তিনদিন ধরে রৌমারী সীমান্তের আলগার, খেওয়ারচর, লাঠিয়ালডাঙ্গা, বকবান্দা, বড়াইবাড়ি, ঝাউবাড়িসহ ১০টি গ্রামে হাতির পালটি তাণ্ডব চালাচ্ছে। এ অবস্থায় সবচেয়ে বিপদে পড়েছে সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকরা।
বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে রৌমারী সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ১০৭১ এর কাছে আলগারচর এলাকা দিয়ে একটি হাতির পাল ঢুকে পড়ে।
রাত ১০টার দিকে সীমান্তের খেওয়ার চর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হাতি আতঙ্কে বাড়ি-ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন গ্রামবাসী। শত শত মানুষ মশাল জ্বালিয়ে, ঢোল বাজিয়ে, পটকা ফাটিয়ে হাতির পাল তাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হাতির পাল ১০৭১ পিলার এলাকা ছেড়ে উত্তরে ১০৬৭ পিলার এর কাছে বড়াইবাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেয়।
ওই এলাকার কৃষক আব্দুল গণি (৬৫) বাংলানিউজকে জানান, এক কৃষকের ২১ শতক জমিতে লাগানো ধানের বীজতলার সবটুকুই হাতির পাল খেয়ে ফেলেছে। রক্ষা পায়নি রফিকুল ইসলামের ভূট্টা ও আখ ক্ষেত। হাতির পালটি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে ১২টি বসতবাড়ি তছনছ করেছে। এসব বাড়িঘরের আসবাবপত্র ভাঙার পাশাপাশি ঘরে রাখা সব ধান-চাল ও সরিষা খেয়ে ফেলেছে হাতির পাল।
এদিকে, হাতির তাণ্ডবের খবর পেয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিনসহ প্রশাসনিক কর্মচারী-কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল খেওয়ারচর পরিদর্শন করেছেন।
এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জাকির হোসেন, রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিনুসহ শত শত মানুষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন বাংলানিউজকে জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর হাতির পাল কাঁটাতারের বেড়া ভেদ করে বাংলাদেশে ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালাচ্ছে। আবার ভোরের আলো ফুটলে তারা ফিরে যায়। এভাবে চলতে থাকলে কৃষক আর আবাদ করতে আগ্রহী হবে না।
কীভাবে কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা যায় তা সংসদে উত্থাপন করবেন বলেও জানান সংসদ সদস্য রুহুল আমিন।
বৃহস্পতিবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টা পর্যন্ত হাতির পালটি সীমান্তের ১০৬৭ এর কাছে বড়াইবাড়ি সীমান্তের ঠিক পশ্চিম পাশে একটি আখক্ষেতে অবস্থান করছিল।
বাংলাদেশ সময়: ০৭০১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০১৭
এমজেএফ/এমজেএফ/এসআই