সোমবার (৮ মে) বিকেলে পিরোজপুর সিনিয়ির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান মামলাটি আমলে নিয়ে স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এফআইআরের নির্দেশ দেন।
মামলার আসামিরা হলেন-স্বরূপকাঠি পৌর মেয়র গোলাম মো. কবির (৫৯), সোহাগদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মিয়া (৫০), আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখর শিকদার (৪৫), সমুদয়কাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহমুদ করিম সবুর তালুকদার (৪৮), সুটিয়াকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গাউছ তালুকদার ও স্থানীয় সাংবাদিক মো. কাওসার তালুকদার (৫৫)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২৪ এপ্রিল নেছারাবাদ উপজেলা বন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে পিরোজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেছারাবাদ উপজেলার গোলপাতা ব্যবসায়ী এম এ সালাম রেজা ও শরণখোলা উপজেলার বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৪ লাখ ১৫ হাজার ১৪৪ টাকা বন ও পরিবেশের ক্ষতি করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। ৪ মে বিকেলে স্বরূপকাঠি পৌরসভার মেয়র গোলাম মো. কবির উপজেলা বন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনকে তার কার্যালয়ে ডেকে সালাম রেজা ও বেলায়েতের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে এবং জব্দ করা কাঠ ও ট্রলারটি ফেরত দিতে বলেন। সাজ্জাদ হোসেন পৌর মেয়রের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিনি সাজ্জাদ হোসেনকে মারধর করেন।
এ সময় সেখানে উপস্থিত আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখর কুমার সিকদার রিভলবার উঁচিয়ে সাজ্জাদ হোসেনের মাথায় ধরে সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলেন। এছাড়া সোহাগদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ ও সুটিয়াকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গাউছ তালুকদার, সমুদয়কাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহামুদ করিম সবুর তালুকদার বন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনকে মারধর করেন। এরপর পৌরভবনে তাকে আটকে রাখেন।
পরে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়ালের হস্তক্ষেপে বন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন ছাড়া পান। এ ঘটনায় সাজ্জাদ হোসেন স্থানীয় থানায় মামলা করার জন্য গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে তিনি আদালতে মামলা করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মোস্তফা কামাল শামীম বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এফআইআরের নির্দেশ দিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৮৩০ ঘণ্টা, মে ০৮, ২০১৭
আরএ