ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৭ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের আহ্বান রওশন এরশাদের

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৪৭ ঘণ্টা, মে ৮, ২০১৭
রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের আহ্বান রওশন এরশাদের

জাতীয় সংসদ থেকে: আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

তিনি বলেন, সৌদিআরব ও মালয়েশিয়াসহ মুসলিম দেশগুলোতে রোজার সময় পণ্যের দাম কমে যায়, আর বাংলাদেশে বেড়ে যায়। ছোলাসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম ইতোমধ্যে বেড়ে গেছে।

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আশাকরি আপনি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন।

সোমবার (০৮ মে) সন্ধ্যায় দশম জাতীয় সংসদের ১৫তম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৩৬তম সম্মেলন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে উল্লেখ করে রওশন এরশাদ বলেন, আইপিইউ ১৩৮ বছরের একটি সংস্থা। এই ধরনের সম্মেলন বাংলাদেশে প্রথম। ১৩২টি দেশের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও এমপিরা সম্মেলনে অংশ নেন। আইপিইউ সভাপতি ও সিপিএ চেয়ারপারসন আমাদের দেশ থেকেই নির্বাচিত হয়েছেন। এটা যদি (আইপিইউ সভাপতি-সিপিএ চেয়ারপারসন) না হতো এবং আইপিইউ সম্মেলন যদি ঢাকায় অনুষ্ঠিত না হতো তাহলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠতো। সম্মেলন ফলপ্রসু হয়েছে। তারপরও কেনো প্রশ্ন উঠছে-এটাই আমার প্রশ্ন।

শিক্ষা ব্যবস্থা, মাদক ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা বিজয় দিবস কবে জানে না, রাষ্ট্রপতির নাম জানে না। আমার মনে হয় শিক্ষা পদ্ধতিটা ঢেলে সাজাতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে হবে। যাতে জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশে কর্মসংস্থান নেই বলে ছেলে-মেয়েরা হতাশ হয়ে যাচ্ছে। কর্মসংস্থানের চেষ্টা করতে হবে। এলাকা ভিত্তিক কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হলে কর্মসংস্থান হবে। আগে বড়-বড় পাটকল ছিল, অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে আছে। সেগুলো চালু করতে হবে।

রওশন এরশাদ বলেন,  দেশে এখন মানুষ ১৭ কোটি। এরমধ্যে ১০ কোটি ৩১ লাখ কর্মক্ষম। ৫ কোটি ৮১ লোকের কাজ আছে। বাকি লোকের কাজ নেই। কর্মসংস্থান না থাকলে মাদক ও নানা অপরাধে জড়িত হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলবো, প্রত্যেক এলাকায় মাদক ছড়িয়ে পড়েছে। কর্মসংস্থান নেই বলে তারা মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি প্রচারণা চালাতে হবে।

মাদক ভয়াবহতায় নিজ বাবা-মাকে খুন করায় অভিযুক্ত ঐশির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যেভাবে জঙ্গি দমন হয়েছে, সেভাবে শক্ত হাতে মাদকবিরোধী অভিযান করতে হবে। ফুটপাতে যারা রাতে শুয়ে থাকে তারা মাদকের ব্যবসা করে। এমন তথ্য পাওয়া যায়। ছোট ছোট বাচ্চা এবং বস্তিতে মাদক ব্যবসা চলে। মাদকে মাদকে সারা বাংলাদেশ শেষ হয়ে যাচ্ছে।

দেশের বাইরে শ্রমিক পাঠানোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কয়েক বছর ধরে রেমিটেন্স বেশি আসছিল বলে বিশ্বমন্দায় স্পর্শ করতে পারেনি। এখন তা কমে গেছে। বেশি বেশি দক্ষ কর্মী পাঠালে রেমিটেন্স বাড়বে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সারা পৃথিবীতে পড়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও এসেছে। জলোচ্ছ্বাস হচ্ছে। ভবিষ্যতেও হয়তো আসবে। তাই ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য আমাদের যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

বক্তব্যের শুরুতেই রওশন এরশাদ নিজের অসুস্থতার কথা সংসদকে জানিয়ে বলেন, সংসদের গুরুত্ব বিবেচনা করে তিনি সিএমইচ থেকে সংসদে এসেছেন।

বাংলাদেশ সময়: ০১৪৩ ঘণ্টা, মে ০৮, ২০১৭
এসএম/এমএমএস/এনটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।