ঢাকা: রাজধানী ঢাকাকে বাসযোগ্য করার যে পরিকল্পনাসমূহ গ্রহণ করা হচ্ছে তা শহরকে আরও বেশি বাসঅযোগ্য করে তুলবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ‘পার্কিংয়ের কারণে সৃষ্ট সমস্যা: সাতমসজিদ রোডের বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর যৌথ উদ্যোগে এ আলোচসা সভার আয়োজন করা হয়।
নাসের খান বলেন, যানজট সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ একমাত্র সমাধান।
সভায় এলসি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মারুফ হোসেন বলেন, ঢাকা স্ট্রাকচার প্ল্যান ২০১৬-৩৫ খসড়ায় ১০টি নতুন পার্কিং ভবন এবং ৩টি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রস্তাব রযেছে।
তিনি আরও বলেন, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮ এ গাড়ি পার্কিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যা এই শহরে প্রাইভেট গাড়ির বৃদ্ধির জন্য একটি অপকৌশল হিসেবে চিহ্নিত।
ধানমন্ডি সাত মসজিদ রোডের অবৈধ পার্কিংয়ের উপর সংঘটিত একটি পর্যবেক্ষণের ফলাফল উল্লেখ করে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট সহকারী অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা নাঈমা আকতার বলেন, মাত্র ১.৫ কিলোমিটার রাস্তার মাঝে অন্তত ১৬টি পয়েন্ট আছে যেখানে অবৈধ পার্কিং লক্ষ্য করা যায়।
তিনি বলেন, ব্যক্তিগত গাড়ি পাকিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করার চেষ্টার পরিবর্তে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে যানজট, সময় ও জ্বালানি অপচয়, দূষণ ইত্যাদি সমস্যার সমাধান করা প্রয়াজন।
সভায় বক্তারা জানান, প্রতিদিন গড়ে ৬৭টি ব্যক্তিগত গাড়ি নিবন্ধিত হচ্ছে। বর্তমানে ঢাকা শহরে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা তিন লাখেরও অধিক। যানজটের ফলে দেশে বছরে ২৩,০০০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ইউনাইটেড পিপলস ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক মো. আলী হাজারী, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর আতিক মোর্শেদ, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজনীন কবীর প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ২১০৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫
এফবি/বিএস