সালে সারা বিশ্বে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ছাড়াবে। এর মধ্যে বেশিরভাগ ব্যবহারকারী এশিয়া অঞ্চলে অবস্থান করবেন। বর্তমানে মোট মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে ১৭ শতাংশ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে থাকেন। পুরো বিশ্বে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ছে।
 
নতুন আর্থিক সম্ভাবনার দুয়ার খোলা
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার ঘিরে তথ্যপ্রযুক্তির একটি নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক বাজার তৈরি হওয়ায় নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গেমস, সংবাদ, সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিনোদনের জন্য নানা ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে শুধু মোবাইলকে ঘিরে। এর মাধ্যমে নতুন ধরনের ব্যাংকিং বা আর্থিক সেবার সুযোগও তৈরি হয়েছে। মোবাইল ফোন ব্যবহারের দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে দশম স্থানে অবস্থান করছে।

বাংলাদেশ সময়: ১২৪৯ ঘণ্টা, নভেম্বর ০৩,  ২০১৫
এমআইএস/জেডএস/এএসআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa