ঢাকা, শুক্রবার, ২০ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৫ শাওয়াল ১৪৪৬

জাতীয়

কাপ্তাই হ্রদের প্রতি যত অবহেলা

মঈন উদ্দীন বাপ্পী, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১২৭ ঘণ্টা, এপ্রিল ২, ২০২৫
কাপ্তাই হ্রদের প্রতি যত অবহেলা

রাঙামাটি: কাপ্তাই হ্রদ এক বিশাল অর্থনৈতিক ভাণ্ডার। হ্রদটিকে পুরো রাঙামাটিবাসীর জন্য আর্শিবাদ বলা হয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য মনুষ্যসৃষ্ট সুবিশাল কাপ্তাই লেক সৃষ্টি করলেও পরবর্তীতে এ হ্রদ বিশাল মৎস্য ভাণ্ডারে পরিণত হয়। বিদ্যুৎ, মৎস্য সম্পদের পাশাপাশি মিঠা পানির এ হ্রদ বনজ সম্পদ ও কৃষির উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে। শুধু তাই নয়; এ হ্রদে জেলা শহরের সাথে ছয়টি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কাপ্তাই হ্রদ থেকে কয়েকশো কোটি টাকার মৎস্য আহরণ করা হয়। আহরিত মৎস্য থেকে সরকার বছরে কয়েককোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে থাকে।

বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদকে ঘিরে রাঙামাটির পর্যটন শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটছে। উদীয়মান তরুণদের হাত ধরে কাপ্তাই পার ঘেঁষে গড়ে উঠছে অসংখ্য রিসোর্ট, পর্যটন স্পট।

পাশাপাশি হ্রদে নেমেছে অসংখ্য বিলাশ বহুল হাউস বোট। ভারতের কাশ্মিরী আদলে মূলত তরুণরা কাপ্তাই হ্রদকে উপজীব্য করে পর্যটনের প্রসার করছে। তরুণরা হ্রদ কেন্দ্রিক এ পর্যটন খাত থেকে বিশাল অংকের আয় যেমন করছে তেমনি অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে দিচ্ছে।

এছাড়াও হ্রদের পানি ব্যবহার করে কৃষকরা সারা বছরের খাদ্য যোগান দিয়ে থাকে। নিজেদের জন্য খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশ জেলার বেশিরভাগ মানুষের খাদ্যও যোগান দিয়ে থাকে। এসব উৎপাদিত খাদ্য সামগ্রী বিক্রি করে তারা যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছে তেমনি এ অঞ্চলের মানুষের খাদ্যর চাহিদা মিঠিয়ে থাকে।

হ্রদ সৃষ্টির পর থেকে অযত্নে অবহেলার কারণে উজান থেকে নেমে পাহাড়ি ঢলের কারণে পলিমাটি আসায় হ্রদের তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। হ্রদ ঘেষা জনবসতির বর্জ্য হ্রদে ফেলায় হ্রদের পানিও দূষিত হচ্ছে দিনদিন।

এছাড়াও দিন দিন হ্রদ দখল করে বাড়ি নির্মাণ করায় হ্রদের আকারও ছোট হয়ে আসছে। যে কারণে অংসংখ্য মৎস প্রজাতি বিলুপ্ত, বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস এবং শ্রী হারাচ্ছে অপরূপ এ হ্রদ।

বেশ কয়েক বছর ধরে কাপ্তাই হ্রদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হ্রদে ড্রেজিং, দখল, দূষণ রোধসহ নানা প্রকল্প গ্রহণের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও হ্রদ বাঁচানোর উদ্যোগ আলোচনার টেবিলে ফাইল বন্দি থাকে।

যে হ্রদ দু’হাত খুলে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে জন্মলগ্ন থেকে ভূমিকা রাখছে সেই হ্রদকে এত অবহেলা, এত উপেক্ষা মেনে নিতে পারছে না জেলার সচেতন মহল।

যে কারণে শত শত সচেতন মানুষ মিঠা পানির এ হ্রদকে বাঁচাতে একাধিকবার রাজ পথে নেমেছিলো, করেছিলো আন্দোলন, সংগ্রাম।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তৎকালীন সরকারের আমলে কাপ্তাই হ্রদে দ্রুত সময়ের মধ্যে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করা করার জন্য ৯৭৭ কোটি টাকার ডিপিপি পাঠানো হয়েছিলো। পরে তা আর কার্যকর হয়নি।

রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হক বলেন, কাপ্তাই হ্রদ রাঙামাটিবাসীর প্রাণের সম্পদ। যতদিন সরকার দাবি পূরণ করবে না ততদিন আমরা লেখনী ও মৌখিক প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবো।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেছেন, কাপ্তাই হ্রদ হচ্ছে দেশের অন্যতম একটি মৎস্য ভাণ্ডার। এই হ্রদের সঙ্গে সেখানকার মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। তবে পলি যেভাবে বাড়েছে, এতে হ্রদের গভীরতা অনেক কমে গেছে। তাই এই অঞ্চলের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় কাপ্তাই হ্রদের ড্রেজিং হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

পার্বত্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে এই এলাকার মানুষের কষ্টের কারণ ছিল এই কাপ্তাই বাঁধ। আবার এ কাপ্তাই হ্রদ থেকেই আয় হচ্ছে এখন ৪ হাজার কোটি টাকা। আয় আরও বাড়ানো সম্ভব। কাপ্তাই হ্রদ ড্রেজিং-এর মাটি দিয়ে ড্যাম তৈরি করে বহুমুখী আয়বর্ধক প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে। কাপ্তাই হ্রদ নিয়ে সরকারের আলাদা চিন্তা-চেতনা রয়েছে বলে জানান এ উপদেষ্টা।

বাংলাদেশ সময়: ০৯৪৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ০২, ২০২৫
এমএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।