সোমবার (৮ মে) রাতে সংসদ কাজে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বিলটি সংসদ উত্থাপনের প্রস্তাব করলে স্পিকার বিলটি প্রত্যাহারের প্রস্তাব ভোটে দেন। পরে সর্বাধিকে ভোটে বিলটি প্রত্যাহার করা হয়।
এর আগে রোববার (৭ মে) রাতে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু বিলটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করেন।
২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল ইপিজেডের শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক নিয়োগ, মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্ক, সর্বনি¤œ মজুরির হার নির্ধারণ, মজুরি পরিশোধ, কার্যকালে দুর্ঘটনাজনিত কারণে শ্রমিকের জখমের ক্ষতিপূরণ, শ্রমিকের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা প্রভৃতি বিষয়ে বিধান প্রণয়ন এবং শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গঠনের লক্ষ্যে আনা এ বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একটি সাব কমিটিও গঠন করা হয়। সাব কমিটি দু’টি ও মূল কমিটি ৬ দফা বৈঠক করেও বিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, অতীতের নিয়ম ভেঙে বিলটিতে পোশাক শিল্পের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিদেশি দেশগুলোর বাংলাদেশে অবস্থানকারী কূটনীতিদের কমিটি বৈঠকে মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এর আগে বিলটি সংসদে উত্থাপনের পরই এর উপর মতামত দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত, কানাডার হাইকমিশন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) ও ইন্টারন্যাশনাল লেবার অরগানাইজেশন (আইএলও)।
পরে কমিটির বৈঠকে তারা প্রতিনিধি পাঠান এবং বিলের উপর মতামত দেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে কর্মকর্তা ডেভিট মাইকেলকে পাঠানো হয়। বাংলাদেশে টেকসই গার্মেন্ট শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে বৈঠকে তিনি বলেন, ইপিজেড শ্রম বিলটি পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু বিলে আইএলও সংশ্লিষ্ট বিষয়টি সঠিকভাবে বিবেচিত হয়নি।
সূত্র জানায়, বিলের উপর দেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়। মতামত দেন মালিক, শ্রমিক ও কর্মচারী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাই। কিন্তু সবার মতামতের পর বিলটি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা দেখা দেয়। যে কারণে বিলটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করে কমিটি। আর ১৫ দিনের জন্য কমিটিতে পাঠানো হলেও এক বছর ১৫ দিন পর সংসদে প্রতিবেদন উত্থাপন করেন কমিটির সভাপতি আবদুল মতিন খসরু।
এদিকে সংসদে উত্থাপিত বিলে বলা হয়, ইপিজেডে অবস্থিত কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক কল্যাণ সমিতি করতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের ৩০ শতাংশ শ্রমিককে ইপিজেড কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীদের মধ্যে ভোটের ব্যবস্থা করা হবে। তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশ সমিতি করার পক্ষে ভোট দিলে সমিতি অনুমোদন পাবে। এই সমিতি শিল্প প্রতিষ্ঠানের যৌথ দর-কষাকষির এজেন্ট হবে বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এ ব্যবস্থা আইএলও কনভেনশনের পরিপন্থি বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
বাংলাদেশ সময়: ২০৩০ ঘণ্টা, মে ০৮, ২০১৭
এসএম/এএ