নীলফামারী: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আগে স্থানীয় ও সংস্কার শেষে জাতীয় নির্বাচনের তাগিদ দিয়ে বলেন, স্থানীয় সরকার প্রশাসকদের জনগণ তাদের প্রতিনিধি মনে করে না। তারা তাদের ঘুষের রেট বাড়িয়ে দিয়ে বেশি হয়রানি করে।
বিগত আওয়ামী লীগের সময় তারা শালা, সম্বন্ধী আত্মীয়-স্বজন মিলে স্থানীয় নির্বাচনের নামে সবকিছু দখল করেছে। জামায়াতের রাজনীতি জন-দুর্ভোগ বাড়াতে নয় কমানোর জন্য।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলার ডোমার উপজেলা জামায়াত আয়োজিত এক পথসভায় তিনি একথা বলেন।
ডোমার উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা আমির খন্দকার আহমাদুল হক মানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, জেলা আমির অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, এতগুলো মানুষ জীবন দিল, পঙ্গু হলো, তোমার তো সহকর্মী। তারা এখন দুনিয়ায় নেই। তাদের রক্ত ও তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে সম্মান জানাতে তিনি আবেদন করেন। শহীদদের জীবন ও রক্তের কোনো মূল্য কি তাদের কাছে নেই বলে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, চাঁদাবাজি দখলবাজিকে শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা বলে।
বাংলাদেশ দুঃশাসন মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো হচ্ছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন সম্ভব নয়। এ সময় নির্বাচন হলে তা ইলেকশন জেনোসাইট বলে তিনি দাবি করেন। চরম বিশৃঙ্খলা হবে, রক্তের বন্যায় ভাসবে বাংলাদেশ। আমরা এটা চাই না। আমরা চাই দেশের সব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে আইন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে, জনগণকে স্বস্তির সঙ্গে ভোট প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। শেখ হাসিনার পৌনে ২ কোটি ভুয়া ভোটার বাতিল, মৃতদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে স্থানীয় নির্বাচন আগে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সংখ্যালঘুদের বিষয়ে তিনি বলেন, সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু বলে কিছু নাই, আমরা এসব মানি না। সবাই এ দেশের মর্যাদাবান নাগরিক। এগুলো দেশের পক্ষ-বিপক্ষ সৃষ্টি করে, আমাদের ঐক্যর বাংলাদেশ প্রয়োজন। তাহলে কেউ প্রভু হিসেবে সামনে আসবে না। সবার সমান অধিকার, আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত, দুঃশাসনমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ চাই।
নারী সমাজের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসলাম ক্ষমতায় গেলে, নারীরা বেশি সুবিধা ভোগ করবে।
তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে নারীরা মর্যাদা ও নিরাপত্তা পাবে। জামায়াত সম্পর্কে সুবিধাভোগীরা ভয় দেখিয়ে আসছে। যাকে তিনি আন্তর্জাতিক নিকৃষ্ট উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন।
বেকারদের উদ্দ্যেশ্যে তিনি বলেন, দেশে সুশিক্ষার পরিবর্তে কু-শিক্ষা দেওয়া হয়। এ শিক্ষা মানুষ বানায় না, দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে না। তাই সার্টিফিকেটের বস্তা নিয়েও চাকরি মেলে না। আমরা ক্ষমতায় গেলে নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি পেশাগত দক্ষ এমন শিক্ষা দেওয়া হবে, যেদিন শিক্ষার পাট শেষ হবে সেদিন যোগ্যতানুযায়ী চাকরির অফার লেটার তাদের দেওয়া হবে। আমরা কাউকে বেকার থাকতে দেব না।
তিনি কারো ভয় দেখানো ও চোখ রাঙানিকে ভয় পায় না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। জামায়াতে ইসলামী দেশের সবচেয়ে মজলুম দল উল্লেখ করে তিনি একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে সবাইকে তাদের পাশে থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ সময়: ২১৫১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫
আরএ