ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৯ শাবান ১৪৪৫

ইচ্ছেঘুড়ি

রহস্য দ্বীপ (পর্ব-৪০)

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১৫৫ ঘণ্টা, মে ২৩, ২০১৭
রহস্য দ্বীপ (পর্ব-৪০) রহস্য দ্বীপ

হাম্বা-আআআ-আআ! মুরগির উঠান থেকে ডেইজি বলে ওঠে এবং বাচ্চারা সবাই হেসে ফেলে।
ডেইজিও তাই ভাবছে! পেগি হেসে বলে।

৮.
অলস দিনের ভীষণ এক পরিণতি।
পরদিন সকালে বাচ্চারা খুব বেলা করে ঘুমায়।

কেউ চোখ খোলার আগে সূর্যটা ওপরে উঠে আসে। দুধ দোয়াবার সময় পেরিয়ে যাচ্ছে- ডেইজি সেটা টের না পেলে ওদের কেউই জেগে উঠতো না। সে মুরগির উঠানে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে ডাকতে থাকে।
জ্যাক উঠে বসে, তার বুক ভয়ানক কেঁপে ওঠে। উদ্ভট শব্দটা কিসের? ডেইজিই হবে! ও চাইছে দুধ দোয়ানো হোক!
এই সবাই! সে চিৎকার করে ডাকে ‘ওঠো! নয়টা বেজে গেছে! সূর্যের দিকে তাকাও, ওটা অনেক উপরে! আর ডেইজি চাইছে দুধ দোয়ানো হোক!’
মাইক বিরক্ত হয়ে চোখ মেলে তাকায়। শেষরাতের পর থেকে তার খুব ঘুমঘুম লাগছে। মেয়েরা উঠে বসে চোখ রগড়াতে থাকে। ডেইজি আবারও ডেকে ওঠে এবং মুরগিরা ভয়ে কক্ কক্ করে ডাকতে শুরু করে।
আমাদের খামারের উঠোন তার সকালের নাস্তা চাইছে, জ্যাক দাঁত বের করে হাসে। এসো কুঁড়ের হাড্ডি কোথাকার, এসো আমার সঙ্গে হাত লাগাও। নিজেদের খাবারের আগে ওদের একটা গতি করতে হবে।
ওরা হুড়াহুড়ি করে উঠে আসে। সবার এমনই ঘুমঘুম লাগছে যে কোনো কিছু করবার আগে ওরা  হ্রদের শীতল জলে মুখ ধুতে ছোটে! তারপর সবাই আত্মতৃপ্তিতে তাদের গাভীটিকে দেখবার জন্য এগিয়ে যায়। বাদামি আর ধবল লোমে দেখতে খুব সুন্দর দেখায়! ওর বাদামি চোখ জোড়া কত মায়াবি! ওদের নিজেদের গরু! কি চমৎকার!
ওর গলার স্বর কি চমৎকার! গাভীটা আবারও ডেকে উঠলে জ্যাক বলে। আমি ওর দুধ দোয়াব, তবে কথা হলো আমাদের কাছে কোনো বালতি নেই! মাইক বলে।
বাচ্চারা হতাশ চোখে একে অন্যের দিকে তাকায়। সত্যিই ওদের কাছে কোনো বালতি নেই।
ঠিক আছে, তাহলে সসপ্যানেই চলবে, দৃঢ়কণ্ঠে জ্যাক বলে। আর আমরা সবাই দু’এক কাপ দুধ দিয়ে দিন শুরু করতে পারবো। বড় সসপ্যানটা হলেই চলবে, আর ওটা ভরে এলে আমাদের কাছে থাকা বোল আর জগে ঢেলে নেবো আর কেতলিতেও। আমাদের একটা বালতি লাগবে। কথাটা কাল রাতে মাথায় আসেনি, কি দুর্ভাগ্য!
সব বোল, জগ আর সসপ্যান ভরেও আরো দুধ বাকি থেকে যায়। বাচ্চারা কাপের পর কাপ দুধ খায়। বেশ কিছুদিন ধরে কেবল পানি দিয়ে তৈরি চা আর কোকা খাবার পর দুধ পেয়ে খুব মজা হয়। অনেক দিন তা খাওয়া হয়নি!
বলছি! ডেইজি একটা মুরগির ডিম পাড়িয়ে ভর্তা করে ফেলেছে, মুরগির উঠানের দিকে তাকিয়ে, নোরা বলে। কি দুর্ভাগ্য!
এ আর এমন কি, জ্যাক বলে। আজকের পর তো ওকে এখানে রাখছি না। ওকে দ্বীপের অন্যপাশে, ঘাসের মাঠে নিয়ে রাখা হবে, নোরা, মুরগিগুলোকে খাবার দাও। ওরা এমন চেঁচাচ্ছে যেন আর থামবে না। ওদের ক্ষুধা লেগেছে।
নোরা ওদের খাওয়ায়। তারপর ওরা সিদ্ধ ডিম আর সরওয়ালা দুধ দিয়ে সকালের নাস্তা সারতে বসে। খাবার সময় ডেইজি ওদের দিকে তাকিয়ে থাকে এবং আলতো করে হাম্বা ডাকে। ওরও ক্ষুধা লেগেছে।
খাওয়া শেষ করে মাইক আর জ্যাক ওকে দ্বীপের অন্যপাশে নিয়ে যায়। সেখানকার রসালো সবুজ ঘাস দেখে ও খুবই খুশি হয় এবং তখনই কাজে লেগে যায়। মাঠ জুড়ে ঘুরে ঘুরে মুখ ভরে ঘাস টেনে তুলতে শুরু করে।
ও দ্বীপ ছেড়ে যেতে পারবে না, তাই বেড়ার ভেতর আটকে রাখার দরকার নেই, জ্যাক বলে। দিনে অন্তত দু‘বার দুধ দোয়াতে হবে, মাইক। কোথাও থেকে আমাদের একটা বালতি যোগাড় করতে হবে।
হ্যারিয়েট খালার খামারের গোলার ভেতর একটা পুরাতন বালতি আছে, পেগি বলে। আমি ওটাকে প্রায়ই ওখানে ঝুলতে দেখেছি।
ওর ভেতর কি কোনো ছিদ্র আছে? জ্যাক জানতে চায়। তাহলে আমাদের কোনো কাজেই আসবে না। ওর ভেতর সারাদিন দুধ রাখতে হবে আর চুইয়ে পড়ে গেলে চলবে না।
না, কোনো ফুটো নেই, পেগি বলে। একদিন ওটা ভরে মুরগির জন্য পানি নিয়ে গিয়েছিলাম। খুব পুরনো হয়ে যাওয়ায় এখন আর ব্যবহার করা হয় না।
আজ রাতে গিয়ে নিয়ে আসব, মাইক বলে।

চলবে....

বাংলাদেশ সময়: ১৭৫১ ঘণ্টা, মে ২৩, ২০১৭
এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।