মেহেরপুর: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চরগোয়াল গ্রামের হৃদয় হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছেন র্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১২) সিপিসি-৩ মেহেরপুর ক্যাম্প সদস্যরা।
তারা হলেন মামলার প্রধান আসামি রামনগর গ্রামের আজাদ আলীর ছেলে জান্নাত আলী ও অপর আসামি একই গ্রামের সাদিমানের ছেলে বিপুল হোসেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জান্নাতকে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার মশাউড়া গ্রাম থেকে এবং বিপুলকে তার নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের গাংনী থানায় সোপর্দ করেছে র্যাব।
র্যাব-১২, সিপিসি-৩ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার এনামুল হক বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রেসনোটে এই তথ্য দিয়েছেন।
এর আগে নিহত হৃদয় হোসেনের পিতা চরগোয়াল গ্রামের সাহাদৎ আলী বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় এজাহারনামীয় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এর আগে হত্যার পরপরই গাংনী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে চরগোয়াল গ্রামের সাবেক মেম্বর মিলন হোসেনকে আটক করে। এনিয়ে মামলার তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ ও র্যাব।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকালের দিকে রামনগর গ্রামের মিরাজুল ইসলামের ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী সামিউল্লাহ তাদের ট্রাক্টর চালিয়ে চরগোয়াল গ্রামে যাওয়ার সময় গোরস্থানের ফটকে ধাক্কা দেয়। এতে ফটকের সামান্য চল্টা উঠে যায়।
এ ঘটনায় রামনগর মোড়ে দুই গ্রামের লোকজন স্থানীয়ভাবে আপোষ মিমাংসা করার জন্য বসেন। ওইদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিমাংসার একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি ও পরে সেখান থেকে দুই গ্রামবাসীর মাঝে সংঘাত সৃষ্টি হয়। এসময় প্রধান আসামি জান্নাত ও দুই নম্বর আসামি বিপুলসহ কয়েকজন হৃদয়কে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে হৃদয়কে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, গ্রাম দুটিতে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। গ্রেপ্তার এড়াতে রামনগর গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ মানুষ আত্মগোপনে রয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ২৩৫১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫
এসএইচ