গাইবান্ধা: অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় উত্তরে ঘরমুখো মানুষদের এবারের ঈদযাত্রা ছিল বেশ স্বস্তির। কিন্তু শেষে মুহূর্তে এসে গভীর রাতেও রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের গাইবান্ধা অংশের চার কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের শিকার হয়েছেন যাত্রীরা।
সড়কে মাত্রাতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও জেলার গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের কারণে সরু এক লেনে যানবাহন পারাপারের জন্য এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান ভূক্তভোগী যাত্রী ও দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশ।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাত ১০টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত টানা ৩ ঘণ্টাব্যাপী তীব্র যানজটে ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয় হাইওয়ে পুলিশ, সেনা সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীদের।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কের পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শহরের চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট। তবে ঢাকামুখী তিন লেনে তীব্র যানজট থাকলেও রংপুরমুখী তিনটি লেনে ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র।
পুলিশ, ভূক্তভোগী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পান্তাপাড়া থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক নির্মাণাধীন। এর মধ্যে চতুরঙ্গ মোড় থেকে হিরক মোড় পর্যন্ত চলছে ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ।
অন্যদিকে, পলাশবাড়ী উপজেলা শহরের দক্ষিণ বাসস্টাণ্ড থেকে উত্তর বাসস্টান্ড পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়ক নিমার্ণকাজ চলমান। এর মধ্যে শিল্পী হোটেল থেকে মিতালী হোটেল পর্যন্ত এলাকাতেও চলছে ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ।
মহাসড়কের ওই অংশে মাঝের চারলেন ঢেউটিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। মাঝখানে চলছে ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ। দুই পাশের সরু দুটি লেন দিয়ে চলছে যানবাহন। ফলে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে স্বাভাবিক ভাবেই ওই অংশে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
তারা আরো বলেন, মূলত উপজেলা দুটির শহর অংশে জমি অধিগ্রহণে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন ও অবকাঠামো অপসারণে দেরি হওয়ায় এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
মহাসড়কের পলাশবাড়ী অংশে লাঠি দায়িত্ব পালনরত স্বেচ্ছাসেবক নুর আলম, আব্দুস সাত্তার ও আজহারুল বলেন, যানজটের কারণে চালকরাও অনেকাংশে দায়ী। তারা নিয়ম ভেঙে লেন পরিবর্তের কারণে যানজট আরো প্রকট হয়েছে।
লাঠি হাতে সড়কের দাঁড়ানোর পর টানা ৩ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের গাইবান্ধা অংশে পড়েছে ৩২ কিলোমিটার সড়ক। যার অধিকাংশই ছয় লেনে উন্নীত হওয়ায় এবারের স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিতে ভূমিকা রেখেছে।
কিন্তু ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার শেষ মুহূর্তে সড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ীতে ফ্লাইওভার নির্মাণাধীন অংশে সরু একলেন দিয়ে সড়ক পারাপারের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাইওয়ে পুলিশসহ উভয় থানা পুলিশ, জেলা ট্রাফিক পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছে। রাত একটার পর থেকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ০৩১৪ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৫, ২০২৫
এসএএইচ