ঢাকা, শনিবার, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩ শাবান ১৪৪৫

ইসলাম

রাজশাহীতে ‘কুরআনের নূর’ অডিশনে ইয়েস কার্ড পেল ১১ হাফেজ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯২৯ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৫, ২০২৩
রাজশাহীতে ‘কুরআনের নূর’ অডিশনে ইয়েস কার্ড পেল ১১ হাফেজ ছবি: বাংলানিউজ

রাজশাহী: আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ‘কুরআনের নূর পাওয়ার্ড বাই বসুন্ধরা গ্রুপ’র রাজশাহী বিভাগের অডিশনে ইয়েস কার্ড পেয়েছে ১১ হাফেজ। এখান থেকে ১০ জন নেওয়ার কথা থাকলেও বিশেষ বিবেচনায় ১১ জনকে নেওয়া হয়েছে।

 

বাছাইয়ের শুরুতে ৫০ জনকে ইয়োলো কার্ড দিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও নেওয়া হয় ৫৩ জনকে। সেখান থেকে বাছাই করে ১১ জনকে ইয়েস কার্ড দেন বিচারকরা। তারা এবার ঢাকায় গিয়ে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মুসল্লি কমিটির আয়োজনে এবার চলছে ‘কুরআনের নূর’ এর দ্বিতীয় আসর।  

এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য রাজশাহী বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসে ক্ষুদে কুরআনে হাফেজরা। প্রতিযোগিতার রাজশাহী বিভাগের অডিশন পর্ব চলে মঙ্গলবার সারাদিন। এতে রেজিস্ট্রেশন করেছিল পাঁচ শতাধিক হাফেজ।

সকাল ৯টা থেকে রাজশাহী মহানগরীর মালোপাড়ায় দারুল উলুম মাদরাসা চত্বরে শুরু হয় রেজিস্ট্রেশন পর্ব। চারটি বুথে রেজিস্ট্রেশন করা হয় রাজশাহী বিভাগের কুরআনের পাখিদের। এরপর সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় অডিশন পর্ব। এ সময় ১৬ বছরের কম বয়সী হাফেজদের মিলনমেলায় পরিণত হয় মাদরাসা চত্বর।

রাজশাহীর রাজপাড়া থানার তানজিমুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসার ১২ বছর বয়সী হাফেজ আব্দুল্লাহ আল ফাহিম ও সাদমান হাফিজ সাদিক বলে, আন্তর্জাতিক এই কুরআন প্রতিযোগিতার জন্য তাদের শিক্ষক বিগত কিছুদিন থেকে দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। তাদের এ প্রতিযোগিতার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করেছেন। তাই আজ তারা সকালেই হাজির হয়েছে এই মাদরাসায়।

এদিন বাছাই পর্বে অংশ নেওয়া রাজশাহী বিভাগের পাঁচ শতাধিক হাফেজের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ের জন্য ১১ জনকে ইয়েস কার্ড দেন বিচারকরা। পবিত্র কুরআন শুদ্ধভাবে মুখস্থ, তাজবিদের অনুসরণ, কণ্ঠের মাধুর্য-এই বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়েই সেরা হাফেজ নির্বাচন করেন বিচারকরা।

প্রতিযোগিতার রাজশাহী বিভাগের অডিশনের সমন্বয়ক হাফেজ মাওলানা মো. ইকবাল হোসাইন হাবিবি জানান, ছয় জনের বিচারকমণ্ডলী এই প্রতিযোগিতার বাছাই পর্বে ছিলেন। তারা হলেন, হাফেজ মাওলানা সাইফুল ইসলাম, হাফেজ মোহাম্মদ শফিউল্লাহ, হাফেজ মাওলানা মুফতি ইয়াকুব আলী, হাফেজ মাওলানা জাকারিয়া হাবিবি, মুফতি মাওলানা আবদুস সবুর ও হাফেজ মাওলানা আবু সাঈদ।

এছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আহসান-উল-হক জিলানী এই পুরো অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, এবারের কুরআনের নূর প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ের প্রথম বিজয়ী হাফেজ পাবে ১০ লাখ টাকা ও সম্মাননা। দ্বিতীয় বিজয়ী পাবে সাত লাখ টাকা ও সম্মাননা। তৃতীয় পুরস্কার পাঁচ লাখ টাকা ও সম্মাননা। চতুর্থ ও পঞ্চম পুরস্কার দুই লাখ টাকা করে এবং সম্মাননা। এছাড়া ষষ্ঠ থেকে অষ্টম স্থান অর্জনকারী বাকি তিনজন পাবে এক লাখ টাকা করে আর্থিক পুরস্কার ও সম্মাননা। এবারও জাতীয় পর্যায়ের আট বিজয়ী, তাদের পরিবার ও ওস্তাদকে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব পাঠাবে বসুন্ধরা গ্রুপ।

অন্যদিকে প্রতিযোগিতার আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রথম বিজয়ী পাবে ১৫ লাখ টাকা ও সম্মাননা। দ্বিতীয় বিজয়ী পাবে ১০ লাখ টাকা ও সম্মাননা এবং তৃতীয় বিজয়ী পাবে পাঁচ লাখ টাকা ও সম্মাননা।

আরও পড়ুন>> রাজশাহীতে ‘কুরআনের নূর’ প্রতিযোগিতার অডিশন

বাংলাদেশ সময়: ১৯১৯ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৫, ২০২৩
এসএস/এইচএ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।