ঢাকা, শনিবার, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৬ মহররম ১৪৪৬

জাতীয়

বরগুনায় মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় এখনও নিখোঁজ ৩

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৩৮ ঘণ্টা, জুন ২২, ২০২৪
বরগুনায় মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় এখনও নিখোঁজ ৩

বরগুনা: বরগুনার আমতলীর হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া বাজার সংলগ্ন লোহারসেতু মাইক্রোসহ খালে ধসে পরার ১ঘণ্টা পর স্থানীয়রা ৯ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। এই সময় আরও ৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও এখনো ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

 

শুক্রবার(২২ জুন) দুপুরে বিয়ে অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে ১৭জন যাত্রী নিয়ে শনিবার দুপুরে ছেলের বাড়িতে আসার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে শনিবার দুপুর দেড় টার সময় তারা মাইক্রো যোগে আমতলী আসছিল। পথিমধ্যে মাইক্রোবাসটি হলদিয়া বাজার সংলগ্ন লোহার সেতু পার হওয়ার সময় মাঝ বরাবর ভেঙে কচুরিপানায় ভরা খালে পরে তলিয়ে যায়। মাইক্রোবাসখালে পরে যাওয়া শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসে। মুশল ধারে বৃষ্টি এবং খালে নেমে উদ্ধারের কোন সুযোগ না থাকায় উদ্ধার কাজে বিলম্ব ঘটনায় অনেকেই তখন পানিতেই প্রাণ হারান। মাক্রোবাসটি পানির উপরে তোলার পর মধ্যে থেকে বেড়িয়ে আসে এক নারী শিশুসহ ৯টি লাশ। ৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৩ জন।

জীবিত উদ্ধার হওয়া মাহবুব খান বলেন, শুক্রবার আমরা ভাগ্নি হুমায়রা বেগমের বাড়ি হলদিয়া ইউনিয়নের গুরুদল গ্রামে যাই। সেখান  থেকে একটি হাইস মাইক্রো নিয়ে আজ শনিবার(২২ জুন) দুপুর ১টার সময়  ভাগ্নি জামাইর আমতলীর বাড়ির অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য রওয়ানা করি। দুপুর দেড় টার সময় হলদিয়া বাজার সংলগ্ন একটি লোহার সেতু পার হওয়ার সময় মাইক্রোটি মাঝ বরাবর আসার পর  সেতুটির আকস্মিক ধসে মাইক্রেসহ কচুরি পানায় ভর্তি খালে পরে যায়। এর পর আর কিছুই বলতে পারি না। জ্ঞান ফিরে দেখি হাসপাতালে। আল্লাহ আমাদের বাঁচালেও সব শেষ হয়ে গেছে।

জীবিত উদ্ধার হওয়া মাহবুব খান বলেন, ৯জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে ৭জন আমাদের শিবচর মাদরীপুরের সবাই স্বজন। অন্য দুজন আমতলীর তারাও আমাদের আত্মীয়। সব শেষ হয়ে গেছে এর চাইতে আমাদেরও মরে যাওয়া ভালো ছিল।

উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে রয়েছে শিবচর মাদারীপুরের মুনী বেগম(৪০), তার ছোট মেয়ে  তাহিয়া (৭), বড় মেয়ে তাসফিয়া (১১), একই এলাকার ফরিদা বেগম (৫৫),  রাইতি (৩০), ফাতেমা আক্তার (৪০), রুবী বেগম (৪০), হলদিয়া গ্রামের জহিরুল ইসলামের মেয়ে হৃদি (৫),তার মা জাকিয়া বেগম (৩০)।

জীবিত উদ্ধার হওয়া ৪জন হলেন, মাহবুব খান, সোহেল খান, সুমা আক্তার ও দীশা আক্তার তারা সবাই শরিয়তপুরের বাসিন্দা।

স্থানীয় হলদিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম সোহেল বলেন, সেতু ভেঙে মাইক্রোটি খালে পরে যাওয়ার পর আমরা খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার কাজে নেমে পরি। ৪ জনকে জীবত উদ্ধার করা গেলেও ৯জনের  সলিল সমাধি ঘটে। এত বড় দুর্ঘটনা এবং এতগুলো লাশ আমার জীবনেও আমি আর দেখিনি।

দুর্ঘটনার পর খবর পেয়ে আমতলী উপজেলা  ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ  উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। খারাপ আবহাওয়া এবং মুশলধারে বৃষ্টির কারণে উদ্ধার কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়।  

ঘটনার খবর পেয়ে আমতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা এম কাদের, আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আমির হোসেন সেরনিয়াবাদ ওসি শাখওয়াত হোসেন তপু ঘটনাস্থলে থেকে উদ্ধার কাজ তদারকি করেন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বরগুনার সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার টুকু বিকেলে আমতলী হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে নিহতদের পরিবারের সান্তনা দেন এবং সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

 

বাংলাদেশ সময়: ১৪৩৬ ঘণ্টা, জুন ২২, ২০২৪

এমএম
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।