ঢাকা: সৌদি আরবের মিনায় নিখোঁজ জাহিদুল ইসলামের মরদেহ চার দিন পর খুঁজে পেলেন তাঁর ছোট ভাই খায়রুল ইসলাম। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খায়রুল ইসলাম তার ভাবিকে এ সংবাদ জানান।
সংবাদ পেয়ে গোটা পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। শোকাহত পরিবারটিকে সান্তনা দেয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না প্রতিবেশীরা। বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর দিতে গিয়ে খায়রুল ইসলাম বুক ফাটা আর্তনাদ করছেন সুদূর সৌদি আরব থেকে।
টানা চার দিন খুঁজে রোববার তাঁর মরদেহ শনাক্ত করেন খায়রুল। পরে বিকেলে মিনার কাছে তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়।
‘আমি বেঁচে আছি, ভাইয়ের খবর নেন’ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এই শিরোনামে বাংলানিউজে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। রোববার সন্ধ্যার পর নিহত জাহিদুল ইসলামের বড় ভাই আমিনুল ইসলাম বাংলানিউজকে ভাইয়ের মরদেহ খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি আরো বলেন, ছোট ভাই ছাড়া পরিবারের আর কেউ শেষ দেখা দেখতে পেল না। প্রিয় সন্তানেরাও দেখতে পেল না তাদের বাবার মুখখানি। বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন বাবা হাজী নুরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের মিনায় ‘শয়তান স্তম্ভে’ পাথর ছোড়ার সময় পদদলনের ঘটনায় অনেক বাংলাদেশি হাজি এখনও নিখোঁজ। দুই ভাই জাহিদুল ইসলাম (৪০) ও খায়রুল ইসলাম (৩৫) এক সঙ্গে হজে গিয়েছিলেন।
![](files/September2015/September28/Hajj_725815292.jpg)
জাহিদুলের স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জানান, মিনায় যাওয়ার একটু আগেও সন্তান ও বাবা-মা’র খোঁজখবর নিয়েছেন জাহিদুল। মোবাইলে দুই ভাই আমাদের সবার সঙ্গে কথা বলেছেন। সবার খোঁজ-খবর নিয়ে দোয়া চেয়ে মিনার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। কিছুক্ষণ পরই তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাই। দীর্ঘ সময় পর দেবর খায়রুল ফোন দিয়ে বলেন- ভাবী আমি বেঁচে আছি। আপনি ভাইয়ের খবর নেন। ভাইকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না।
মেয়ে তাসমিয়া (১১) ও ছেলে ইয়াসিন (০৫) বাবার সঙ্গে কথা বলার জন্য কান্নাকাটি করছে। কিভাবে তাদের বোঝাই বাবা আর নেই, বলেন তিনি।
জাহিদুলের বাবা হাজী নুরুল ইসলাম (৭৫) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বাবা, আমি আর সহ্য করতে পারছি না। নিখোঁজ হওয়ার একটু আগেও আমার বাবা আমার খোঁজখবর নেয়। আমাকে চিন্তা করতে মানা করেছে। ওর বড় ভাইদের বলেছে, তারা যেন আমার দেখাশোনা করে। আমরা কোরবারির জন্য গরু কিনেছি কি-না, সকালে নাস্তা করেছি কি-না, তাও খবর নিয়েছিল সে।
সৌদি আরবের তথ্যকেন্দ্রে ফোন দিয়েও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি অভিযোগ করেন জাহিদুলের বড় ভাই আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, তারা ছয় ভাই। এর মধ্যে দুই ভাই ইতালিতে, দুই ভাই দেশে এবং দুই ভাই হজে গেছেন। এর মধ্যে জাহিদুল প্রথম হজে গেলেও ছোট ভাই খায়রুল এর আগেও একবার হজ করেছেন। ছোট ভাই খায়রুল মোয়াল্লেম’র দায়িত্ব পালন করছিলেন।
রাজধানীর সবুজবাগ থানার দক্ষিণ রাজারবাগ এলাকায় তাদের বাসা বলে জানান তিনি। এ এলাকা থেকে এবার হজে গিয়েছিলেন ১০ জন। যার মধ্যে দু’জন নিখোঁজ, আহত হয়েছেন ছয় জন। এর মধ্যে প্রতিবেশী মুজিবুরের (৬০) খোঁজ এখনও মেলেনি বলে জানা যায়।
বাংলাদেশ সময়: ০০২৪ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৫
এজেডকে/এসইউ
** ‘আমি বেঁচে আছি, ভাইয়ের খবর নেন’