ঢাকা, বুধবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৬ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

বেহাল রাতারগুল সড়ক যেনো দুর্ভোগের ‘ঝরনাধারা’!

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮৩১ ঘণ্টা, মে ৮, ২০১৭
বেহাল রাতারগুল সড়ক যেনো দুর্ভোগের ‘ঝরনাধারা’! বেহাল রাতারগুল সড়ক-ছবি: আসিফ আজিজ

রাতারগুল (সিলেট) থেকে ফিরে: সিলেট শহর থেকে মাত্র ২৬ কিলোমিটার দূরে দেশের একমাত্র স্বীকৃত সোয়াম্প ফরেস্ট (জলা-জঙ্গল) রাতারগুল। জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নে এর অবস্থান।

শহর থেকে পৌঁছতে পৌনে এক ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। অথচ এই সময়টুকু শেষ হতে দেয় না নিদারুণ সড়ক।

বেহাল সড়ক অতিক্রম করেই যেতে হয় রাতারগুলে। রাতারগুলে পৌঁছতে তাই লেগে যাচ্ছে কম করেও দেড় ঘণ্টা।

শহর পেরিয়ে বিমানবন্দর সড়কে সিলেট ক্যাডেট কলেজ। কলেজ পাড়ি দিয়ে ডানে মোড় নিয়ে সদর উপজেলার কাকুয়ারপাড় ও ধোপাগুল পয়েন্ট অতিক্রম করে যাত্রা শুরু নরক-যন্ত্রণার এই সড়ক দিয়ে। বেহাল রাতারগুল সড়ক-ছবি: আসিফ আজিজপর্যটন কেন্দ্রমুখী সড়ক হিসেবে যেমনটি এর থাকার কথা, ঠিক উল্টোটাই রাতারগুলোর বেলায়। সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নের কাঁকুয়ারপাড় থেকে ভাঙা সড়ক ধরে যাত্রা শুরু। খানিক দূর গেলে দেখা মেলে সড়ক ধরে বৃষ্টির পানি প্রবাহের গতিপথ বারোটা বাজাচ্ছে সড়কের। যেনো রাতারগুল সড়ক নয়, বরং সড়ক এক ঝরনাধারা। পানির তোড়ে ভেঙে যাচ্ছে সড়ক। যেন কারো কোনো দায় নেই। দেখারও কেউ নেই। ভাঙা সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। আর এই পথ মাড়িয়েই যেতে হয় কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য রাতারগুলে।

এখানেই দুর্ভোগের শেষ নয়। একপাশে বিমানবন্দর রানওয়ে, অন্যপাশে চা-বাগানে যখন পর্যটকদের দৃষ্টি,ঠিক তখনই বড়সড় এক গর্তে ধপ্পাস করে পড়লো গিয়ে গাড়ির চাকা। একটু বে-খেয়াল হলে যা হয়-আরকি!বেহাল রাতারগুল সড়ক-ছবি: আসিফ আজিজধোপাগুল পয়েন্টে গিয়ে একটি সড়ক চলে গেছে সিলেটের ‘পাথররাজ্য’ বলে খ্যাত কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জের দিকে। যে সড়কটি সংস্কারে ব্যয় হচ্ছে ৪শ’ ৪১ কোটি টাকা। তবে সেই উন্নয়নের তালিকার অন্তর্ভুক্ত নয় রাতারগুল সড়কটি।

ধোপাগুল পয়েন্ট থেকে ডানে মোড় নিয়ে চলে যাওয়া সড়কটির গন্তব্য রাস্তারগুলে। কিন্তু বিপত্তি এখানেও। রাস্তায় একাধারে বিশালাকারের দুটি গর্তে জমে থাকা পানি পেরিয়ে সড়ক-দানব ট্রাক পেরিয়ে যেতে পারলেও আটকে যাচ্ছে ছোট ও মাঝারি আকারের যানবাহন। আটকে যাওয়া গাড়িকে গর্ত পার করাতে গলদঘর্ম হচ্ছেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। এছাড়া করার তো কিছু নেই!

তবে এরপর সড়কের অবস্থা এতোটা ভয়াবহ না হলেও খানা খন্দক পেরিয়ে যেতে হবে পুরো ২৬ কিলোমিটার। এরপর পৌঁছবেন কাঙ্ক্ষিত সেই জলার বন বা জলা-জঙ্গলে। যেখানে শীতের শুরুতেই আনাগোনা শুরু হয় অতিথি পাখিদের। উপরে গাছ, নীচে জল। চারিদিকে পিনপতন নীরবতা। বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া লেকে চলে পাখির 'ডুবো খেলা'। বনজুড়ে চরে বেড়ায় নানা প্রজাতির প্রাণী। হাওর আর নদীবেষ্টিত অপূর্ব সুন্দর বন দেখার পর আপনি ভুলে যাবেন ভাঙা সড়কের জাকন্দনি (যন্ত্রণা)। বেহাল রাতারগুল সড়ক-ছবি: আসিফ আজিজএ ব্যাপারে সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মনিরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, সড়কটির অবস্থা সত্যিই খারাপ। ২৬ কিলোমিটার সড়কের কিছুটা অংশ (প্রায় ৩ কিলোমিটার) আমাদের। বাকিটা এলজিইডির আওতাধীন। কোম্পানীগঞ্জ সড়ক সংস্কারের সঙ্গে ওই অংশটিরও সংস্কার করা হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম মহসিন বাংলানিউজকে বলেন, সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের ধোপাগুল পয়েন্ট থেকে রাতারগুল পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার রাস্তা এলজিইডির আওতাধীন। রাস্তাটি সংস্কারে ৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঝড়-বৃষ্টির জন্য মেয়াদান্তে কাজ শেষ হচ্ছে না। তবে এবার না হোক আগামী বছর এই সড়কটি ভাল হয়ে যাবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৩২ ঘণ্টা, মে ০৮, ২০১৭
এনইউ/জেএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।