এসব জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য ঢাকা থেকে কেমিক্যাল সংগ্রহ করে কুরিয়ারের মাধ্যমে রফিকের কাছে পাঠাতেন ইমরান। জঙ্গি রফিক এসব কেমিক্যাল চাহিদা মোতাবেক চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিতেন।
সোমবার (০৮ মে) দুপুরে কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।
রোববার (০৭ মে) রাতে সাভারের আশুলিয়া এলাকা থেকে মো. ইমরান হোসেন ওরফে এমরান এবং তার সহযোগী মো রফিকুল ইসলাম ওরফে জুনায়েদ নামে জেএমবির দুই সদস্যকে আটক করে র্যাব।
তাদের কাছ থেকে ২ বোতল সালফিউরিক এসিড, ৫ প্যাকেট বিভিন্ন ধরনের স্প্লিন্টার উপযোগী বল এবং বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক তৈরির রাসায়নিক পদার্থসহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, গত ১০ এপ্রিল র্যাব-১৪ এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া অভিযানে জেএমবি’র এক নারী সদস্য গ্রেফতার হয়। ওই নারী জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদে জেএমবি’র বিস্ফোরক সংগ্রহ ও সরবরাহের কিছু তথ্য পাওয়া যায়।
র্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিস্ফোরক সরবরাহকারী জেএমবি’র এই দুই সদস্যকে আটক করা হয়।
তিনি বলেন, জঙ্গি ইমরান ২০১১ সালে জয়দেবপুরের কয়েকটি কেমিক্যাল শিল্প কারখানায় চাকরি করেন। সেখানেই কেমিক্যাল সংগ্রহ ও সরবরাহ করার চেইন সম্পর্কিত বিভিন্ন জ্ঞান অর্জন করে। জেএমবিতে যোগদানের পর সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সংগঠনের জন্য বিস্ফোরক তৈরিতে রাসায়নিক দ্রব্যাদি সংগ্রহ করতেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গি ইমরান ও রফিকের কাছ থেকে কয়েকজন বিস্ফোরক বিক্রেতার তথ্যসহ জেএমবির বিতরণকারীদের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
জঙ্গি ইমরান ২০০১ সালে ফরিদ নামের এক জঙ্গির প্ররোচণায় হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামি বাংলাদেশে (হুজি, বি) যোগদান করেন। সে বছরই ময়মনসিংহ বুড়িরচরে তাকে জঙ্গিবাদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সেখানে শহিদুল্লাহ এবং রুম্মন নামে দুই জঙ্গি শারীরিক ও জঙ্গি মতাদর্শের উপরে প্রশিক্ষণ দিতেন। প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাকে চট্টগ্রামে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
পরে তাকে ময়মনসিংহ জেলা সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ জঙ্গি তারিক ওরফে আব্দুল্লাহ’র কাছে পাঠানো হয়। এরপর ২০১৪ সালে তিনি জেএমবিতে যোগ দেন।
জঙ্গি রফিকুল চট্টগ্রামের একটি মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন। রফিক এবং ইমরান একই সময় জঙ্গি সংগঠন হুজিতে যোগ দেন। ওই সংগঠনে থাকাকালীন তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। রফিক বোমা তৈরিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। জঙ্গি ইমরানের প্ররোচণায় রফিক ২০১৫ সালের শেষের দিকে জেএমবি’তে যোগ দেন।
সংগৃহীত বিস্ফোরক চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ এলাকাতে পাঠাতেন রফিক। এসব বিস্ফোরক বহনের জন্য সংগঠনের নারী সদস্যদের ব্যবহার করা হতো। এ কাজে তার দুই স্ত্রীও সম্পৃক্ত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, রফিকের প্রথম স্ত্রী জয়নাব বিবি আত্মগোপনে রয়েছেন এবং ২য় স্ত্রী তহুরাকে র্যাব গ্রেফতার করেছে। এছাড়া বিস্ফোরক বাহক হিসেবে আরো কয়েকজন নারী জঙ্গি সদস্য সম্পর্কে রফিকুল তথ্য দিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ২১১৮ ঘণ্টা, মে ০৮, ২০১৭
এসজেএ/এমজেএফ