পার্বতীপুর (দিনাজপুর): হিন্দুদের সম্পত্তি দখলের অভিযোগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের পদত্যাগ দাবি করার প্রতিবাদে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মানববন্ধন, মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারী) বিকেল ৪টার দিকে পার্বতীপুর শহরের শহীদ মিনার রোডে উপজেলা আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও জাতীয় পূজা উদযাপন পরিষদ পার্বতীপুর শাখা যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করে।
শহীদ মিনার রোডের মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও জাতীয় পূজা উদযাপন পরিষদ পার্বতীপুর উপজেলা শাখার সভাপতি শচীন্দ্র নাথ সাহা, সাধারণ সম্পাদক নীলকান্ত মহন্ত, জাতীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি পৌর কাউন্সিলর কৈলাশ প্রসাদ সোনার, সাধারণ সম্পাদক দিপেশ চন্দ্র রায়, মন্মথপুর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ধরণী কান্ত রায়, রেল শ্রমিক নেতা শুভ্রকান্তি রায় বিজয় প্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- পার্বতীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম প্রামাণিক, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, যুগ্ম সম্পাদক কৃষিবিদ নূর মোহাম্মদ রাজা প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান হিন্দুদের কোনো সম্পত্তি দখল করেননি। অর্পিত সম্পত্তি আইন প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতারা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য তুলে ধরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করেছেন। জাতীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কাজল দেবনাথ মিথ্যা অভিযোগে মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তারা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
৮ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, জাতীয় পূজা উদযাপন পরিষদ, অর্পিত সম্পত্তি আইন প্রতিরোধ আন্দোলন, ব্লাস্ট, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনসহ কয়েকটি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়ন জাতীয় নাগরিক সমন্বয় সেল’ সারাদেশে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল ও নির্যাতনে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা জড়িত বলে অভিযোগ উত্থাপন করে।
এ সময় পার্বতীপুরে ৫৫ পরিবারের লোকজনের ওপর নির্যাতন ও সম্পত্তি দখলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানকে জড়ানো হয়। পার্বতীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ পার্বতীপুর শাখা ও জাতীয় পূজা উদযাপন পরিষদ পার্বতীপুর উপজেলা শাখা অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে। অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান জাতীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কাজল দেবনাথকে উকিল নোটিশ দেন।
এর প্রতিবাদে জাতীয় পূজা উদযাপন পরিষদ ১৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৪০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৬
এমজেড