ঢাকা, রবিবার, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩১, ২৮ জুলাই ২০২৪, ২১ মহররম ১৪৪৬

লাইফস্টাইল

ভালোবাসাও বিজ্ঞান!

মুনজুরুল করিম | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪৫৭ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৪
ভালোবাসাও বিজ্ঞান!

‘ক্লাউড নাইন’- বলা হয়, মানুষ যখন প্রেমে পড়ে তখন সে ক্লাউড নাইন-এ থাকে। আরও সহজ করে বললে, এত ভালোলাগার অনুভূতিতে বিভোর থাকে যে খাটিঁ বাংলায় বলা যায়, মানসিকভাবে সুখের সপ্তম আসমানে অবস্থান করে।

সাধারণভাবে মানুষ তার বুকের বামপাশে থাকা হৃদয় আর তাতে জেগে ওঠা অনুভূতি নিয়ে যত গল্প, গান আর কবিতার সমুদ্রেই সাঁতার কাটুক না কেন, বিজ্ঞান সেই হৃদয় আর মস্তিস্কের পরতে পরতে গবেষণা চালিয়েছে মানুষের ভালোবাসার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বের করতে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ইন্সটিটিউট অফ হার্টম্যাথ’ টানা ২০ বছর ধরে তীক্ষ নজর রেখেছিল হৃদয়ের অলি-গলিতে, যাতে করে জানা যায় মানুষের আবেগ, অনুভুতি আর প্রেম বা ভালোবাসার কলকাঠি নাড়ে শরীরের কোন অংশ বা কোন উপাদান। এই গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে যে, মানুষের হৃদয় থেকে এক ধরনের (ইলেকট্রম্যাগনেটিক ফিল্ডস) ত্বরিত চুম্বকক্ষেত্র নি:সৃত হয় এবং এটি নির্ভর করে আবেগের ধরনের ওপর। আরও মজার ব্যাপার হলো, কখনো কখনো মানুষের শরীরের চতুর্দিকে কয়েক ফুট পর্যন্ত এই ত্বরিত চুম্বক-ক্ষেত্রের রেশ পাওয়া যায়।
প্রেমে পড়লে ‘গাল লাল হয়ে যায়, হৃদস্পন্দনের গতি বেড়ে যায়, হাতের তালু ঘেমে যায়’-এসব লক্ষণের কথা বলতে অবশ্য কারও বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার হয় না। কারণ শুধু হার্টম্যাথ ইন্সটি্টিউট নয়, হৃদয় নিয়ে বা হৃদয়ঘটিত রহস্যজনক ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে সব মানুষই-তো প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে গবেষণা করছে। তবে, প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা থেকে দেখা গেছে, প্রেমে পড়লে মানুষের শরীরের ভেতরে বেশ কিছু রাসায়নিক পরিবর্তন আসে। আর এতে মূল ভূমিকা রাখে কয়েক ধরনের হরমোন।
আসুন জানি কোন হরমোনের ফলে আমাদের জীবনে এতো বড় পরিবর্তন এনে দেয়:

লালসা: শুনতে যেমনই শোনা যাক, প্রেমে পড়ার শুরুতে লালসা’ই প্রথম ভুমিকা পালন করে। এজন্য অবশ্য কাউকে দোষ দেয়া ঠিক হবে না। কারণ, দোষ হলে তা টেস্টোষ্টেরন আর অস্ট্রোজেন নামের দুটি লালসা জাগানিয়া হরমোনের দোষ। এই দুটি হরমোন মানুষকে এমনভাবে তাড়িত করে যে বলা হয়, এই হরমোন দুটির প্রভাবে প্রেমে পড়লে একেবারে মরিয়া আচরণ পর্যন্ত করতে পারে কেউ কেউ। তাহলে, এই দুটি হরমোন দ্বারা যারা বেশি প্রভাবিত তারাই হয়তো প্রেমের জন্য অনেক কিছুই করতে পারে-সেটা মহানুভবতাও হতে পারে, হতে পারে হিংস্রতাও।

আকর্ষণ: এটা প্রেমে পড়ার দ্বিতীয় ধাপ। লালসা’র কারণে এই পরের ধাপে মানুষ একজন অপরজনের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করতে থাকে। বলা হয়, এটাই প্রেমের প্রকৃত ধাপ। এই ধাপে পৌঁছালে মানুষ পছন্দের ঐ মানুষটি ছাড়া অন্য কিছুই ভাবতে পারে না। এমনকি খাওয়া-ঘুমানোও নাকি ভুলে যায়। এ পর্যায়ে নেতৃত্বে চলে আসে,‘মনোয়ামাইন’ নামে একগুচ্ছ স্নায়ুকোষ। এর একটি হলো, ডোপামাইন। অবাক ব্যাপার হলো, কোকেন বা নিকোটিন নিলে এই স্নায়ুকোষ যেমন সাড়া দেয়, প্রেমের অনুভতিতেও ঠিক একইভাবে সাড়া দেয়। এরপর বলাই যেতে পারে যে, প্রেমে পড়াটা এক ধরনের নেশায় আসক্ত হওয়ার মতো। ডোপামাইন সক্রিয় হয়ে ওঠার সাথে সাথে নড়েচড়ে বসে এড্রিনালিনও। আর তার ফলেই হাতের তালু ঘামতে থাকে, গাল লাল হয়ে যায়, বেড়ে যায় হৃদস্পন্দন। আকর্ষণের এই ধাপে এসে ‘সেরোটোনিন’ নামের এক রাসায়নিক উপাদানের কথা না বললেই নয়। কারণ, এটি প্রেমে আসক্ত কাউকে সাময়িকভাবে প্রকৃত অর্থেই পাগল বানায়।

সম্পৃক্ততা: এটাকে বলা হচ্ছে, সম্পর্কের উচ্চতর ধাপ। এই ধাপেই নির্ধারিত হয় সম্পর্কের স্থায়ীত্ব। কারণ, প্রেমের ক্ষেত্রে মানুষ কখনোই শুধু আকর্ষণ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। এই পর্যায়ে পৌঁছালেই মানুষ বিয়ে থেকে শুরু করে সংসার পর্যন্ত স্বপ্ন দেখে। তবে সম্পর্কের এই স্থায়ীত্বের অনুভূতি আনার জন্য দুটি হরমোনকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। এর একটি ভাসোপ্রেসিন, অন্যটি অক্সিটোসিন। মা যখন সন্তান জন্ম দেয় তখন এই অক্সিটোসিন হরমোন নির্গত হয়। এই হরমোনের কারণেই মায়ের সাথে সন্তানের বাঁধন তৈরি হয়।

এতকিছু জানার পর, প্রেম বা ভালোবাসা হরমোনের খেলা এমনটা মনে হতেই পারে। তবে, এখানেই ইতি টানা শেষ হবে না। কারণ মানুষ কখনো কখনো জিন দ্বারাও প্রভাবিত হয়। যেমন, দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে কাউকে যদি এমন চিন্তা করতে দেখেন যে..ঐ নির্দিষ্ট মানুষের সাথে তার সম্পর্ক হলে পরবর্তী প্রজন্ম কেমন হবে, তাহলে বুঝবেন সে এক্ষেত্রে জিন দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। তবে, হরমোন আর জিন এর সঠিক তথ্য থাকলে বিজ্ঞানের পক্ষে কোনো একটি সম্পর্কের ভবিষ্যতও বলে দেয়াও সম্ভব। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এখনো সহজলভ্য নয় এই বিজ্ঞান।

প্রেমে পড়ার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়ই চেহারা বেশি গুরুত্ব পায়। ভূমিকা আছে গন্ধেরও। তবে এসবের মধ্যে দিয়ে মানুষ আসলে নিজের অজান্তে তেমন মানুষই খোঁজে যারা দেখতে বা গন্ধের দিক দিয়ে বাবা-মা’র মতো। চমকে ওঠার মতো একটা কথা বলে এই ‘ভালোবাসার বিজ্ঞান’ নিয়ে আলোচনা শেষ করি। সেটা হলো, গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, প্রেমে পড়লে মানুষের মাথা বা ব্রেন যেভাবে কাজ করে, যে কোনো ধরণের মানসিক অসুস্থতার শুরুর দিকে মাথা বা ব্রেন একই রকম কাজ করে।        

 

 

লেখক: মুনজুরুল করিম

 

 

 

 

বন্ধুরা, বিজ্ঞানের অনেক কিছুই জানলাম কিন্তু ভালবাসা চিরন্তন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভালোবাসা কমে না বরং বাড়ে। বিশ্বজুড়ে ভালোবাসার পূজারীরা অপেক্ষা করছেন ভালোবাসা দিবসে প্রিয় মানুষটিকে আরও একবার মনের কথা জানাতে। এই চাওয়াকে সম্মান জানাতে পাঠক বন্ধুদের জন্য প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের সবচেয়ে পাঠকপ্রিয় অনলাইন সংবাদ মাধ্যম বাংলানিউজ আয়োজন করেছে মাই ভ্যালেন্টাইন শীর্ষক কাপল ফটো কনটেস্ট।
আপনার প্রিয় মুহূর্তের ছবি পাঠিয়ে জিতে নিন আকর্ষণীয় সব উপহার।

 

প্রিয়জনের সঙ্গে তোলা ছবি ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়: [email protected]
https://www.facebook.com/bnlifestyle
 
ছবির সঙ্গে উল্লেখ করুন আপনার নাম, ফোন নম্বর, বয়স ও পেশা।

বিশেষ এই আয়োজনে বাংলানিউজের সঙ্গে রয়েছে বিউটি পার্টনার দেশের অন্যতম সৌন্দর্য সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান ওমেন্স ওর্য়াল্ড, হসপিটালিটি পার্টনার পাঁচ তারকা হোটেল দি ওয়েস্টিন ঢাকা, এমিউসমেন্ট পার্টনার নন্দন পার্ক। মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল নাইন, রেডিও পার্টনার এশিয়ান রেডিও ৯০.৮ এফএম ও কমিউনিকেশন পার্টনার ডোনা মিডিয়া।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।