জয়পুরহাট: কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জয়পুরহাটের কামার সম্প্রদায়ের মানুষদের এখন দম ফেলার মতো ফুসরত নেই। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ততা তাদের।
জেলার বিভিন্ন এলাকার কামাররা এখন কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য নতুন দা, বটি, ছুরিসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র তৈরি করছেন। এছাড়া পুরোনো অস্ত্র শান ও মেরামত করা হচ্ছে।
জানা গেছে, সারাবছর জেলার কামারশালাগুলোতে তেমন কোনো কাজ থাকে না। কিন্তু কোরবানির ঈদ এলেই বেড়ে যায় তাদের ব্যস্ততা। সেই সঙ্গে আয়-রোজগারও।
তবে কয়লার অপ্রতুলতা, লোহার উচ্চমূল্য ও পুঁজির অভাবের কারণে ক্রেতাদের চাহিদামতো যোগান দিতে পারছেন না অনেক কামার।
জয়পুরহাটের ৫টি উপজেলায় সহস্রাধিক কামার পরিবারের বসবাস। এদের মধ্যে শুধু সদর উপজেলার দূর্গাদহ বাজারেই রয়েছে প্রায় শতাধিক পরিবার।
![](files/September2015/September23/Kamar1_118417423.jpg)
সরেজমিনে দূর্গাদহ বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তুমুল ব্যস্ততায় সময় কাটছে এ কামারপল্লীর লোকজনের। আসন্ন ঈদে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার অস্ত্র তৈরিতে দিন-রাত চলছে তাদের হাপড় আর হাতুড়ির কারবার।
বেশ কয়েকজন কামারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাজের চাপ বেশি থাকায় নতুন করে আর কোনো অর্ডার নিচ্ছেন না তারা। কেননা অর্ডার নেওয়া কাজগুলো সময়মতো ফেরত দিতে না পারলে ব্যবসায়িক ক্ষতি হবে বলে তারা জানান।
দূর্গাদহ বাজারের কামার উত্তম, বিদ্যুৎ, উজ্জল, সাগর, রাজেশ, তপন ও কিশোর বাংলানিউজকে বলেন, ঈদকে সামনে রেখে তাদের ব্যস্ততা এতো বেশি যে মাঝে-মধ্যে খাওয়া-দাওয়ার কথাও ভুলে যান তারা।
তবে ক্ষেতলালের বটতলী বাজারের কামার বলাই, সুধীর, লিটনসহ অনেকের অভিযোগ, অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্বল্প সুদে ঋণ দিলেও তাদের দেওয়া হয় না। ব্যবসাকে বড় পরিসরে নেওয়ার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানই তাদের ঋণ দেয় না।
এদিকে, ঈদকে সামনে রেখে বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় দা, বটি, ছুরিসহ সব জিনিষের মূল্য বেশি বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
পৌর শহরের নতুন হাটের বিভিন্ন দোকানে গিয়ে দেখা যায়, দা, বটি, ছুরি, হাঁসুয়া ও কুড়ালপ্রতি ১০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি মূল্য রাখা হচ্ছে।
![](files/September2015/September22/Kamarm2_190355115.jpg)
পাঁচবিবি উপজেলার আয়মা রসুলপুর গ্রামের আজিজ কসাই ও আক্কেলপুর উপজেলার গৃহস্থ রাজা মিয়া জানালেন, সারাবছর যে মূল্যে তারা দা-বটি কেনেন, এখন তার থেকে বেশি। কিন্তু তারপরও মাংস কাটার জন্য তারা নতুন করে অস্ত্র কিনছেন।
অপরদিকে, এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত কামার সম্প্রদায়ের কারিগররা পৈতৃক পেশা আকড়ে থাকলেও লোহা ও কয়লার উচ্চমূল্যের কারণে লাভ কম হওয়ায় অনেকটা হতাশ তারা। এছাড়া স্টিল ও মেলামাইনের তৈরি বিভিন্ন উপকরণের কারণে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরেও অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন পেশা পরিবর্তনে।
এ বিষয়ে জয়পুরহাট বিসিকের উপব্যবস্থাপক আবু বকর সিদ্দিক বাংলানিউজকে জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে এ শিল্পকে একটি টেকসই শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থায় কামার সম্প্রদায়ের কারিগরদের তালিকাভুক্ত করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ সময়: ০০৫৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৫
এসআর