ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই বন্দর সরকারের বড় অংকের রাজস্ব যোগানদাতা হলেও এখানকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে সংশিষ্ট কারও তেমন নজরদারি নেই। ফলে শুরু থেকেই তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের বক্তব্য, বন্দর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকে এনিয়ে কাজ চলছে।
বাংলানিউজের অনুসন্ধানে দেখা যায়, দিনের অধিকাংশ সময় বন্দর এলাকায় বিদ্যুৎ থাকে না। আর ঝড়-বৃষ্টি হলে কমপক্ষে দু’দিন বিদ্যুতের দেখা মেলে না। তাই সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে রাখতে হচ্ছে জেনারেটর। বন্দর, কাস্টমস চেকপোস্ট, ইমিগ্রেশন, পর্যটন করপোরেশন, ব্যাংক, বিমা সবখানেই দেখা যায় জেনারেটরের লাইন সংযোগে অফিসিয়াল কার্যক্রম চলছে। কিন্তু এসব জেনারেটর কম ক্ষমতাসম্পন্ন হওয়ায় ভারী যন্ত্রের মেশিনগুলো ভালোভাবে চলছে না। মাঝে মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পণ্য খালাস কাজে ভোগান্তিতে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
জানা যায়, বেনাপোল বন্দর থেকে ভারতের কলকাতা শহরের দূরত্ব ৮৩ কিলোমিটার। যোগযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় এপথে বাণিজ্যে আগ্রহ বেশি দু’দেশের ব্যবসায়ীদের। কিন্তু সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বাণিজ্য।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিনুল হক বাংলানিউজকে জানান, শুরু থেকেই এখানকার অবকাঠামোর বেহাল দশা। বন্দর এলাকায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সম্পৃক্ত সরকারি-বেসরকারি প্রায় তিন হাজার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয় এসব প্রতিষ্ঠানে। প্রতিবছর এ বন্দর দিয়ে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি হচ্ছে। যা থেকে সরকার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করছে। এটি এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অবহেলিত।
বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, আমদানি পণ্য থেকে সরকার যে রাজস্ব পায় ওই টাকা লেন-দেন হয় এ ব্যাংকে। সারাদিন জেনারেটর চালিয়ে কাজে ভোগান্তি হয়। কিন্তু কি করবো উপায় নেই।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ হোসেন বলেন, কম্পিউটারে পাসপোর্টধারী যাত্রীর কাজ সম্পন্ন করতে হয়। যাত্রীদের সমস্ত তথ্য সেখানে সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু বিদ্যুৎ চলে গেলে ইন্টারনেট সার্ভার বিকল হয়ে কাজ বাধাগ্রস্ত হয়।
বেনাপোল কাস্টমস হাউজের সহকারী যুগ্ম কমিশনার (০২) এহসানুল হক বাংলানিউজকে বলেন, এখন বিদ্যুৎ ছাড়াতো কিছুই ভাবা যায় না। যদিও কাস্টমস হাউজে বিকল্প ব্যবস্থা জেনারেটর রয়েছে, কিন্তু জেনারেটরতো দীর্ঘক্ষণ চালানো মুশকিল। বাণিজ্যের স্বার্থে এখানে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকা আবশ্যক।
বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী স্বপন বলেন, বৃষ্টি-বাতাস হলে দিনভর বিদ্যুৎ থাকে না। আর ঝড় হলে দু’দিন ধরে বিদ্যুতের দেখা মেলে না। আন্তর্জাতিক একটা বন্দর এলাকায় এ অবস্থা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) আব্দুর রউফ বাংলানিউজকে জানান, বন্দরে ২৪ ঘণ্টা পণ্য খালাস কার্যক্রম চলে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে পণ্য খালাসে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। বন্দরে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ খুব জরুরি।
এ বিষয়ে শার্শা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মনোয়ারুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ৩২ কিলোমিটার দূরে যশোর থেকে বিদ্যুতের লাইন এনে বেনাপোল বন্দর এলাকায় সরবরাহ করা হয়। ঝড়, বৃষ্টিতে তারের উপর গাছ পড়লে লাইন বন্ধ রাখা হয়। যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নাভরনে বিদ্যুতের গ্রিড সাব-স্টেশন বসানো হচ্ছে। এক বছর লাগবে কাজ শেষ হতে। তখন এখানে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চত হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১২৪৬ ঘণ্টা, মে ০৮, ২০১৭
এজেডএইচ/ইউএম/এএ