ঢাকা: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হচ্ছে না অভিযোগ করে ‘বিতর্কিত নির্বাচন’ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের।
সোমবার (০৪ এপ্রিল) দুপুরে বনানীর জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষে তিনি এ দাবি জানান।
তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচনে এ পর্যন্ত যা ঘটেছে তা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বলা যাবে না। নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের অনাস্থা ও অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ জায়গায় নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। নির্বাচনে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি।
অধিকাংশ জায়গায় প্রার্থী দিতে পারিনি স্বীকার করে কাদের বলেন, অধিকাংশ ইউনিয়নে যারা প্রার্থী হতে ইচ্ছুক ছিল, সরকারি দলের নেতাকর্মীদের দাপটে তারা প্রার্থী হতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
যেসব ইউনিয়নে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে সেখানেও সরকারি দলের নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি, পেশীশক্তির কারণে জয়ী হতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচিত চেয়ারম্যান, নেতাকর্মীর ওপর হামলা হয়েছে। আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করে বিতর্কিত নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো জবাব পাইনি।
তিনি বলেন, প্রতি ইউনিয়নে গড়ে যেখানে ৭ থেকে ৮ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী থাকে সেখানে এবার শতাধিক স্থানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার অদ্ভূত ঘটনা ঘটেছে।
বিতর্কিত নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচন এবং আগামীতে যেসব ইউপি নির্বাচন হবে তা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে কমিশনের প্রতি দাবি জানান তিনি।
জাতীয় পার্টি প্রথম ধাপে ৮টি ও দ্বিতীয় ধাপে ৫টি ইউপিতে জয়লাভ করেছে। দলটি সাংগঠনিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী হয়েছে বলে জানান তিনি।
নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু সরকারি দলের পেশীশক্তির কারণে জাতীয় পার্টি বেশি জয়লাভ করতে পারেনি। কারণ জাতীয় পার্টি কোনো সন্ত্রাসের রাজনীতি করে না।
নির্বাচন থেকে সরে আসবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তৃতীয় ধাপে নির্বাচন দেখে জাতীয় পার্টি সিদ্ধান্ত নেবে।
সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবুল হোসেন বাবলা, ফয়সল চিশতী, সুনীল শুভরায়, যুগ্ম মহাসচিব ইকবাল হোসেন রাজু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৪১২ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৪, ২০১৬
আরইউ/জেডএস