মামলাটির প্রধান আসামি টাঙ্গাইল-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে আদালতে হাজির না করায় সোমবার অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়নি। এর আগেও একই কারণে পাঁচবার অভিযোগ গঠনের তারিখ থাকলেও তা গঠন করা হয়নি।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌসুলী মনিরুল ইসলাম খান জানান, প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১-এর বিচারক আবুল মনসুর মিয়ার আদালতে গতকাল শুনানি গঠনের তারিখ ধার্য ছিল। কিন্তু কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানিয়েছে, সংসদ সদস্য আমানুর রহমান রানা অসুস্থ হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বুকে ব্যাথা ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন।
সোমবার আদালতে হাজির করা যায়নি। পরে আদালত অভিযোগ গঠনের জন্য আগামী ১২ জুন নতুন তারিখ দিয়েছেন।
২২ মাস পলাতক থাকার পর সংসদ সদস্য আমানুর গত ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে আছেন। এর আগে ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ও ৯ নভেম্বর এবং চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি, ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১৫ মার্চ তাঁকে আদালতে হাজির করতে না পারায় এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ পেছানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়া এলাকায় নিজ বাসার সামনে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া যায়। এর তিনদিন পর তাঁর স্ত্রী নাহার আহমেদ টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। এতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। প্রথমে পুলিশ ও পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলাটির তদন্ত শুরু করে।
২০১৪ সালের আগস্টে সন্দেহভাজন হিসেবে আনিসুল ইসলাম ওরফে রাজা ও মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তাঁদের স্বীকারোক্তিতে সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও তাঁর অপর তিন ভাইয়ের জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে। এরপর থেকে রানা ও তাঁর ভাইয়েরা আত্মগোপনে চলে যান।
বাংলাদেশ সময়: ১৫৪৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৪, ২০১৭
আরএ