কেউ যাতে টের না পায় সেজন্য বোরখা পরে এসেছিলেন অপহরণকারী সাবিনা আক্তার বৃষ্টি (২৭)।
অপহরণের পর শিশু সুমাইয়াকে আটকে রাখা হয় কদমতলীর একটি বাসায়।
এর আগে, চলতি বছরের ০৩ এপ্রিল রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে কৌশলে সুমাইয়াকে অপহরণ করা হয়। তবে অপহরণকারীরা কোনো মুক্তিপণ দাবি করেননি। এরপর পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে বুধবার (২৬ এপ্রিল) রাতে কদমতলী থানার রহমতবাগ দক্ষিণ দনিয়া এলাকার কামালের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। এ সময় ওই বাসা থেকেই দুই অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়।
মূলত কি কারণে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছিল তা জানা যায়নি। তবে পুলিশ ধারণা, পাচারকারী কোনো চক্রের সঙ্গে এই অপহরণকারীরা জড়িত।
গ্রেফতারের পর অপহরণকারী সাবিনা আক্তার বৃষ্টি ওরফে অথৈই বৃষ্টি (২৭) ও তার বাবা সিরাজ মিয়া ওরফে বাবুলকে (৪৮) বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে আদালতে উপস্থাপন করে পুলিশ। এরপরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রত্যেকের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জর করেন আদালত।
ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. নাজির আহমেদ খান বাংলানিউজকে বলেন, এই ঘটনায় শিশুটিকে উদ্ধারসহ দুই অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রথমিকভাবে তারা কিছু তথ্য দিয়েছে। রিমান্ডে আরও জানা যাবে।
শিশু উদ্ধারে অংশ নেওয়া এক পুলিশ সদস্য জানান, তারা ওই এলাকার সব কটি বাড়ি ঘিরে ফেলেছিলেন। কোনো দিক থেকেই যেন আসামি পালিয়ে যেতে না পারেন। পরে বাড়িতে ঢুকে সুমাইয়াকে দেখতে পান। সুমাইয়া তখন ঘুমে। পাশেই ছিলেন সাবিনা। লালবাগ অঞ্চলের উপকমিশনার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ ঘুমন্ত সুমাইয়াকে কোলে তুলে নেন। অন্যরা সাবিনা বৃষ্টি ও তার বাবা সিরাজকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে আসেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বাংলানিউজকে জানান, ১১ বছর বয়সে সাবিনা বৃষ্টিকে কক্সবাজারের এক দালালের কাছে বিক্রি করে দেন তার মা। পরে সেখানে দীর্ঘদিন থাকার পর ভারতে চলে যান তিনি। প্রায় এক বছর পর দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে কাজল ইসলাম নামে এক ছেলেকে বিয়ে করেন। বর্তমানে তার স্বামী মাদক সংক্রান্ত মামলায় কারাগারের আছেন। ফলে তিনি থাকতেন বাবার সঙ্গে।
বাংলাদেশ সময়: ১৩০১ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৮, ২০১৭
এসজেএ/আইএ