ফলে সবচেয়ে বড় পিলারের পাইলিং সবার আগে শেষ করে একটি বড় চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করলেন সেতুর প্রকৌশলীরা। ৮০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার ব্যাসের এসব পাইল এখন খুঁটি ওঠানোর উপযোগী হয়েছে বলেও বাংলানিউজকে জানান তারা।
মুন্সীগঞ্জের মাওয়া থেকে ৬ কিলোমিটার পদ্মানদী পার হয়ে শরীয়তপুরের জাজিরায় যে অংশে সেতুর অন্য অংশ নামবে, সেখানে রয়েছে ৪২তম ও শেষ পিলার। ছয়মাস কাজ করে সোমবার (০৮ মে) শেষ হয়েছে ওই পিলারের ১৬টি পাইলিংয়ের কাজ।
বাংলাদেশে এতো বড় আকারের দীর্ঘ পাইল দিয়ে কোনো নির্মাণ অবকাঠামো গড়ে তোলার ঘটনা আর দ্বিতীয়টি নেই বলেও জানিয়েছেন সেতু প্রকৌশলীরা।
পদ্মাসেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের বাংলানিউজকে জানান, সোমবার (০৮ মে) পদ্মাসেতুর ৪২তম পিলারের (পিয়ার-৪২) সব পাইলের কাজ শেষ হলো। গত ছয়মাস ধরে মূল সেতুর সর্বশেষ এ পিলারে ১৬টি পাইলের কাজ চলছিলো। প্রথমে ৩টি পাইলিংয়ের পর সাড়ে ৪ হাজার টন লোড দিয়ে ৪৫ দিন ধরে টেস্ট করে সফল হন প্রকৌশলীরা। পরে অন্য পাইলগুলোরও কাজ শুরু হয়। এখন শুধু খুঁটি তোলা বাকি।
তিনি বলেন, সর্বশেষ ও সবচেয়ে বড় পিয়ারের সব পাইলিং শেষ হলো সবার আগে। খুব শিগগিরই মাওয়া পাড়ের ১নং পিলারের (পিয়ার-১) ১২টি পাইলিং শুরু হবে।
সেতু প্রকল্পের প্রকৌশলীরা জানান, মূল পদ্মাসেতুর নদীর মাঝে ১৫০ মিটার পর পর ৪০টি পিলারে ৬টি করে থাকছে মোট ২৪০টি পাইল। একেকটি পিলারে ইংরেজি উল্টো ভি’ অক্ষরের মতো বাঁকা করে পাইল ড্রাইভিং করা হচ্ছে। আর মাওয়া পাড়ের ১২টি ও জাজিরা পাড়ের ১৬টি পাইলের বোরড পাইলিং করা হচ্ছে আরও একটি করে দু’টি পিলারে।
এভাবে ৪২টি পিলারের ওপর স্প্যান বসিয়ে নির্মাণ করা হবে ৬.১৫ কিলোমিটারের মূল পদ্মাসেতু।
নদীর মাঝের ২৪০টি পাইলের মধ্যে ৬২টির পাইল ড্রাইভিং ও জাজিরা পাড়ের ১৬টির বোরড পাইলিংসহ ৭৮টির পাইলের কাজ এ পর্যন্ত সম্পন্ন হলো বলে জানান প্রকৌশলীরা।
এছাড়া দেড় কিলোমিটার করে উভয়পাড়ের তিন কিলোমিটার সংযোগ সড়কের (ভায়াডাক্ট) জন্য আরও ২৪টি পিলারে হবে ৩৬৫টি পাইল। এর মধ্যে রয়েছে মাওয়া অংশের ১৭২টি ও জাজিরা অংশের ১৯৩টি পাইল। জাজিরা অংশের ৯১টির পাইলিং সম্পন্ন হলেও মাওয়া অংশের কাজ শুরু হয়নি।
সেতু প্রকৌশলীরা জানান, শুরুতে পিয়ার-৪২ এ ডিজাইন প্রতিষ্ঠান ১২টি ০৩ মিটার ব্যাসের পাইল ডিজাইন করে। পরবর্তীতে মাটি পরীক্ষা ও লোড টেস্টের ভিত্তিতে ১২টির পরিবর্তে ১৬টি ৮০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ০৩ মিটার ব্যাসের পাইল কনস্ট্রাকশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যার কাজ এখন শেষ হলো।
সেতু প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, পদ্মাসেতুর কাজের ৭০ শতাংশ মাটির গভীরে। নদীর মাঝের এ অংশের পাইল ড্রাইভিংই হলো আসল কাজ। যে কাজ এখন দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। ড্রাইভ ও বোরড পাইলিং শেষ হলে সেতুর ওপরের অংশে স্প্যান বসাতে বেশি সময় লাগবে না।
এরই মধ্যে মাওয়ায় পদ্মাসেতুর দু’টি স্প্যান তৈরি শেষে বসিয়ে রাখা হয়েছে। একসঙ্গে চারটি স্প্যান আগামী জুলাই মাসে পিয়ারের ওপর বসবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
স্প্যানগুলো নদীর মাঝের পিলারের ওপরে তুলতে ৩ হাজার ৬০০ টনের ‘ফ্লোটিং ক্রেনও’ মাওয়ায় অপেক্ষা করছে।
মূলত পাঁচটি প্রধান প্যাকেজে ভাগ করে চলছে স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের সবচেয়ে বড় এ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ।
এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কাজই হলো মূল সেতু নির্মাণ। এরপরে নদীশাসনের সঙ্গে রয়েছে আরও তিনটি অপেক্ষাকৃত ছোট প্রকল্প। যার মধ্যে অন্যতম অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ। মাওয়া অংশে কেবলই সড়ক, তবে জাজিরা অংশে রয়েছে সড়কের পাশাপাশি আরও অন্তত পাঁচটি সেতু নির্মাণের কাজ।
সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুসারে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সেতুর কাজ শেষ হবে। একইসঙ্গে চালু হবে সড়ক ও রেলসেতু। দ্বিতল পদ্মা বহুমুখী সেতুর পুরোটা হবে স্টিল আর কংক্রিট স্ট্রাকচারে। সেতুর ওপরের তলায় থাকবে চারলেনের মহাসড়ক আর নিচ দিয়ে যাবে রেললাইন।
বাংলাদেশ সময়: ২১০০ ঘণ্টা, মে ০৮, ২০১৭
এসএ/এএসআর