সোমবার (২৪ এপ্রিল) ভোর থেকে থেমে থেমে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হয়ে চলে সকাল ৯টা পর্যন্ত।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ (পিআইও) সংশ্লিষ্টরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
সিংড়ার ৩নং ইটালি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাংলানিউজকে জানান, ভোরে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবল বেগে কালবৈশাখী ঝড় এবং সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়।
ঝড়ের কবলে পড়ে ইটালি ইউনিয়নের মানিকদিঘি, পাকুরিয়া, কালাইকুড়ি, সাতনদিঘি ও বিক্রমপুর গ্রামের অন্তত ৩৫টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও অসংখ্য ঘরবাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা এবং ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে উঠতি বোরো ধান ও ভূট্টার। এছাড়াও ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ওইসব গ্রামের।
তিনি আরো জানান, ঝড় ও বৃষ্টি থামার পরপরই ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের ঘরবাড়ি মেরামত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ঝড়ের কারণে ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ায় এলাকার অনেকেই খোলা আকাশের নিচে রয়েছে। ঘরবাড়ি যথাসময়ে মেরামত করা না গেলে আবারও তাদের বৃষ্টির পানিতে ভিজতে হবে।
সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাজ্জাত হোসেন জানান, ঝড়ে বোরো ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে, এতে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে তবে ব্যাপকভাবে কোনো ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। বৃষ্টিপাত আর না হলে এবং রোদ হলেই বোরো ধানের সমস্যা কেটে যাবে। ইতোমধ্যে কৃষকরা বোরো ধান কাটতে শুরু করেছেন।
সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল আহসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাংলানিউজকে জানান, সকালের ঝড়ে ইটালি ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের ৩০/৩৫টি বাড়ির চালা উড়ে গেছে। অসংখ্য গাছ-পালা ভেঙে গেছে। বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করতে পিআইও এবং কৃষি কর্মকর্তাকে নিদের্শ দেওয়া হয়েছে। তারা ওই এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করছেন। তাদের তালিকা পেলেই ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ সময়: ১৫০০ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৪, ২০১৭
আরএ