ঢাকা, বুধবার, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ইচ্ছেঘুড়ি

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস

শ্যাডো দ্য শিপ-ডগ | এনিড ব্লাইটন | অনুবাদ: সোহরাব সুমন (পর্ব ১৭)

অনুবাদ রচনা ~ ইচ্ছেঘুড়ি | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৪৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৫
শ্যাডো দ্য শিপ-ডগ | এনিড ব্লাইটন | অনুবাদ: সোহরাব সুমন (পর্ব ১৭)

এনিড ব্লাইটন (১৮৯৭-১৯৬৮)

ব্রিটিশ শিশু সাহিত্যিক এনিড মেরি ব্লাইটন ১৮৯৭ সালে দক্ষিণ লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। এনিড ব্লাইটন শিশুদের জন্য প্রচুর বই রচনা করেছেন।

তার চল্লিশ বছরের জীবন কালে তিনি প্রায় আটশ’রও বেশি বই লিখেছেন। লেখার বিষয় হিসেবে বেশির ভাগ সময়ই তিনি শিশুতোষ রোমাঞ্চ, রহস্য বা জাদু আশ্রয়ী কল্পনাকে বেছে নিয়ে ছিলেন।

তার উল্লেখযোগ্য গল্পসমূহ হলো: দ্য ফেমাস ফাইভ, দ্য সিক্রেট সেভেন, দ্য ফাইভ ফাইন্ড-কোয়াটার্স, নোডি, দ্য উইসিং চেয়ার, মালোরি টাওয়ার্স, এবং সেন্ট ক্লারে।

তার লেখা বইসমূহ সাংঘাতিক রকমের সফলতা অর্জন করে। এপর্যন্ত তার বই নব্বইটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তার বই আজও পাঠক সমাদৃত, এপর্যন্ত তার বইয়ের ছশ’ মিলিয়েনরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে।

ইনডেক্স ট্রান্সলেশনামের মতে ২০০৭ সালে ব্লাইটন বিশ্বের পঞ্চম জনপ্রিয় লেখক, তাদের এই তালিকায় লেনিনের পর এবং শেক্সপিয়েরের আগে ব্লাইটনের নাম ঠাঁই পায়। ১৯৬৮ সালে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

শ্যাডো দ্য শিপ-ডগ

এই বইয়ের গল্প খামারে জন্মানো শিপ-ডগ প্রজাতির এক কুকুর, শ্যাডোকে নিয়ে। খামারের শিপ-ডগ জেসির তিনটি বাচ্চা হয়। যার দুটি বিক্রি করে দেয়া হয়, পরে তৃতীয়টিকেও বিক্রি করা হয়, কিন্তু সেটি বারবার ফিরে আসায়, শেষ পর্যন্ত কৃষকের ছেলে জনিকে তা রাখবার অনুমতি দেয়া হয়, এই শর্তে যে খামারের অন্যান্য কুকুরদের মতোই তাকেও জীবিকার জন্য খামারে কাজ করতে হবে।

জনি তার এই কুকুরের নাম দেয় শ্যাডো। সব সময় সে ওর সঙ্গে থাকে। বাচ্চাটিকে সে নিজেই প্রশিক্ষণ দেয়। খামারের কুকুর জেসি বাড়ি, এর আশপাশ এবং উঠান পাহারা দেয়। টিঙ্কার, রাফে, ড্যান্ডি ভেড়া রাখার কাজ করে। ওরা সবাই শিপ-ডগ প্রজাতির কুকুর। রাখাল এন্ডি’র কুকুর বব শঙ্কর প্রজাতির হলেও তাকেও ভেড়া রাখার কাজ করতে হয়। খামারের সব কুকুরের কাছ থেকেও শ্যাডো বিভিন্নভাবে আরো অনেক কিছু শেখে। তারপর একদিন এমন সময় আসে, যখন শ্যাডোর এইসব দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, এবং সাহসিকতা জনির জীবন রক্ষায় বারবার কাজে আসে।



পর্ব ১৬ পড়তে ক্লিক করো


দশ. বিপদে পড়ল জনি

ক শনিবার। জনির স্কুলে তখন ছুটি চলছে। অন্য ছেলেদের সঙ্গে সে উঁচু পাহাড়ে বাদাম পাড়তে যাবে। ‘কিন্তু সম্ভবত তুমি ওখানে হেঁটে যেতে পারবে না!’ তার মা বলে।
‘আমি উইলের বাইকটা ধার করব। ’ জনি বলে। ‘আমি বাইকে করে উঠব। আমাকে যেতে দাও মা। খুব মজা হবে। ’

খবরের কাগজ পড়তে থাকা তার বাবা কাগজ থেকে চোখ সরিয়ে ওর দিকে তাকায়।

‘পাহাড়ের উঁচুতে ওঠা খুবই বিপদজনক। তিনি বলেন, ‘আমার মনে আছে তোমার কাকা বালক বয়সে একবার বাদাম পাড়তে যেয়ে ঢাল থেকে পড়ে গিয়েছিল—এবং ওর পা ভেঙে গিয়েছিল। যদি যেতেই হয়, তাহলে পশ্চিমে থাকবে—ওদিকটা অত বিপদজনক নয়। ’
‘ঠিক আছে, বাবা। ’ খানিকটা ঝুঁকে, জনি বলে। ‘তাহলে কি আমি উইলের বাইকটা ধার করতে পারি?’
‘হ্যাঁ, যদি তুমি সেটা দেখে রাখতে পারো, এবং ফেরার পর পরিষ্কার করতে রাজি থাকো,’ তার বাবা বলে। ‘মনে রাখবে কোনো কিছু ধার করলে, অবশ্যই সবসময় তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং ভালো অবস্থায় ফেরত দেবে। ’
‘আমি কি শ্যাডোকে সঙ্গে নিতে পারি?’ জনি জানতে চায়।
‘না। ’ তার বাবা বলে। ‘সকালে ভেড়াদের সঙ্গে শ্যাডোর কাজ আছে—এবং আর যাই হোক আমি চাই না উঁচু পাহাড়ের পুরোটা পথ ও দৌড়াক। জায়গাটা খুব দূরে। ’
‘কিন্তু শ্যাডো তাতে কিছু মনে করবে না। ’ হঠাৎ বিমর্ষভাবে তাকিয়ে, জনি বলে, কারণ একটা দিনও সে শ্যাডোকে ছাড়া থাকতে চায় না। ‘শ্যাডো এটা পছন্দ করবে। অহ্, দয়া করে ওকে একদিনের জন্য ছুটি দাও না বাবা!’
‘শ্যাডো এরইমধ্যে কাজে লেগে গেছে,’ জানালার দিকে ঝুঁকে কৃষক বলেন।



তাকে দেখামাত্রই শ্যাডো দৌড়ে কাছে আসে। এরইমধ্যে, সেদিন সকালে সে জনিকে দেখে এসেছে, কারণ আগের রাতে ও ছেলেটার সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমিয়েছিল। কিন্তু অন্যকুকুরদের ডাকতে রাখাল শিস বাজাবার পর সে জনির ঘুমন্ত চেহারাটা চেটে দিয়ে দরজার বাইরে বেরিয়ে আসে। জনির কুকুর হলেও—জীবিকার জন্য তাকে আর সব কুকুরদের মতোই কাজ করতে হয়! ‘শ্যাডো, আমি আজকে ছুটি কাটাতে যাচ্ছি। ’ জনি বলল। ‘আমি পাহাড়ে বাদাম পাড়ব। ’



জনি বাইরে তাকায়। দূর পাহাড়ে সে শ্যাডোকে দেখতে পায়, ও অন্য কুকুরদের সঙ্গে দৌড়াচ্ছে, রাখালের জন্য ভেড়াদের ছোট ছোট দলে ভাগ করছে। ওদের কাউকে কাউকে সেদিন বাজারে যেতে হবে, আর কুকুরগুলো ওদের আলাদা করতে সহায়তা করছে।

জনি আর কথা বাড়ায় না। তাকে বাবা-মার সঙ্গে তর্কে না জড়াতে শেখানো হয়েছে। সে ভাবে তাকে উইলের বাইকটা নিতে যেতে হবে, এবং তারপর সে পাহাড়ে যাবে, যেখানে শ্যাডো কাজ করছে, এবং তাকে বোঝাবে সেদিনে মতো সে তাকে সঙ্গে নিতে পারবে না।

উইল খামার কর্মীদের একজন। ছেলেটি খুব যত্নবান বলে, সে জনিকে বাইকটি ধার দিতে এক কথাতেই রাজি হয়ে যায়। ব্রেকগুলো ঠিক আছে কিনা ভালো করে দেখে নেবার পর, জনি উইলকে খুব করে ধন্যবাদ জানায়, এবং তারপর লাফিয়ে বাইকে চড়ে বসে। তারপর যে পথটা পাহাড়ে ঘাস খেতে থাকা ভেড়াদের দিকে গেছে সেদিকে সাইক্লিং করতে থাকে।

তাকে দেখামাত্রই শ্যাডো দৌড়ে কাছে আসে। এরইমধ্যে, সেদিন সকালে সে জনিকে দেখে এসেছে, কারণ আগের রাতে ও ছেলেটার সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমিয়েছিল। কিন্তু অন্যকুকুরদের ডাকতে রাখাল শিস বাজাবার পর সে জনির ঘুমন্ত চেহারাটা চেটে দিয়ে দরজার বাইরে বেরিয়ে আসে। জনির কুকুর হলেও—জীবিকার জন্য তাকে আর সব কুকুরদের মতোই কাজ করতে হয়! ‘শ্যাডো, আমি আজকে ছুটি কাটাতে যাচ্ছি। ’ জনি বলল। ‘আমি পাহাড়ে বাদাম পাড়ব। ’

শ্যাডো জনি আর তার বাইকের দিকে তাকিয়ে থাকে। ছেলেটা কী বোঝাতে চাইছে তা সে খুব ভালো করেই জানে। সে খুশিতে তার লোমশ লেজটা উঁচিয়ে নাড়তে থাকে। সারাদিন জনির সঙ্গে বেড়ানো ওর খুবই পছন্দ!

‘এতে আনন্দের কিছু নেই,’ জনি বলে। আজকে তোমাকে ছাড়াই আমাকে যেতে হচ্ছে। আজকে তুমি আসতে পারছো না শ্যাডো। আমি কেবল তোমাকে বিদায় জানাতে এখানে এসেছি। চা খাবার সময় আমি ফিরে আসব। ’

শ্যাডোর লেজটা পড়ে যায়। এর আন্দোলন থেমে আসে। কী—জনি তাকে ছাড়াই যাবে! শোকার্ত বাদামী দু’চোখে সে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে থাকে।

‘এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে থেকো না, শ্যাডো,’ জনি বলে, ‘তাহলে আমিও যেতে পারব না। জানো, বাবা বলেছে আজকে তোমার কাজ আছে। তাই আমি তোমাকে আমার সঙ্গে নিতে পারছি না। তবে খুশির কথা হলো—চা খাবার সময় আমি চলে আসব। আমি কথা দিচ্ছি!’

‘শ্যাডো সামান্য একটু লেজ নাড়ে। তাকে খুব বিমর্ষ দেখায়—তবে সে জনির মজার একটা দিন উপভোগ ঠেকাতে চায় না। রাখাল কুকুরদের শিস দিয়ে ডাকে, এবং শ্যাডোকেও যেতে হবে। সে জনির হাত চেটে দেয়, ঘেউ ঘেউ করে সুন্দর একটা দিন কাটিয়ে আসতে বলে, এবং তারপর লাফিয়ে টিঙ্কার এবং রাফের সঙ্গে যোগ দেয়।

জনি পাহাড়ের ওপর দিয়ে বাইসাইকেল চালাতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে অন্য ছেলেদের সঙ্গে যোগ দেয়, এবং ওরা সবাই একে অপরের উদ্দেশ্যে চিৎকার করতে থাকে।
‘চমৎকার দিন!’ রনি চেঁচিয়ে ওঠে।
‘দুপুরে খাবার জন্য কী এনেছো?’ হ্যারি চিৎকার করে বলে। ‘আমার সঙ্গে হ্যাম স্যান্ডউইচ, আর এমন বড় বড় চকলেট কেক আছে যা এর আগে তুমি চোখেই দেখো নি। ’
‘তোমরা সবাই কি সঙ্গে বাদাম নেবার ঝুড়ি এনেছো?’ জনি বলে। ‘আমার সঙ্গে একটা আছে। আশা করছি এটা পুরোপুরি ভরতে পারব। হেইজল নাট বাবার খুব পছন্দ। তিনি লবণ দিয়ে খান। ’

ছেলেরা একসঙ্গে মনের সুখে সাইকেল চালাতে থাকে। পাহাড়ের উঁচুতে যেতে এখনো দীর্ঘপথ পাড়ি দেয়া বাকি, তবে বাদাম তুলবার জন্য এটাই সেরা জায়গা। আশপাশে শত শত বাদাম গাছ।

ছেলেদের এক জনের বাইকের টায়ার পাংচার হয়ে যায়। সাহায্যের জন্য ওদের সবাই লাফিয়ে নামে। জনি তার বাইকের পেছনের ব্যাগ থেকে পাংচার সারাবার যন্ত্রপাতি বের করে, এবং শীঘ্র পাংচার সারানো হয়।

এরপর ওরা আগের মতোই আলাপচারিতা আর চিৎকার চেঁচামেচি করতে করতে পথ চলতে থাকে। বাদাম তোলা যাবে বুঝতে পারার পর, ওরা যার যার বাইসাইকেল থেকে লাফিয়ে নেমে, সাইকেলগুলো ঘাসের ওপর শুইয়ে রেখে, গাছের দিকে ছোটে। ‘গলি! জীবনে আমি এত বাদাম একসঙ্গে কখনো চোখে দেখিনি!’ হ্যারি ব্যস্ততায় চিৎকার করে ওঠে। ‘একটু চেয়ে দেখো! এক কথায়, ভারি সুন্দর। চলো দুপুরের খাবার জন্য কিছু তুলে নেই, কী বলো? এরপর না হয় সবাই ঠিকঠাক কাজে নেমে পড়ব, এবং ঝুড়িগুলো ভর্তি করব। ’

ছেলেরা সবাই থোকা থোকা বাদাম তুলতে শুরু করে। এক একটা কী চমৎকার! এরপর ওরা বসে পড়ে এবং স্যান্ডুইচ আর কেকের প্যাকেটগুলো খোলে। সবাই খুব মজা করে খায়! একইভাবে ওদের বেশিরভাগই পান করার জন্য সঙ্গে পানীয় এনেছে। এরপর ওরা বাদাম খায়। হ্যারি বাদাম ভাঙার জন্য সঙ্গে এক জোড়া নাট-ক্রেকার এনেছে, সবাই একে খুব বুদ্ধিমানের কাজ বলে সমর্থন জানায়। তবে ছেলেদের মধ্যে যাদের দাঁত খুব শক্ত তাদের কয়েকজন মুখ দিয়েই বাদাম ভাঙতে শুরু করে।

‘তোমাদের দাঁত দেখছি সবই ভালো। ’ ক্রেকার দিয়ে বাদাম ভাঙতে ভাঙতে হ্যারি বলে। ‘কিন্তু আমার দাঁতের অবস্থা খুব একটা ভালো না—এবং আমি দাঁত দিয়ে বাদাম ভাঙতে রাজি নই, বলে রাখছি। ’

দুপুরের খাবারের পর ছেলেরা তাদের ঝুড়িগুলো তুলে নেয় এবং বাদাম পাড়তে শুরু করে। উঁচু ডাল থেকে বাদাম পাড়ার জন্য কেউ কেউ সঙ্গে আঁকশিওয়ালা লাঠি এনেছে।

চলবে। ...

পর্ব ১৮ পড়তে ক্লিক করো

বাংলাদেশ সময়: ১৬৪৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৫

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa