সোমবার (২৭ মার্চ) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. রেজাউল করিম এই রায় দেন। একই মামলার অপর চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেন তিনি।
দণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন-নাটোরের সিংড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের চান প্রামাণিকের ছেলে সুইট প্রামাণিক (৩২) এবং একই গ্রামের আলী মুদ্দিনের ছেলে চান মিয়া প্রামাণিক ওরফে ফেরদৌস (৩০)।
বাদীপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিউকিটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাজাহান কবির বাংলানিউজকে জানান, সুইট ও ফেরদৌস ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট রাত ৮টার দিকে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসর এলাকা থেকে প্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে ধরে সিংড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় নিয়ে যান। সেখানে ব্রিজের নিচে নিয়ে তারা মেয়েটিকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান। এতে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে এলাকার লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। সিংড়া উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের এক নারী তাকে বাড়িতে আশ্রয় দেন তাকে। কিন্তু ওই কিশোরী পরে নিজেই সেখান থেকে চলে যায়।
পরে মেয়েটিকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনার ঝড় ওঠে এবং সালিশ বৈঠক হয়। পরে এনিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর পুলিশ তৎপর হয়।
২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর সুইট ও ফেরদৌসসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সিংড়া থানায় মামলা করেন কুসুম্বী কালগিঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল জব্বার।
ওই মামলার বাকি আসামিরা হলেন-ইসমাইল মোল্লার ছেলে মাহাবুর রহমান (৩২), জালালের ছেলে মো. মজনু (৩৫), দেলবর হোসেনের ছেলে মোস্তা (৩০) ও জহুরুল ইসলামের ছেলে শান্ত (১৮)।
সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দুপুরে দু’জনকে যাবজ্জীবন ও চারজনকে বেকসুর খালাস দেন বিচারক মো. রেজাউল করিম।
আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট হারুনার রশীদ ও অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম।
বাংলাদেশ সময়: ১৯১৯ ঘণ্টা, মার্চ ২৭, ২০১৭
এসআই