ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৯ শাবান ১৪৪৫

ইচ্ছেঘুড়ি

স্মরণ: বিদ্রোহী কবি নজরুল

মীম নোশিন নাওয়াল খান, নিউজরুম এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪৩৫ ঘণ্টা, মে ২৫, ২০১৬
স্মরণ: বিদ্রোহী কবি নজরুল

বাবুদের তাল-পুকুরে
হাবুদের ডাল-কুকুরে
সে কি বাস করলে তাড়া,
বলি থাম একটু দাড়া।

পুকুরের ঐ কাছে না
লিচুর এক গাছ আছে না
হোথা না আস্তে গিয়ে
য়্যাব্বড় কাস্তে নিয়ে
গাছে গো যেই চড়েছি
ছোট এক ডাল ধরেছি,

ও বাবা মড়াত করে
পড়েছি সরাত জোরে।


পড়বি পড় মালীর ঘাড়েই,
সে ছিল গাছের আড়েই।

উপরের লাইনগুলো কাজী নজরুল ইসলামের ‘লিচু চোর’ কবিতার অংশ। চলছে জ্যৈষ্ঠ মাস। আম-কাঁঠাল-লিচুর সময়। কবিতাটা যেন ঠিক এমন সময়ের জন্যই লেখা।

শুধু এটা কেন, এমন অনেক অনেক লেখা আছে নজরুলের। এত বছর আগে লেখা, তবু মনে হয় যেন আজকের জন্যই লিখেছিলেন তিনি।
নজরুল এমনই। প্রাণের কথা লিখতেন। সবার প্রাণের কথা। কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, গান- সাহিত্যের নানা শাখায় ছিল তার অবাধ বিচরণ। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সঙ্গীতজ্ঞ।

বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ হিসেবে নিজেকে চিরস্মরণীয় করে রাখা এই মানুষটি ১৮৯৯ সালের ২৪শে মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা কাজী ফকির আহমদ এবং মা জায়েদা খাতুন।
ছোটবেলায় বাবা-মা দু’জনকে হারিয়ে নজরুলকে জীবনযুদ্ধে নামতে হয়। পদে পদে নানা বাধা অতিক্রম করে তিনি এগিয়ে চলেন নিজ গতিতে। এত প্রতিকূলতার মধ্যে বড় হতে হয়েছিল বলে তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।

নজরুল প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন গ্রামের মক্তবে। এরপর ১২ বছর বয়সে লেটো গানের দলে যোগ দেন। কিছুদিন শিক্ষকতা করেন মক্তবে। পরে তিনি আসানসোলে রুটির দোকানে কাজ নেন। সেখানে একজন বাঙালি পুলিশ অফিসারের নজরে পড়লে তিনি নজরুলকে ময়মনসিংহের ত্রিশালে নিয়ে স্কুলে ভর্তি করে দেন। কিন্তু দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে নজরুল সেনাবাহিনীর হাবিলদার হিসেবে যুদ্ধে চলে যান।

যুদ্ধের পর কলকাতায় ফিরে তিনি সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় মনোনিবেশ করেন। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘লাঙল’, ‘নবযুগ’ ও ‘ধূমকেতু’ পত্রিকা।

নজরুলের প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘মুক্তি। ’ তবে ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ নামক একটি কবিতায় ব্রিটিশ শাসকদের ব্যঙ্গ করায় তাকে কারাবরণ করতে হয়। আর তাকে বিদ্রোহী কবির মর্যাদা এনে দেয় ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি।

রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে কারাগারে বন্দি করা হলেও নজরুল থেমে যাননি। তিনি সাহিত্য চর্চা করে গেছেন আপনমনে। আর তার কলমের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী সব রচনা।
১৯৪২ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় নজরুল অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি হারান।

১৯৭৬ সালের ২৯শে আগস্ট বাংলাদেশে তার মৃত্যু হয়। তাকে দাফন করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে।
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। তার রচিত ‘চল চল চল’ কবিতাটি বাংলাদেশের রণসঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয়।

নজরুলের রচনা বাংলা সাহিত্যে চিরদিন অমলিন হয়ে থাকবে, উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে জ্বলজ্বল করবে। আর ঠিক একইভাবে বিদ্রোহী কবি নজরুলও সকলের মনে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতোই জ্বলজ্বল করবেন চিরদিন।
আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ, আমাদের জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী। তার প্রতি রইল আমাদের গভীর শ্রদ্ধা।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৩০ ঘণ্টা, মে ২৫, ২০১৬
এএ

 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।